বুদ্ধি হওয়ার পর থেকেই আমার ডান হাতটি সোজা করতে পারি না। পারি না ভারী কোনো কাজ করতে। জীবনযুদ্ধে যখন সবাই দুই হাতে কাজ করছে, তখন আমি বাবা-মায়ের বোঝা হয়ে রয়েছি। কিন্তু কারো বোঝা না হতে এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর পড়ালেখা করি কৃষি ডিপ্লোমাতে। স্বপ্ন দেখি বাবার মতো কৃষি অফিসার হবো। সাহস পাই, যখন ভাবি সরকার আমাদের মতো মানুষের জন্য আলাদা কোটা রেখেছে। ২৩.০১.২০১৮ ইং তারিখ ১২.০১.০০০০.৩৮.১১.০০৪.২০১৭.৮২৬ স্মারক নং মোতাবেক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ২৫-১-২০১৮ তারিখে জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি দেখে ‘উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা’ পদে আবেদন করি। দুটি পরীক্ষায় উর্ত্তীণ হয়ে ৮.০১.২০ তারিখে ভাইভা বোর্ড-১-এ পরীক্ষা দিলে উপস্থিত পরীক্ষকগণ আমি প্রতিবন্ধী নয় বলে বিবেচনা করেন। অথচ আমার প্রতিবন্ধী সার্টিফিকেট রয়েছে। উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা নিয়োগ পরীক্ষায় উর্ত্তীণ হয়েও চাকরি না হওয়ায় আমি হতাশ। এখন আমার জীবনের দায়ভার কার? আমি বোঝা হয়ে থাকতে চাই না। আমি প্রতিবন্ধী জীবন থেকে মুক্তি চাই। তাই প্রতিবন্ধী কোটার যথাযথ বাস্তবায়নে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
অনিক কুমার পাল
ঈশ্বরদী, পাবনা