ইত্তেফাক রিপোর্ট
আগামী ২৪ থেকে ৩১ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ১৩তম আন্তর্জাতিক শিশু চলচ্চিত্র উত্সব। ‘ফ্রেমে ফ্রেমে আগামীর স্বপ্ন’ প্রতিপাদ্যে ২৪ জানুয়ারি বিকেলে কেন্দ্রীয় পাবলিক লাইব্রেরি চত্বরে এই আয়োজনের উদ্বোধন হবে। উত্সবের উদ্বোধন করবেন বিশিষ্ট শিল্পানুরাগী এবং সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। বিশেষ অতিথি থাকবেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন উত্সব উপদেষ্টা পরিষদের চেয়ারম্যান মুস্তাফা মনোয়ার।
গতকাল আলিয়াঁস ফ্রঁসেজ সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। চিলড্রেনস ফিল্ম সোসাইটির সভাপতি মুহম্মদ জাফর ইকবালের সভাপতিত্বে এ সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন সাধারণ সম্পাদক মুনিরা মোরশেদ মুন্নী, উত্সব উপদেষ্টা মোরশেদুল ইসলাম ও ইয়াসমিন হক। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন উত্সব পরিচালক ফারিহা যাহিন বিভা। উত্সব সম্পর্কে মুহম্মদ জাফর ইকবাল বলেন, এই উত্সবটি শিশুদের জন্য বাংলাদেশের সব থেকে বড়ো উত্সব তো বটেই, বিশ্বের অন্যতম বৃহত্ একটি চলচ্চিত্র উত্সব। শিশুরা এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে নানা স্বাদের চলচ্চিত্র দেখার দুর্লভ সুযোগটি কাজে লাগাবে এমনই প্রত্যাশা।
এসময় জানানো হয়, ঢাকায় মূল উত্সব কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহূত হবে কেন্দ্রীয় পাবলিক লাইব্রেরির শওকত ওসমান স্মৃতি মিলনায়তন। এছাড়াও জাতীয় জাদুঘরের সুফিয়া কামাল মিলনায়তন, শিল্পকলা একাডেমির চিত্রশালা, আলিয়াঁস ফ্রঁসেজ সেন্টার এবং গ্যেটে ইনস্টিটিউটে চলচ্চিত্র প্রদর্শন ও আলোচনা করা হবে। প্রতিদিন সকাল ১১টা, দুপুর ২টা, বিকাল ৪টা ও সন্ধ্যা ৬টা হিসাবে মোট চারটি প্রদর্শনী হবে। এবারের উত্সবে ৩৯টি দেশের ১৭৯টি শিশুতোষ চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হবে, যা অভিভাবক, শিশু-কিশোরসহ সকলের জন্য উন্মুক্ত।
এবারের আয়োজনে মোট চারটি কর্মশালা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে সিনেমাটোগ্রাফির ওপর নিহাল কুরাইশি, ডিরেকশনের ওপর পিপলু আর খান, ‘সাউন্ড ইন ফিল্ম’ এর ওপর নাহিদ মাসুদ এবং ‘স্টোরি টেলিং’ এর ওপর কর্মশালায় অংশ নিবেন অমিতাভ রেজা। এছাড়াও মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে অন্তরঙ্গ আড্ডায় উপস্থিত থাকবেন মুক্তিযোদ্ধা ও রণাঙ্গনের আলোকচিত্রী হারুন হাবীব ও প্রথম বাংলাদেশি নারী ফিফা রেফারি জয়া চাকমা।
এবারে উত্সবের অন্যতম আকর্ষণীয় বিভাগ হিসেবে থাকছে বাংলাদেশি শিশুদের নির্মিত প্রতিযোগিতা বিভাগ। এই বিভাগে এবার ৪৮টি চলচ্চিত্র জমা পড়েছিল, এর মধ্যে নির্বাচিত ১৮টি চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হবে এবং পাঁচটি চলচ্চিত্র মনোনয়ন পাবে পুরস্কারের জন্য। এছাড়াও ‘ইয়ং বাংলাদেশি ট্যালেন্ট’, মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে ‘প্রজন্মের চোখে বঙ্গবন্ধু’ ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা বিভাগ ছাড়াও বিভিন্ন দেশের শিশুদের বানানো চলচ্চিত্র নিয়ে থাকছে প্রতিযোগিতা। উত্সবের সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান ৩১ জানুয়ারি সকাল ১১টায় কেন্দ্রীয় পাবলিক লাইব্রেরির শওকত ওসমান মিলনায়তনে এসব পুরস্কারপ্রাপ্তদের নাম ঘোষণা ও পুরস্কার প্রদান করা হবে।