‘জাতীয় চার নেতার অন্যতম শহীদ ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলীর বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনাদর্শ বর্তমান ও ভবিষ্যত্ প্রজন্মের জন্য অনুসরণযোগ্য। তিনি ছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিশ্বস্ত সহচর। বঙ্গবন্ধু হত্যার পর খুনি মোশতাক তাকে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু মনসুর আলী সেই প্রস্তাব ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেন। বঙ্গবন্ধুর হত্যার পর আপসহীন অকুতোভয় এ সংগ্রামী সৈনিক অকাতরে জীবন উত্সর্গ করে নীতি ও নৈতিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন। আওয়ামী লীগে মনসুর আলীর মতো নেতা বড়োই প্রয়োজন।’
গতকাল সোমবার দুপুরে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে শহীদ ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলীর ১০৩তম জন্মবার্ষিকীর আলোচনা সভায় জাতীয় নেতৃবৃন্দ এসব কথা বলেন। শহীদ এম মনসুর আলী স্মৃতি সংসদ এই আলোচনা সভার আয়োজন করে। প্রধান অতিথির বক্তব্যে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত বলেন, স্বাধীনতার পর খাদ্যের অভাবে কেউ মারা না যাওয়ার কৃতিত্বের দাবিদার এম মনসুর আলী। কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করায় এটা সম্ভব হয়েছিল।
আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী আমির হোসেন আমু বলেন, বঙ্গবন্ধুর অত্যন্ত আস্থাভাজন ছিলেন জাতীয় চার নেতা। বঙ্গবন্ধু যখনই কোনো আস্থার জায়গা খুঁজতেন, তখনই তাদের ওপর নির্ভর করতেন। আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, ছাত্রজীবন থেকে আমি মনসুর আলীসহ জাতীয় চার নেতাকে নিবিড়ভাবে দেখেছি। তাদের রাজনৈতিক শিক্ষায় সমৃদ্ধ হয়েছি। জাতীয় চার নেতা জীবন দিয়েছেন, কিন্তু বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে বেইমানি করেননি।
শহীদ এম মনসুর আলীর সন্তান ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোহাম্মদ নাসিম এমপি বলেন, পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট হত্যাকাণ্ডের পর আমার বাবা এম মনসুর আলীকে খোন্দকার মোশতাক প্রধানমন্ত্রী হওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। ঘৃণাভরে সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে এম মনসুর আলী বলেছিলেন, ‘আমি প্রধানমন্ত্রী হতে চাই না। জীবন দেব, তবুও তোমার মতো বেইমানের সঙ্গে হাত মেলাব না।’ কেন্দ্রীয় ১৪ দলের সমন্বয়ক বলেন, আমি গর্ববোধ করি এই জন্য যে, আমি খুনি মোশতাকের মতো বেইমানের সন্তান নই। জাতীয় এ নেতাকে অনুসরণ করে এগিয়ে যাওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করে সভাপতির বক্তৃতায় মোহাম্মদ নাসিম আরো বলেন, মুজিববর্ষে ঢাকাকে একাত্তর-পঁচাত্তরের খুনিদের আশ্রয়দাতাদের দখলে দেওয়া যাবে না।
আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী বলেন, বিরল গুণের অধিকারী শহীদ এম মনসুর আলী ধমক দিয়ে উচ্চকণ্ঠে কখনো কারো সঙ্গে কথা বলতেন না। তার আদর্শ অনুসরণযোগ্য। সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার এম আমীর-উল ইসলাম বলেন, বঙ্গবন্ধুর অবর্তমানে সঠিকভাবে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন জাতীয় চার নেতা। বঙ্গবন্ধুর খুবই আস্থাভাজন ছিলেন তারা।
ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেন, বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বের প্রতি অবিচল আস্থা রেখে তার অনুপস্থিতিতে সঠিকভাবে নেতৃত্ব দিয়ে স্বাধীনতার পথ এগিয়ে নিয়ে যান জাতীয় চার নেতা। জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু বলেন, বিএনপি জাতীয় বেইমানের দল। রাজনৈতিকভাবে তাদের সঙ্গে সব সম্পর্ক ছিন্ন করতে হবে। আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন বলেন, আওয়ামী লীগে মনসুর আলীর মতো মানুষ বড়োই প্রয়োজন।
খাদ্য মন্ত্রণালয়সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ নাসিমের সভাপতিত্বে এই স্মরণসভায় আরো বক্তব্য রাখেন সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য মোজাফফর হোসেন পল্টু, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম প্রমুখ।