বইমেলায় খণ্ডকালীন চাকরির সুযোগ

বইমেলা চলাকালীন প্রকাশনা সংস্থার স্টলে বিভিন্ন পদে খণ্ডকালীন কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়ে থাকে। এর মধ্যে বিক্রয়কর্মীর সংখ্যাই বেশি থাকে। এর পাশাপাশি ক্যাশ কাউন্টারের জন্যও কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়ে থাকে। অনেক প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান আবার প্রকাশিত বইয়ের প্রচারের জন্যও মেলায় কর্মী নিয়োগ করে থাকে। ইতোমধ্যেই কর্মী নিয়োগের তোড়জোড় শুরু হয়ে গেছে বলে জানালেন কয়েকজন প্রকাশক। যেহেতু বই মেলার আর খুব বেশি দেরি নেই, তাই আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই কর্মী নিয়োগের কাজ সম্পন্ন করা হবে বলে জানালেন তারা।

মূলত বিভিন্ন স্টলে আগত ক্রেতা দর্শনার্থীদের কাছে বই প্রদর্শন করার পাশাপাশি বই সম্পর্কে ক্রেতাদের কাছে বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরতে হয় কর্মীদের। এক্ষেত্রে বই এবং লেখক সম্পর্কেও বেশ ভালো ধারণা থাকা আবশ্যক। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায় কোন কোন ক্রেতা কিংবা দর্শনার্থী বিভিন্ন বই সম্পর্কে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে বিভিন্ন তথ্য জানতে চান। এক্ষেত্রে বিরক্ত না হয়ে হাসিমুখে সেসব প্রশ্নের উত্তর দেওয়া আবশ্যক। এ ছাড়া বিক্রয়ের হিসাব রাখা, বিক্রয় রশিদ তৈরি প্রভৃতি কাজের জন্যও কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়। সাধারণত প্রতিদিন বিকাল ৩টা থেকে শুরু করে রাত ৮টা পর্যন্ত বই মেলা চলে। তবে ছুটির দিনগুলোতে বইমেলা শুরু হয় সকাল ১১টা থেকে। আর এ দিনগুলোতে ক্রেতা দর্শনার্থীদের সমাগম থাকে অন্যান্য দিনের তুলনায় অনেক বেশি। আর তাই কাজের চাপও থাকে বেশি।

 

যে পদে কাজের সুযোগ

বইমেলা উপলক্ষে প্রায় প্রতিটি বইয়ের দোকানে তাদের নিয়মিত কর্মীর পাশাপাশি খণ্ডকালীন লোক নিয়োগ দেওয়া হয়ে থাকে। কয়েক জন প্রকাশক জানান, সবচেয়ে বেশি নিয়োগ দেওয়া হয়ে থাকে বিক্রয়কর্মী পদে। এ ছাডা যাঁদের পূর্বাভিজ্ঞতা রয়েছে, তাঁদের মধ্য থেকে ক্যাশিয়ার, জনসংযোগ কর্মকর্তা ইত্যাদি পদে নিয়োগ দেওয়া হয়ে থাকে।

 

কাজের ধরন

বইমেলায় কাজের ধরন অন্যান্য যেকোনো ক্ষেত্রের চেয়ে একটু ব্যতিক্রম। প্রতিদিন বইমেলা শুরু হয় বেলা ৩টা থেকে, চলে রাত ৮টা পর্যন্ত। তবে ছুটির দিনগুলোয় মেলা শুরু হয় বেলা ১১টা থেকে, চলে রাত ৮টা পর্যন্ত। মেলা চলাকালে পুরো সময়েই স্টলে থাকতে হয়। দোকানের বইগুলো ক্রেতার কাছে সুন্দরভাবে প্রদর্শন করতে হয়। সেই সঙ্গে পাঠক-ক্রেতাদের চাহিদা ও পছন্দের দিকে রাখতে হয় বাডতি খেয়াল। সংশ্লিষ্ট প্রকাশনা সংস্থার বই, লেখক ও পাঠকদের সম্পর্কে বাডতি জ্ঞান রাখতে হয়।

যোগ্যতা

বশ কয়েক জন প্রকাশক আরও জানান, বইমেলায় খণ্ডকালীন ভিত্তিতে কাজের জন্য যাঁদের নিয়োগ দেওয়া হয়, তাঁদের কমপক্ষে এইচএসসি পাস হতে হয়। সে ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকেই বেশির ভাগ লোকবল নিয়োগ দেওয়া হয়ে থাকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বর্ষে পড়ুয়া শিক্ষার্থী ছাড়াও বিভিন্ন বয়সী লোকজন নিয়োগ দেওয়া হয়ে থাকে। এ ক্ষেত্রে কাজের পূর্বাভিজ্ঞতা ও বইপত্র সম্বন্ধে ভালো ধারণা থাকলে কাজ পাওয়া সহজ হয়।

 

বাড়তি দক্ষতা

বইমেলায় খণ্ডকালীন কাজের ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার পাশাপাশি প্রয়োজন হয় আরও কিছু বাড়তি দক্ষতা। এ ব্যাপারে একজন বই প্রকাশক জানান, স্মার্ট, শুদ্ধ বাচনভঙ্গি, মার্জিত পোশাক-পরিচ্ছদ ও ধৈর্যশীল প্রার্থীরা বইমেলায় খণ্ডকালীন কাজের ক্ষেত্রে অন্যদের তুলনায় এগিয়ে থাকেন।

 

আবেদনের প্রক্রিয়া

বইমেলা উপলক্ষে প্রতিটি স্টলেই নিয়মিত কর্মীর পাশাপাশি খণ্ডকালীন ভিত্তিতে প্রচুর লোকবল নিয়োগ দেওয়া হয়ে থাকে। এ ব্যাপারে পাঠক সমাবেশের সাহিদুল ইসলাম জানান, মেলায় খণ্ডকালীন কাজের জন্য লোক নিয়োগ দেওয়ার ক্ষেত্রে এমনিতে পত্রপত্রিকায় তেমন একটা বিজ্ঞাপন দেওয়া হয় না, তবে বিভিন্ন প্রকাশনীর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখলে প্রয়োজনমাফিক সেখান থেকে আগ্রহী প্রার্থীদের মৌখিক পরীক্ষার ভিত্তিতে চূড়ান্ত নিয়োগ দেওয়া হয়ে থাকে।

 

আয়-রোজগার

খণ্ডকালীন ভিত্তিতে মেলায় কাজ করে আয়ের ব্যাপারে গত বছর মেলায় কাজ করা মো. সুমন আরাফাত জানান, বইমেলায় খণ্ডকালীন ভিত্তিতে কাজ করে অনায়াসেই এক মাসে পাঁচ থেকে আট হাজার টাকা আয় করা সম্ভব। বইমেলায় খণ্ডকালীন কাজের ফলে শুধু অর্থনৈতিকভাবেই নয়, আরও নানাভাবে একজন প্রার্থী উপকৃত হয়ে থাকেন।
সাহিদুল ইসলাম জানান, সারা বছরই দেশের বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড়ো বইমেলা হয়ে থাকে। বইমেলায় যাঁরা ভালো কাজ দেখাতে পারেন, তাঁরা সেখানে কাজ করার পাশাপাশি প্রকাশনী অফিস ও বিভিন্ন আউটলেটে স্থায়ী কাজের সুযোগ পেয়ে থাকেন। এ ছাড়া সামনের দিনগুলোয় বইমেলায় কাজের ক্ষেত্রে তাঁরাই অগ্রাধিকার পেয়ে থাকেন।