তরুণ প্রজন্মের কাছে স্বাধীন পেশা হিসেবে বেশ জনপ্রিয় আউটসোর্সিং। আউটসোর্সিংয়ের বিশাল সমুদ্রে ইমেজ ইডিটিং বা ছবি সম্পাদনা ছোট একটি দ্বীপ মাত্র। তবে আউট সোর্সিংয়ের অন্যান্য ক্ষেত্র থেকে ইমেজ ইডিটিং তুলনামূলকভাবে সহজ হওয়ায় তরুণদের মাঝে দিন দিন এর প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি পাচ্ছে। আর এই সম্ভবনাকে মাথায় রেখেই ২০১৫ সালে যাত্রা শুরু করে বিজেডএম গ্রাফিক্স। শুরুটা প্রথমে তিন জনকে নিয়ে হলেও বর্তমানে ২১৮ জন দক্ষ ইমেজ এডিটর নিয়ে তাদের এ প্রতিষ্ঠান।
বিজেডএম গ্রাফিক্স নিয়ে কথা বলার সময় প্রতিষ্ঠানটির সিইও আইনুল বাশার সৌরভ বলেন, ‘প্রায় ২০০ জন সহকর্মী নিয়ে বিজেডএম গ্রাফিক্স বর্তমানে ডেনমার্কের একটি প্রযুক্তি কোম্পানি পিক্সএলের সাথে চুক্তিবদ্ধ। আমরা পিক্সএলের কন্টেন্ট তৈরির দিকটি দেখি। এছাড়াও আমাদের একটি সহপ্রতিষ্ঠান বিজেডএম একাডেমিও রয়েছে। যেখানে আমরা আমাদের কর্মীদের ট্রেনিং দিয়ে থাকি।’
তিনি আরো জানান, বিশ্বব্যাপী ই-কমার্স বেশ জনপ্রিয় একটি খাত। এখানে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কাজ করতে হয় অনেক জনবলের। এগুলোর মধ্যে বেশ গুরুত্বপূর্ণ হলো গ্রাফিক সাপোর্ট দেওয়ার মতো লোকবল। অনেক ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের সম্ভব হয় না নিয়মিত লোকবলের মাধ্যমে এ চাহিদা পূরণ করা। বিজেডএম গ্রাফিক্স সে ধরনের চাহিদা পূরণে কাজ করে থাকে।
প্রতিষ্ঠানটি মধ্যপ্রাচ্য, আমেরিকাসহ বেশ অনেকগুলো দেশের ইকমার্স সাইটগুলোতে গ্রাফিক সংক্রান্ত সাপোর্ট দিয়ে আসছে।
বাংলাদেশের ই-কমার্স খাতও বিশ্বের অন্য দেশগুলোর মতোই জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। প্রতিনিয়ত এ খাতের মাধ্যমে মানুষ কেনাকাটায় অভ্যস্ত হচ্ছে। অন্য দেশগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগীতা করতে গেলে সাইটের গুণগত মান ও গ্রাফিক কোয়ালিটিও উন্নত হওয়া জরুরি।
ফটো এডিটিংয়ের গুরুত্বের বিষয়ে সৌরভ বলেন, ‘গ্রাফিক্স ডিজাইন আউটসোর্সিংয়ের বড়ো একটি খাত। বর্তমানে ই-কমার্সগুলো দাঁড়িয়ে আছে ভিজ্যুয়ালের উপরে। তাদের প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রয়োজন যুত সম্মত ছবি সে হিসেবে এ খাতে আমাদের প্রচুর সম্ভবনা রয়েছে। তবে বাংলাদেশে দক্ষ লোকবলের অভাবে ফিলিপাইন, ভিয়েতনাম ও ইন্দোনেশিয়া থেকে একটু পিছিয়ে।’
প্রতিষ্ঠানটির চিফ ক্রিয়েটিভ অফিসার আপেল মাহমুদ বলেন, ‘একজন ক্রেতাকে পুনরায় ফেরত আনার বিষয়ে ইমেজ এডিটিং খুবই গুরুত্বপূর্ণ। দিন শেষে একজন ক্রেতা কিন্তু ছবির পণ্যের সাথে বাস্তব পণ্যের মিল দেখে। সে ক্ষেত্রে ইমেজ এডিটিংয়ে একটি বড়ো ভূমিকা পালন করে। আউটসোর্সিংয়ের দুনিয়ায় বাংলাদেশের একটি সুনাম রয়েছে, তা হলো আমরা সব সময়েই কাজের গুণগত মান ধরে রাখতে সক্ষম।
বাংলাদেশের ইমেজ এডিটিংয়ের সম্ভাবনার কথা জানতে চাইলে আপেল মাহমুদ বলেন, ‘আমেরিকা বা ইউরোপের সাথে টাইম জোনের তফাত আমাদের জন্য বিশাল প্লাস পয়েন্ট। এছাড়াও অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে একটি নতুন প্রতিষ্ঠান তৈরি ও উত্পাদন খরচ এখনো অনেক কম। সেজন্য বিদেশি ক্লাইন্টের নজরও কিন্তু বাংলাদেশের উপরে আছে।’
ধীরে ধীরে প্রতিষ্ঠানটি শক্ত অবস্থানে দাঁড়াতে চলেছে। চলতি বছরের মধ্যে এ প্রতিষ্ঠানকে ৭০০ কর্মীর প্রতিষ্ঠান হিসেবে দাঁড় করাতে চান তারা। পরবর্তীতে থ্রিডি ভিজ্যুয়াল সার্চ ও ভিডিও এডিটিং নিয়েও কাজ করবেন বলে জানান তরুণ এই দুই উদ্যোক্তা।