উদ্যোক্তা

পড়াশোনা, ব্যবসা দুই জায়গায়ই সফল

দুজনই পড়াশোনা করেন। পাশাপাশি আয়ও করেন। একজন বরিশালে বসে অনলাইনে ইনডোর প্ল্যান্ট বিক্রি করেন। অন্যজন বিক্রি করেন  গিফট আইটেম। সামান্য পুঁজি নিয়ে শুরু করে দুজনেই এখন বড়ো উদ্যোক্তা হবার পথে। সফল দুই নারী উদ্যোক্তার সফলতার সাতকাহন জানাচ্ছেন— মুহাম্মদ শফিকুর রহমান

g সামিয়া জাহান

কর্ণধার, আইমাস

সামিয়া জাহান ছোটবেলা থেকে রং-বেরঙের কার্ড কিনতেন আর ভাবতেন, ইস্ কার্ডের যদি এমন একটি দোকান থাকত। ছোটোবেলার ভাবনা অনেকটাই আজ সত্যি। তিনি একটি অনলাইন শপের কর্ণধার। বিক্রি করেন কার্ড, অ্যালবাম, গিফট বক্স, স্ক্রাপবুক, ফ্রেম, কাগজের তৈরি যেকোনো গিফট আইটেম। এমবিএ পড়ছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস বিষয়ে। ফেসবুকে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নাম আইমাস। ২০১৬ সালে সামিয়া অনলাইন ব্যবসা  শুরু করেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলছিলেন, চিন্তা করলাম আমার মতো হয়তো অনেক মানুষ আছে যারা এখনো প্রিয় মানুষদের হাতে তৈরি জিনিস দিতে পছন্দ করে।  কিন্তু সহজলভ্যতার অভাবে দিতে পারে না। অবশ্য অনলাইনে আসার আগেই সামিয়ার কাজ ব্যাপক সুখ্যাতি পায়। আশেপাশের সবাই তার কাজের বেশ প্রশংসা করত বলে তিনি জানান। সামিয়ার ব্যবসার প্রধান কাঁচামাল হলো কাগজ। পণ্য তৈরি করার পর অনলাইনে পোস্ট দেওয়া হয়। ক্রেতা পছন্দ করে অর্ডার করতে পারেন। পণ্যের মানের প্রতি সামিয়া অত্যন্ত যত্নবান। তিনি জানান, এমনও প্রোডাক্ট আছে, যেটা তৈরি করতে টানা ১৫-২০ দিনও লাগে। তার পণ্যের মূল্য ১০০ টাকা থেকে শুরু। বিভিন্ন দিবসে মূল্য হ্রাস দেওয়া হয়। প্রথমদিকে অবশ্য সামিয়াকে প্রচুর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়। তিনি বলেন, প্রথমত পেপার ক্রাফটেড গিফট আইটেমগুলোকে সাধারণ মানুষের মধ্যে গ্রহণযোগ্য করে তোলাটাই বিশাল একটি চ্যালেঞ্জ ছিল। কিন্তু ধীরে ধীরে এর পরিচিতি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আমার কাজের গ্রহণযোগ্যতাও বাড়ছে। সামিয়ার পণ্য সম্পর্কে ফেসবুকে একজন লিখেছেন :‘আপু, সময়মতো পার্সেলটি পেয়ে গেলাম। সামনা-সামনি দেখতে আরো অনেক সুন্দর লাগছে মেমোরি বইটা। আমি আপনার সৃষ্টিশীলতায় মুগ্ধ হয়েছি। প্রচুর ভালোবাসা এবং শুভ কামনা আপনার জন্য’।

 

g ইসরাত জাহান সিমা

কর্ণধার, ইনডোর প্ল্যান্ট শপ

ইসরাত জাহান সিমার সবুজ গাছগাছালি খুবই পছন্দ। তার বাসায়ও নানা রকম গাছ থাকত। বাঁশের ঝুড়ি, পটারি, প্ল্যাস্টিকের পাত্রে সুন্দর করে মেয়েটি গাছ সাজিয়ে রাখত। পরিচিতজনেরা দেখে মুগ্ধ হতো। একসময় ভাবলেন, ইনডোর প্ল্যান্টের ব্যবসার কথা। যেমন ভাবনা তেমনি তার কাজ। বরিশালে প্রথম ইনডোর প্ল্যান্ট শপের কর্ণধার। পড়াশোনা করছেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞান বিভাগে। গ্রামের বাড়ি বানারীপাড়ার চাখারে। ২০১৮ সালের শুরুর দিকে তার অনলাইন ব্যবসা শুরু। সিমা প্রথমে গাছ সংগ্রহ করেন। পরে সেটা থেকে চারা করে বিক্রি করেন। আবার অনলাইনে বীজ সংগ্রহ করেন। আর ইনডোর প্ল্যান্টের জন্য পটারি, বাঁশের ঝুড়ি এগুলো বাউফল, ঢাকার দোয়েল চত্বর, পান্থপথ, উজিরপুর থেকে সংগ্রহ করা হয় বলে তিনি জানান। মানিপ্ল্যান্ট, স্নেক প্ল্যান্ট, লাকি বাম্বু, জিজি প্ল্যান্ট, এরিকা পাম, ক্রিসমাস ট্রি, অক্সালিস, রাবার প্ল্যান্ট, হানি স্নেক প্ল্যান্ট, মাদার অব থাউজেন্ড ইত্যাদি গাছ তার শপে রয়েছে। অনলাইনে অর্ডার করে মূল্য পরিশোধ করলেই গাছ কুুরিয়ার করে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। নারী উদ্যোক্তা হিসেবে সমস্যার কথা জানতে চাইলে সিমা বলেন, অনেক সময় দেখা যায় গাছ সংগ্রহের জন্য সবসময় সব জায়গায় যাওয়া সম্ভব হয় না। সবসময় সবার থেকে সহযোগিতাপূর্ণ মনোভাব পাই না। সিমা ঔষধি গাছ রোপণ ও সংরক্ষণ নিয়েও কাজ করেছেন।