>> মুহাম্মদ শফিকুর রহমান
ছোটবেলা থেকেই মেয়েটি গাছ লাগাতে পছন্দ করত। সবুজ গাছগাছালি তাকে খুব টানে। তার গৃহও নানা রকম গাছে সাজানো। বাঁশের ঝুড়ি, পটারি, প্লাস্টিকের পাত্রে সুন্দর করে মেয়েটি গাছ সাজিয়ে রাখত। পরিচিতজনেরা দেখে মুগ্ধ হতো। প্রশংসা করত। একসময় ভাবলেন, ইনডোর প্ল্যান্টের ব্যবসা করবেন। যেমন ভাবনা তেমন কাজ। বরিশালে প্রথম ইনডোর প্ল্যান্ট শপটির কর্ণধার তিনি। এই উদ্যমী তরুণের নাম ইসরাত জাহান সিমা। পড়াশোনা করছেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজ বিজ্ঞান বিভাগে । গ্রামের বাড়ি বানারীপাড়ার চাখারে। ২০১৮ সালের শুরুর দিকে তিনি অনলাইন ব্যবসা শুরু করেন। এর আগে টুকটাক অফলাইনে বিক্রি করতেন। সিমা প্রথমে গাছ সংগ্রহ করেন। পরে তা থেকে চারা তৈরি করে বিক্রি করেন। আবার অনলাইনে বীজও সংগ্রহ করেন। আর ইনডোর প্ল্যান্টের জন্য পটারি, বাঁশের ঝুড়ি এগুলো বাউফল, ঢাকার দোয়েল চত্বর, পান্থপথ, উজিরপুর থেকে সংগ্রহ করা হয় বলে তিনি জানান। মানিপ্ল্যান্ট, স্নেক প্ল্যান্ট, লাকি বাম্বু্বু, জিজি প্ল্যান্ট, এরিকা পাম, ক্রিসমাস ট্রি, অক্সালিস, রাবার প্ল্যান্ট, হানি স্নেকপ্ল্যান্ট, মাদার অব থাউজেন্ড ইত্যাদি গাছ তার শপে রয়েছে। অনলাইনে অর্ডার করে মূল্য বিকাশ করতে হয়। পরে কুরিয়ার করে দেওয়া হয়। তবে কাছাকাছি হলে ক্যাশ অন ডেলিভেরি দেওয়ার সিস্টেম আছে বলে সিমা জানান। আবার নির্দিষ্ট জায়গা থেকেও গাছ সংগ্রহ করার উপায় আছে। ব্যবসায় তাকে তার মা সাহায্যও করেন। বরিশালে প্রথম ইনডোর প্ল্যান্ট শপ থেকে শুরু করেন সিমা। তার দেখাদেখি আরো অনেকে শুরু করেছে বলে জানা যায়। নারী উদ্যোক্তা হিসেবে সমস্যার কথা জানতে চাইলে সিমা বলেন, ‘অনেক সময় দেখা যায়, গাছ সংগ্রহের জন্য সব সময় সব জায়গায় যাওয়া সম্ভব হয় না। এছাড়া একাধিক পার্সেল কুরিয়ার করতে গিয়ে বাসায় ফিরতে রাত হয়ে যায়। সব সময় সবার থেকে সহযোগিতাপূর্ণ মনোভাব পাই না। শহরের বাইরে, যেমন :যশোর-ঢাকা এসব জায়গায় একা যেতে না পারায় গাছ সংগ্রহ করা সম্ভব হয় না।’ পরিবেশ সুরক্ষায়ও সিমা নিঃস্বার্থভাবে কাজ করেন। শহরের ববি প্রাঙ্গণে দামে সস্তা কিন্তু বড়ো হয়ে বেশ ছায়া দেবে এমন কিছু গাছ লাগিয়েছেন তিনি। ঔষধি গাছ রোপণ ও সংরক্ষণ নিয়েও কাজ করেছেন । সিমার কাজে উত্সাহ, অনুপ্রেরণার উত্স তার মা-বাবা। মা যেমন প্রত্যক্ষভাবে তাকে সাহায্য করেন। তেমনি বাবার উক্তি, ‘কাজ সেটাই শ্রেষ্ঠ, যেটা তোমাকে আনন্দ আর উত্সাহ দুটোই দেয়।’ তার মা-বাবা কখনো কাজে বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি বলে সিমা জানান। তিনি মনে করেন, প্রত্যেক শিক্ষার্থীরই উচিত পড়াশোনার পাশাপাশি নতুন কিছু একটা করা। কারণ ই-কমার্সে অমিত সম্ভাবনা বিদ্যমান। ব্যবসায় লাভের অংশ থেকে সিমা কিছুটা পুনর্বিনিয়োগ করেন। নিজের পারিবারিক খরচও মেটান। আবার সমাজের পিছিয়ে পড়া গরিব, অসহায়, দুস্থদের কল্যাণে ব্যয় করেন। গরিব, অসহায় মানুষদের জন্য সিমার খুব মায়া। তাদের জন্য কিছু করতে পারলে তার ভালো লাগে বলে জানান। ইনডোর ব্যবসার পাশাপাশি ‘কপালকুণ্ডলা’ নামে একটি অনলাইন প্রতিষ্ঠান আছে সিমার। এখানে হ্যান্ডমেড গয়না, হ্যান্ডমেড ব্যাগ, দেশীয় শাড়িসহ আরো অনেক সাজসজ্জার প্রোডাক্ট বিক্রি করা হয়। হ্যান্ডমেড গয়নার কনসেপ্ট বরিশালে প্রথম কপালকুণ্ডলাই নিয়ে আসে বলে সিমা দাবি করেন। কপালকুণ্ডলার পরে এখন এই ক্রাফটিংয়ের পঞ্চাশটির বেশি পেইজ আছে বলে জানা যায়। সহজ শর্তে লোন দেওয়া হলে ক্ষুদ্র উদ্যেক্তারা আরো ভালো করতে পারবে। এমনটাই সিমা মনে করেন। ২০২০ সালে ব্যবসা নিয়ে আরো নতুন কিছু করার পরিকল্পনা আছে তার।