>> মুহম্মদ কবীর
‘ঘাসফুল’টি ফুটেছে ব্রহ্মপুত্র নদীর তীরে। আর সবার অলক্ষ্যে শিক্ষার সৌরভ ছড়িয়ে দিচ্ছে দরিদ্র, এতিম ও শ্রমজীবী শিশুদের মাঝে। এই অসহায় শিশুরাও যেন শিক্ষার আলোয় আলোকিত হয়ে দেশের উন্নয়নে অংশ নিতে পারে, এমন উদ্দেশ্য নিয়ে এগিয়ে চলছে ময়মনসিংহের ঘাসফুল শিশু নিকেতন স্কুলটি। ব্রহ্মপুত্র নদের চর কালীবাড়ি এলাকায় অবস্থিত ঘাসফুল শিশু নিকেতনের প্রতিষ্ঠাতা অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট মো. আখতারুজ্জামান পায়েল। বর্তমানে তিনি হিউম্যানিটাস সোশ্যাল সার্ভিস সেন্টারের কার্যনির্বাহী পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন। এ সংগঠনের প্রেসিডেন্টের দায়িত্বে রয়েছেন অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ও লেখক বন্দনা কবীর। আর ঘাসফুল শিশু নিকেতনের সার্বিক পরিচালনার দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছেন রিজিয়া আফরিন রিনি। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষাদানের উদ্দেশ্যে ২০১৪ সালে স্কুলটি যাত্রা শুরু করে। সে পথচলা প্রাক-প্রাথমিক দিয়ে শুরু হলেও সাফল্য ও অনুপ্রেরণায় এর পরিসর ক্রমে বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে এখানে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনার সুযোগ রয়েছে। আর স্কুলটি দেড় শতাধিক শিক্ষার্থীর পদচারণায় মুখরিত হয় প্রতিদিন। গতবছর প্রথমবারের মতো স্কুলটির শিক্ষার্থীরা প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। আনন্দের ব্যাপার হলো, ২২ পরীক্ষার্থীর সবাই ভালোভাবে পাস করেছে। এদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৪ জন। এমন একটি মহতী উদ্যোগের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে শিক্ষানুরাগী অনেক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান। ফেসবুক বন্ধু ‘এবং’, তুসুকা গ্রুপ, নভোএয়ার ও পলিমার সলিউশন লিমিটেডের সহায়তায় পরিচালিত হচ্ছে স্কুলটি। এখানে বিনা টিউশন ফিতে চলে পাঠদান। বইসহ সব ধরনের শিক্ষা উপকরণ ও স্কুল পোশাক দেওয়া হয় শিক্ষার্থীদের। এছাড়া ঈদেও স্কুল থেকে দেওয়া হয় নতুন পোশাক ও ঈদ-সামগ্রী। চিকিত্সাসেবাও দেওয়া হয় সাধ্যমতো। প্রায় অর্ধ শতাধিক স্বেচ্ছাসেবী সম্পৃক্ত আছেন এ উদ্যোগের সঙ্গে। আর শিশুদের শিক্ষাদানের দায়িত্বে আছেন ৯ জন শিক্ষক। স্কুলটির প্রতিষ্ঠাতা মো. আখতারুজ্জামান পায়েল বলেন, ‘মূলত এই সুবিধাবঞ্চিত শিশুরাই আমাকে দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখার সুযোগ করে দিয়েছে। শিক্ষা শিশুদের জন্য কোনো সুযোগ নয়, শিক্ষা তাদের মৌলিক অধিকার। তাদের এই অধিকার আদায়ে দেশের সব মানুষের এগিয়ে আসা উচিত। আর দায়িত্ববোধ থেকেই এই স্কুলের যাত্রা শুরু। দরিদ্র, এতিম ও শ্রমজীবী শিশুরা ঘাসফুলের মতো। সমাজের বাগানে সাধারণত তাদের ঠাঁই হয় না। নানা প্রতিকূলতার শিকার হয়ে তারা শিক্ষাবঞ্চিত হয়। আর এ বঞ্চনার সমাপ্তি টানতে ঘাসফুল শিশু নিকেতন কাজ করে যাচ্ছে।’
বর্তমান প্রজন্মের এ ধরনের উদ্যোগগুলোই এ দেশকে একদিন উন্নয়নের শিখরে পৌঁছে দেবে, এমনটাই আশা করে এ দেশের সব মানুষ।