লেখালেখিতেই নওশাদের স্বস্তি

>> জাহিদ হাসান দিপু

 

কবিতা কিংবা কথাসাহিত্য রচনায় সুনাম অর্জন করলেও পেশায় তিনি একজন সংবাদকর্মী। বলছিলাম নতুন প্রজন্মের অন্যতম জনপ্রিয় লেখক নওশাদ জামিলের কথা। প্রায় এক দশক ধরে সাংবাদিকতায় যুক্ত নওশাদ নিজের লেখনীর গুণে পেয়েছেন কালি ও কলম তরুণ কবি ও লেখক পুরস্কার, বিশাল বাংলা সাহিত্য পুরস্কার এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে পান আদম সম্মাননা পুরস্কার। পাশাপাশি অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার জন্য তিনি অর্জন করেছেন ইউনেস্কো-বাংলাদেশ জার্নালিজম অ্যাওয়ার্ড, মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী স্মৃতি পুরস্কার।

১৯৮৩ সালের ১ মে ময়মনসিংহের ভালুকায় নওশাদ জামিলের জন্ম। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পড়াশোনা সেখানেই। তারপর ভর্তি হন ঢাকা স্টেট কলেজে। উচ্চমাধ্যমিকের পর পড়াশোনা করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে সরকার ও রাজনীতি বিভাগে। সেখান থেকেই স্নাতক ও স্নাতকোত্তর। ছোটবেলা থেকেই পাঠ্যবইয়ের বাইরে সাহিত্যের বই পছন্দ ছিল নওশাদ জামিলের। গোগ্রাসে পড়তেন তিন গোয়েন্দা, রহস্য উপন্যাস, ছড়া-কবিতা। সাহিত্যের বই পড়তে পড়তেই লেখালেখির ভাবনাটা প্রথম মাথায় ঢোকে তার। তারপর ধীরে ধীরে লেখালেখিকেই করে তোলেন জীবনের প্রধান অবলম্বন। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের পাট চুকিয়ে, কর্মক্ষেত্রে দাপাদাপি করে স্বার্থক ও কার্যকর উপলব্ধি হয়েছে যে, লেখালেখি ছাড়া অন্য কিছু আমার জন্য অস্বস্তিকর, অস্বাস্থ্যকর। এজন্য ভালো থাকার জন্য, বেঁচে থাকার জন্যই সাহিত্য চর্চা করি।’

একজন সাহিত্যের প্রধান কাজ কী, জানতে চাইলে মেধাবী এই লেখক বলেন, ‘মানুষকে স্বপ্ন দেখানোই একজন প্রকৃত সাহিত্যিকের কাজ। চারদিকে যখন হতাশা, অস্থিরতা, অন্যায়-অবিচার, তখন শিল্প-সাহিত্য মানুষকে স্বপ্ন দেখায়। এ স্বপ্ন বেঁচে থাকার, লড়াইয়ের। এ স্বপ্ন সুন্দরের পক্ষে, অসুন্দরের বিপক্ষে।’

বিভিন্ন সময় দেশের প্রায় সবগুলো গুরুত্বপূর্ণ পত্রিকা, সাহিত্য সাময়িকী, লিটল ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়েছে নওশাদ জামিলের কবিতা, গল্প, প্রবন্ধ-নিবন্ধসহ নানাধর্মী রচনা। পাশাপাশি বিশ্বের বেশ কিছু দেশের আন্তর্জাতিক সাহিত্য পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে তার লেখা। তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘তীর্থতল’ প্রকাশিত হয় ২০১১ সালের অমর একুশের গ্রন্থমেলায় ঐতিহ্য প্রকাশনী থেকে। একই প্রকাশনী থেকে ২০১৪ সালে বের হয় দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ ‘কফিনে কাঠগোলাপ’। এরপর ২০১৬ সালের গ্রন্থমেলায় তৃতীয় কাব্যগ্রন্থ ‘ঢেউয়ের ভেতর দাবানল’ প্রকাশিত হয়। ২০১৭ সালের গ্রন্থমেলায় ভ্রমণগ্রন্থ ‘লঙ্কাপুরীর দিনরাত্রি’ প্রকাশ করে পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স।

নিজের বই প্রকাশের পাশাপাশি তিনি সম্পাদনা করেছেন ‘কহন কথা :সেলিম আল দীনের নির্বাচিত সাক্ষাত্কার’ (যৌথ) ও ‘রুদ্র তোমার দারুণ দীপ্তি’ (যৌথ) শিরোনামের দুটি বই ও পত্রিকা। এ পর্যন্ত তার তিনটি কবিতার বই ও একটি ভ্রমণগ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়া সম্পাদিত বই রয়েছে দুইটি। ২০২০ সালের অমর একুশে গ্রন্থমেলায় প্রকাশিত হচ্ছে তার কবিতার বই ‘প্রার্থনার মতো একা’ বইটির প্রকাশক অন্যপ্রকাশ।

ইন্টারনেট ও টেলিভিশনের যুগেও সাহিত্যের পাঠক দিন দিন বাড়ছে জানিয়ে নওশাদ জামিল বলেন, ‘পাঠক দুই ধরনের। এক ধরনের পাঠক শুধু একাডেমিক বইপুস্তক পড়েন, আরেক শ্রেণির পাঠক একাডেমিক বইয়ের বাইরেও সৃজনশীল ও মননশীল বই পড়েন। সৃজনশীল ও মননশীল বই যারা পড়েন নিয়মিত, তেমন পাঠকের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বইমেলায় প্রতিবছর বই বিক্রি বাড়ছে। প্রকাশনাও বাড়ছে। বইপড়া আন্দোলন যদি জোরদার হয়, দেশে যদি ১ কোটি পাঠক সৃষ্টি হয়, গোটা দেশ পাল্টে যাবে। কেননা, প্রকৃত পাঠকরাই অগ্রসর নাগরিক। তারাই দেশ ও জাতির অনন্য সম্পদ।’