পালংখালী-ছেপটখালী ঢালার মুখ

সংরক্ষিত বনের মধ্য দিয়ে সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ!

বন বিভাগের আপত্তি

 সায়ীদ আলমগীর, কক্সবাজার প্রতিনিধি

কক্সবাজারের উখিয়ায় সংরক্ষিত বনের মধ্য দিয়ে সাড়ে তিন কিলোমিটার সড়ক নির্মাণের প্রকল্প হাতে নিয়েছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। উখিয়ার পালংখালী থেকে ছেপটখালী ঢালার মুখ পর্যন্ত বন বিভাগের সংরক্ষিত বনের মধ্য দিয়ে এ রাস্তা নির্মাণের তোড়জোড় শুরু হলে তাতে বাধা দেয় স্থানীয় বন বিভাগ। সংরক্ষিত বনের বুক চিরে এভাবে রাস্তা তৈরি হলে নির্বিচারে বনাঞ্চল উজাড়, বনভূমি জবরদখল, হাতির বিচরণ ক্ষেত্র ও বন্যপ্রাণির আবাসস্থল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়াসহ পরিবেশ ও প্রতিবেশ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রায় ১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে উখিয়ার পালংখালী থেকে ছেপটখালী ঢালারমুখ পর্যন্ত ৯ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ কাজ শুরু করে এলজিইডি। ৯ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে সাড়ে ৩ কিলোমিটার এলাকা সংরক্ষিত বনের মধ্যে হওয়ায় আপত্তি  তোলে বন বিভাগ।

স্থানীয় রশিদ আহমদ, হাকিম উল্লাহ, নুরুল আনোয়ারসহ আরো অনেকেই বলেন, বনের মাঝ দিয়ে পায়ে হাঁটার ছোটো পথ আছে। এ পথ দিয়ে স্থানীয়রা পাহাড়ে আসা-যাওয়া করে। সেখানে গাড়ি চলাচলের বড়ো রাস্তা হলে এখানকার বনভূমি ও গাছপালা আর থাকবে না। 

কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের হোয়াইক্যং রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. আবদুল মতিন বলেন, বন বিভাগের সংরক্ষিত বনের মাঝ দিয়ে রাস্তা নির্মাণের জন্য গাছপালা-ঝোপঝাড় ও মাটি কাটার কাজ শুরু হলে আমরা তাতে বাধা দিয়েছি। বনের মধ্য দিয়ে রাস্তা করার কোনো সুযোগ নেই। পরিবেশ বিষয়ক সংস্থা ‘এনভায়রনমেন্ট পিপল’ এর প্রধান নির্বাহী রাশেদুল মজিদ বলেন, উখিয়া-টেকনাফে এমনিতেই হাজার হাজার একর বনাঞ্চল রোহিঙ্গাদের কারণে ধ্বংস করা হয়েছে। এর ওপর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যাতায়াতের নামে সংরক্ষিত বনের বুক চিরে এভাবে রাস্তা তৈরি করা হলে নির্বিচারে বনাঞ্চল উজাড়, বনভূমি জবরদখল, হাতির বিচরণ ক্ষেত্র ও বন্যপ্রাণির আবাসস্থল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়াসহ উক্ত এলাকার পরিবেশ ও প্রতিবেশ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে।

কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবির বলেন, ২০১৮ সাল থেকেই বনের ভেতর দিয়ে পাকা সড়ক করার প্রচেষ্টা চলছে। বন বিভাগের মালিকানাধীন জমিতে বনায়ন ব্যতীত অন্য কোনো কিছু করার সুযোগ নেই। জাতীয় স্বার্থে প্রয়োজন হলে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিতে হবে। সেই সিদ্ধান্ত না আসার আগেই স্থানীয় কর্তৃপক্ষ সড়কটি বাস্তবায়নে তোড়জোড় করছে। গত কয়েকদিন আগেও পাহাড় কাটার চেষ্টা করা হয়েছে। বনের মধ্য দিয়ে এভাবে রাস্তা তৈরি হলে তা বনাঞ্চলের জন্য হুমকি। বন সকলের জন্য প্রয়োজনীয়। বাঁচতে হলে বন ও প্রকৃতি বাঁচাতে হবে। দেশ ও দশের কথা মাথায় রেখেই আমরা সড়ক নির্মাণে বাধা দিয়েছি। মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) কক্সবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আনিসুর রহমান বলেন, প্রায় ১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে পালংখালী থেকে ছেপটখালী পর্যন্ত ৯ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ কাজ হাতে নেয় এলজিইডি। সড়কটি নির্মাণ কাজ শুরু করতে গিয়েই বন বিভাগের বাধার মুখে পড়েছি। সড়কটি দ্রুত তৈরি না হলে সহায়তার টাকাগুলো ফেরত যাবে। ফলে আমরা দোটানায় রয়েছি। সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন মহলে বিষয়টি জানানো হয়েছে। সেখানকার সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছি।