মানুষ যেন আতঙ্কিত না হয়

কিছু দিন পরপরই বিশ্বের কোনো না কোনো প্রান্তে নূতন কোনো ভাইরাস-আতঙ্ক ছড়াইয়া থাকে। ইবোলার আতঙ্ক চলিয়াছিল কিছুদিন, ইহার পাশাপাশি মার্স ও সার্স ভাইসারও যথেষ্ট শোরগোল ফেলিয়াছিল। এইবার চীনে নূতন একটি ভাইরাস ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করিতে চাহিতেছে। ভাইরাসটি অতীতের সার্স ভাইরাসের নূতন জ্ঞাতি ভ্রাতা বলা যায়। ইহার আক্রমণে সবচাইতে বেশি ধরাশায়ী হইয়াছে চীনের উহান শহর। দুই শতাধিক আক্রান্তের পাশাপাশি মৃত্যুও ঘটিয়াছে তিন জনের। আতঙ্ক মূলত এই কারণেই। এমনিতেই মনে করা হইতেছিল সার্সের নিকটাত্মীয় নূতন ভাইরাসটি খুব বেশি ভয়াবহ নহে। কিন্তু আক্রান্তের সহিত মৃত্যুর যেই অনুপাত, তাহা বেশ বিপজ্জনক বলা যায়। সার্স তথা করোনা ভাইরাস হইতে সৃষ্ট এই রোগের ভয়াবহতা ইতিপূর্বে অন্য মাত্রায় দেখিয়াছে চীন। তথ্যমতে, ২০০২ হইতে ২০০৩ সালে চীনে সার্সে আক্রান্ত হইয়া ৩৪৯ জনের মৃত্যু হইয়াছিল। সেই সময় হংকংয়েও মারা গিয়াছিল আরো ২৯৯ জন।  এইবার চীনের পাশাপাশি এই ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়াইয়াছে জাপান, থাইল্যান্ড এবং দক্ষিণ কোরিয়ায়। এই ভাইরাসের ব্যাপারে আতঙ্কের আরো একটি বড়ো কারণ হইল—ভাইরাসটি মানুষ হইতে মানুষে সঞ্চারিত হইতে পারে।

সুতরাং ভৌগোলিকভাবে নিকটপ্রতিবেশী বিধায় এই ভাইরাস হইতে আমাদের সতর্ক থাকাটা বাঞ্ছনীয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, করোনা ভাইরাসটি মূলত শ্বাসতন্ত্রের রোগ। ইহার প্রধান লক্ষণ জ্বর। সঙ্গে সর্দি, কাশি, গলাব্যথা থাকে। এই সমস্যা আমাদের দেশে শীতকালে খুবই সাধারণ। তবে তাহা ইনফ্লুয়েঞ্জা কিংবা সাধারণ সর্দিজ্বর—উহারা কখনই প্রাণঘাতী নহে। কিন্তু নূতন ধরনের এই করোনা ভাইরাসটি অল্প পরিমাণে হইলেও প্রাণঘাতী। আর যেহেতু উহা অনেক সাধারণ রোগের উপসর্গের সহিত মিলিয়া যায়, সেই কারণে এই ভাইরাসটি বাংলাদেশে ঢুকিলে তাহা ব্যাপক আতঙ্ক ছড়াইতে পারে। কারণ আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসিলে এবং তাহার হাঁচি-কাশি হইতে বায়ুর মাধ্যমেও এই ভাইরাস ছড়াইতে পারে। তবে আশার কথা হইল, ইহার সংক্রমণ ঠেকাইতে বাংলাদেশেও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হইয়াছে। প্রকাশিত তথ্যমতে, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষকে এই মর্মে নির্দেশ দেওয়া হইয়াছে যে, যেই সকল যাত্রী চীন হইতে আসিতেছেন, তাহারা যাতে এয়ারপোর্টের থার্মাল স্ক্যানারের ভিতর দিয়া প্রবেশ করেন, তাহা যেন নিশ্চিত করা হয়। উল্লেখ থাকে যে, কাহারো শরীরে ১০০ ডিগ্রি ফারেনহইটের উপরে তাপমাত্রা থাকিলে তাহা থার্মাল স্ক্যানারে ধরা পড়ে। তবে চীন হইতে যাহারা আসিতেছেন, তাহাদের পরবর্তী সময়েও নূতন ভাইরাস আক্রান্তের উপসর্গ প্রকাশ পাইতে পারে। সেইজন্য ঐ সকল যাত্রীদের পরবর্তী দুই সপ্তাহ নজরের মধ্যে রাখা উচিত বলিয়া মনে করেন সংশ্লিষ্ট বিষয়ের বিশেষজ্ঞরা। ইহার পাশাপাশি মনে রাখিতে হইবে, যে কোনো ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে হাত ধুইবার বিকল্প নাই। সুতরাং সাবান দিয়া হাত ধোয়ার অভ্যাসটি জোরদার করিতে হইবে। বিশেষ করিয়া হাত না ধুইয়া চোখ, নাক ও মুখ স্পর্শ করাটা সকল সময়ই বিপজ্জনক। এই ভাইরাসের সংক্রমণের ক্ষেত্রেও তাহা সত্য।  পাশাপাশি মানুষ যেন অকারণে আতঙ্কিত না হয়, সেইদিকেও প্রশাসনকে নজর দিতে হইবে।