চীন থেকে পুরো বিশ্বে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে করোনা ভাইরাস। চীনে প্রতিদিনই বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। চীনে করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ায় বাংলাদেশে বিশেষ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ভাইরাসটির সংক্রমণ ঠেকাতে ইতিমধ্যে হযরত শাহজালাল (র.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিশেষ সতর্ক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে এই রোগে দুই শতাধিক চীনা নাগরিক আক্রান্ত হয়েছেন। মারা গেছেন বেশ কয়েকজন। এছাড়া থাইল্যান্ড, জাপান, হংকং, দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুরেও করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে।
এই রোগের প্রাথমিক উপসর্গ হলো—জ্বর, সর্দি-কাশি ও হাঁচি। পরে শ্বাসকষ্ট ও গলা ব্যথা দেখা দেয়। তবে বাংলাদেশে এখনো এই রোগে আক্রান্ত কাউকে পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে সরকারের রোগতত্ত্ব রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)।
আইইডিসিআর’র পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেবরিনা ফ্লোরা জানান, যেহেতু এই রোগটি চীনে দেখা দিয়েছে, আর চীনের সঙ্গে আমাদের বিভিন্নভাবে যোগাযোগ রয়েছে, সেহেতু এই রোগটি বাংলাদেশেও প্রবেশের আশঙ্কা রয়েছে। যারা চীন থেকে আসবে তাদের স্ক্যানিং করার ব্যবস্থা করেছি। চীন থেকে যারা ফিরছেন আমরা তাদের শরীরে এই ভাইরাসের অস্তিত্ব না পেলেও তাদের ১৪ দিনের পর্যবেক্ষণে রাখছি। তিনি আরো বলেন, এই রোগের চিকিত্সা ও প্রতিকারে আমরা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিওএইচও) গাইডলাইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিচ্ছি।
এ রোগের উপসর্গের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মুখ্য চিকিত্সক ও প্রখ্যাত মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. এবিএম আবদুল্লাহ বলেন, ভাইরাস সংক্রমণের আসলে কোনো চিকিত্সা নেই। কিন্তু এর যেসব উপসর্গ রয়েছে যেমন :জ্বর, সর্দি-কাশি ও গলাব্যথা—সেক্ষেত্রে আক্রান্ত ব্যক্তির উচিত সময়মতো চিকিত্সা নেওয়া। করোনা ভাইরাসের উপসর্গগুলো দেখা দিলে চিকিত্সকের পরামর্শ কিংবা চিকিত্সা না নিলে ঝুঁকি রয়েছে। চিকিত্সকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিত্সা নিলে এই ভাইরাস প্রাণঘাতী হবে না। তবে এই রোগের ক্ষেত্রে সতর্কতার কোনো বিকল্প নেই বলে তিনি জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, ২০০২-২০০৩ সালে সিভিয়ার অ্যাকিউট রেসপিরেটরি সিনড্রোম বা সার্সের সংক্রমণে পৃথিবী জুড়ে প্রায় ৮০০ জনের মৃত্যু হয়েছিল। তার পিছনেও ছিল করোনা ভাইরাস। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভাইরাসের এই নতুন সংস্করণটি সেই পুরোনো ভাইরাস থেকে উদ্ভূত। তবে এখনই নতুন ভাইরাসটিকে সার্সের মতো বিপজ্জনক ভাবার কারণ নেই বলে মনে করেন চিকিত্সকরা।