স্কটল্যান্ডকেও উড়িয়ে দিল বাংলাদেশ
অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ
স্পোর্টস রিপোর্টার
ম্যাচশেষে সতীর্থরা যার যার ব্যাগ গোছাচ্ছিলেন। এই অবস্থায় তাকে সংবাদ মাধ্যমের জন্য কিছু বলতে হলো। ক্যামেরার সামনে ঝলমল করছিল মুখটা। বললেন, এমন একটা পারফরম্যান্সের পর খুব আনন্দে আছেন।
আনন্দেই থাকার কথা রাকিবুল হাসানের। মাত্র দ্বিতীয় বাংলাদেশি বোলার হিসেবে যুব বিশ্বকাপে হ্যাটট্রিক করলেন এ বাঁ-হাতি স্পিনার। আর রাকিবুলের এই হ্যাটট্রিক করার দিনে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে স্কটল্যান্ডকে উড়িয়ে দিল বাংলাদেশ। তারা স্কটিশদের ৭ উইকেটে হারিয়ে অনেকটাই নিশ্চিত করে ফেলল অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের সুপার লিগের খেলা।
আগে ব্যাট করে রাকিবুলদের তোপে ৮৯ রানে অলআউট হয় স্কটল্যান্ড ৩০.৩ ওভারে। জবাবে শুরুতে বিপর্যয়ে পড়লেও ১৬.৪ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ।
রাকিবুলের এই হ্যাটট্রিকটা ছিল যুব ওয়ানডেতে বাংলাদেশের পক্ষে তৃতীয় হ্যাটট্রিক। বাংলাদেশের প্রথম বোলার হিসেবে যুব ওয়ানডেতে হ্যাটট্রিক করেন কামরুল ইসলাম রাব্বি। ২০১০ বিশ্বকাপে নেপিয়ারে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে টানা তিন বলে উইকেট নেন এই পেসার। ২০১৩ সালে গায়ানায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করেন লেগ স্পিনার জুবায়ের হোসেন।
এমন কীর্তির পর স্বভাবতই খুব খুশি রাকিবুল। তিনি বলছিলেন, ‘আমি খুবই খুশি। কারণ, ক্যারিয়ারের প্রথম হ্যাটট্রিক করলাম। শুরুতে আমার বোলিংটা খুব ভালো হয়নি। পরে যখন হ্যাটট্রিকটা পেয়ে গেলাম, তখন থেকে ভালো বল করতে পেরেছি।’
সামনের ম্যাচটা বাংলাদেশকে শক্তিশালী পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলতে হবে। তার আগে বাংলাদেশ সুবিধাজনক অবস্থায় আছে বলে বিশ্বাস রাকিবুলের, ‘আমরা খুব ভালো অবস্থায় আছি। বোলাররা দুই ম্যাচেই খুব ভালো করেছে। ব্যাটসম্যানরাও ছন্দে আছে। আমরা দুই ম্যাচেই পজিটিভ ক্রিকেট খেলেছি। গ্রুপে একটা ভালো অবস্থায় আছি আমরা। আমরা এই মানসিকতা নিয়ে পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলতে চাই।’
আগে ব্যাট করতে নেমে স্কটিশরা কখনোই স্বস্তিতে ছিলো না। ২১ রানে হারিয়েছিল তারা ৪ উইকেট। উজাইর শাহ ২৮ রান করে কিছুটা প্রতিরোধের চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু তাকে আউট করেন শামীম হোসেন। এরপর রাকিবুল হ্যাটট্রিক করেন।
২৪তম ওভারের তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম ডেলিভারিতে তিনি কে সাজ্জাদ, এল রবার্টসন ও সি পিটকে আউট করেন। এরপর শেষ দিকে প্রতিরোধ করা জেমি কেয়ার্নসকেও ১৭ রানে আউট করেন রাকিবুল। তিনি ২০ রানে ৪ উইকেট তুলে নেন। এ ছাড়া দুটি করে উইকেট নিয়েছেন শরিফুল ও সাকিব।
জবাব দিতে নেমে বিনা রানেই প্রথম উইকেট হারায় বাংলাদেশ। বিনা রানে ফেরেন তানজিদ হাসান। এরপর পারভেজ হোসেন ইমন ১৫ বলে দ্রুত ২৫ রানের ইনিংস খেলেন। আর শামীম ৯ বলে ১০ রান করে ফিরে আসেন। ৩৫ রানে ৩ উইকেট হারিয়েছিল বাংলাদেশ। এখান থেকে আর বিপদ টের পেতে দেননি তৌহিদ হূদয় ও মাহমুদুল হাসান জয়।
হূদয় ১৭ রানে এবং জয় ৩৫ রানে অপরাজিত থাকেন।