ইসির সঙ্গে বৈঠক বিএনপির

মৃত, প্রবাসী ও জেলে বন্দিরাও ভোট দেয় চট্টগ্রামে

মৃত, প্রবাসী এবং জেলখানায় বন্দি ভোটাররাও চট্টগ্রাম-৮ আসনে ভোট দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। গতকাল মঙ্গলবার নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদার সঙ্গে বৈঠক শেষে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোট ডাকাতি হয়, চট্টগ্রাম-৮ আসনের উপ-নির্বাচনে তা প্রমাণিত হয়েছে। তার দল এ আসনের ভোট বাতিল করে ব্যালট পেপারে পুনর্নির্বাচন চায়।

বিএনপির অভিযোগের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব মো. আলমগীর বলেন, ‘ইভিএমে মৃত ভোটার ভোট দিতে পারে না। অথবা বিদেশে আছেন, উনি কীভাবে ভোট দিলেন। এ ব্যাপারে তাদের একটা লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। তারা দিয়েও গেছেন। সেখানে যদি আমরা দেখি, কোনো মৃত ব্যক্তি এবং তার পক্ষে কেউ ভোট দিয়ে গেছে, তাহলে অবশ্যই বুঝতে হবে, সিস্টেমের কোথাও একটা সমস্যা আছে। ইভিএম তো দোষ করতে পারে না, তাহলে এই দোষের সঙ্গে জড়িত কারা। সত্য বের করতে হবে।’

চট্টগ্রামে সব কেন্দ্রের দখলের অভিযোগ করে আমির খসরু বলেন, ১৭০ পোলিং স্টেশনের মধ্যে সবগুলোই দখল করে নিয়েছিল ক্ষমতাসীনরা। নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী কেন্দ্রের বাইরের কেউ থাকতে পারবেন না, গাড়ি-মোটরসাইকেল চলবে না। কিন্তু সেখানে চট্টগ্রাম বিভাগের যত মেয়র, কাউন্সিলর, আওয়ামী লীগ নেতাদের অবস্থান মৃশ্যমান ছিল। সবাই সরাসরি কেন্দ্র দখল করেছে, মিছিল করেছে। যেখানে ভোট দেয় তা দখল করে নিয়েছে। আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ফিঙ্গার ম্যাচিং না হলে ১ শতাংশ ফিঙ্গার ম্যাচিংয়ের দায়িত্ব ছিল সহকারী প্রিজাইডিং অফিসারের। সেই ১ শতাংশে মৃত এবং প্রবাসীদের ভোট দেখানো হয়েছে। ইসির আইটি বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে ইভিএমের কন্ট্রোল ইউনিটের পাসওয়ার্ড নিয়ে আরো ১০ শতাংশ (মৃত, প্রবাসী ও জেলেবন্দিদের) ভোট দিয়েছে দখলদার আওয়ামী সন্ত্রাসীরা। আমির খসরু বলেন, চট্টগ্রাম-৮ আসনের ভোটে ভোটারদের কেন্দ্রে যেতে দেয়নি। যারা যেতে পেরেছে তারা আঙ্গুলের ছাপ দিয়েছে, ভোটের ব্যালট ইউনিটে ভোটের কাজ তারা সেরে ফেলেছে। ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনেও যেখানে ইভিএমে ভোট হয়েছে সেখানেও এমন হয়েছে, চট্টগ্রামে তার চেয়েও খারাপ হয়েছে। তাই কমিশনকে অনুরোধ করেছি চট্টগ্রামের নির্বাচনটি বাতিল করে দিন।

ইসির সচিব বলেন, বিএনপির বিশেষ অভিযোগগুলোর বিষয়ে তদন্ত করে অভিযোগ প্রমাণ পেলে কমিশন ব্যবস্থা নেবে। আমির খসরু বলেন, ‘ঢাকা উত্তর সিটির বিএনপি প্রার্থী তাবিথের ওপর হামলা হয়েছে। এ্যানীসহ ১৫ জন হামলায় আহত হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের ওপর সরকার খবরদারি চালাচ্ছে বলে মনে করি। কমিশনের ওপর সব আস্থা হারিয়ে ভোট ব্যবস্থা চলছে। ’

বৈঠকে সিইসি ছাড়াও নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার, মো. রফিকুল ইসলাম, কবিতা খানম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শাহাদাত হোসেন চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। বিএনপির প্রতিনিধি দলে আরো ছিলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল ও চট্টগ্রাম দক্ষিণের বিএনপির আহ্বায়ক আবু সুফিয়ান।