সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ

দাগনভূঞায় ফখরুল হত্যার ফরমায়েশী তদন্ত চলছে

ফেনীর দাগনভূঞায় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা ফখরুলকে নৃশংসভাবে হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত এবং ঘাতকদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন নিহতের স্বজনরা। তারা অভিযোগ করে বলেন, দুই বছর পূর্বে ফখরুলকে নৃশংসভাবে হত্যার পরও চিহ্নিত আসামিরা এলাকায় প্রকাশ্যে থেকে বাদী পক্ষকে নানা ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। পুলিশ মামলাটি ফরমায়েশী তদন্ত চালাচ্ছে। গতকাল সেগুনবাগিচাস্থ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নিহত ফখরুলের বড়ো বোন শাহীনুর আক্তার। এ সময় তার মা রওশন আরা বেগম উপস্থিত ছিলেন।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ফখরুল উদ্দিন চৌধুরী (৩০) দাগনভূঞা পৌর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। তিনি দীর্ঘদিন কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে সৌদি আরবে থেকে ২০১৬ সালের মাঝামাঝি দেশে আসেন এবং ইটালি যাবার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। চাঁদার দাবিতে ২০১৮ সালের ১৯ জানুয়ারি রাত আনুমানিক ১০টার দিকে ফখরুলকে সন্ত্রাসীরা বাসা থেকে ডেকে তুলে নিয়ে যায়। ঐ সময় নিহতের মা বাসার সামনে গাড়ির পাশে দাগনভূঞার যুবলীগ নেতা পারভেজ, হীরা ও বাহাদুরকে স্পষ্ট দেখতে পান। পরের দিন ২০ জানুয়ারি সকালে স্থানীয় মাতুভূঞা ব্রিজের পাশে ফখরুলের গলাকাটা লাশ পাওয়া যায়। নৃশংসভাবে হত্যার পর খুঁচিয়ে তার দুচোখ উপড়ে ফেলা হয়েছিল। এ ঘটনায় নিহতের ইটালি প্রবাসী ভাই নাজিম উদ্দিন দেশে এসে বাদী হয়ে ২৩ জানুয়ারি দাগনভূঞা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-০৯)। আসামিরা প্রভাবশালী হবার কারণে শুরু থেকেই মামলাটি তদন্ত নিয়ে টালবাহানা চলছে। সর্বশেষ পিবিআই তদন্তের ভার পেলেও মামলায় অগ্রগতি নেই। এর আগে ঐ বছরের ১৩ জানুয়ারি একই আসামিরা ফখরুলকে অপহরণ করে তিন দিন আটকে রেখে নির্যাতন চালায়।