বিয়ের ২১ দিন পর পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলায় একটি বিল থেকে মোসা. চম্পা বেগম (৩২) নামের এক নববধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার দুপুরে উপজেলার চাকামইয়া ইউনিয়নের গামরবুনিয়া গ্রামে নিহতের স্বামী মো. বাবুল হাওলাদারের বাড়ির নিকস্থ বিল থেকে মাটি চাপা দেওয়া অবস্থায় ওই লাশ উদ্ধার করা হয়।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অনুপ দাসের উপস্থিতিতে কলাপাড়া থানা পুলিশ নিহতের লাশ উদ্ধার করে। এ ঘটনার পর থেকে বাবুল হাওলাদারের বাড়ির সকল সদস্য পলাতক রয়েছে।
নিহতের স্বজন মো. জসিম সিকদার জানায়, কলাপাড়ার চাকাইময়া ইউনিয়নের গামরবুনিয়া গ্রামের কাদের হাওলাদারের ছেলে বাবুল হাওলাদারের সঙ্গে গত ১লা জানুয়ারি পার্শ্ববর্তী তালতলী উপজেলার পঁচাকোড়ালিয়া ইউনিয়নের কলারং গ্রামের চান মিয়া সিকদারের একমাত্র কন্যা চম্পার সঙ্গে বিয়ে হয়। বিয়ের পর গত ১২ জানুয়ারি সন্ধ্যায় নিজ বাড়িতে বেড়াতে নেওয়ার কথা বলে বাবুল হাওলাদার নববধুকে নিজ বাড়িতে নিয়ে আসে। এরপর থেকে চম্পা নিখোঁজ হয়। ১৪ জানুয়ারি তালতলী থানায় চম্পার পিতা একটি সাধারণ ডায়েরি করে। চম্পা নিখোঁজ থাকার আট দিন পর বুধবার স্থানীয় গ্রামবাসী বিলে গরু চড়াতে গিয়ে শিয়াল-কুকুরে মাটি খুড়ে ফেলায় চম্পার মরদেহের অস্তিত্ব দেখতে পায়। সঙ্গে সঙ্গে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের মাধ্যমে কলাপাড়া থানা পুলিশকে অবহিত করলে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী মর্গে পাঠিয়ে দেয়। এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
আরো পড়ুন: ফের রাজনৈতিক প্রচারণায় ‘বিতর্কিত’ জবি ভিসি
নিহতের পিতা মো. চান মিয়া সিকদার জানায়, তার একটি মাত্র কন্যার সুখ শান্তির কথা চিন্তা করে বাবুল হাওলাদারের সঙ্গে বিয়ে দিয়েছে। তার কন্যাকে নির্মমভাবে হত্যা করে মাটি চাপা দিয়েছে আসামিরা। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি নিশ্চিতের দাবি করেন তিনি।
এ ব্যাপারে চাকামাইয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হুমায়ুন করিব কেরামত জানায়, গৃহবধূকে হত্যার ঘটনা একটি জঘন্যতম কাজ হয়েছে। আমি পুলিশকে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করবো নববধূ হত্যার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার জন্য।
কলাপাড়া থানার অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম জানায়, স্থানীয় গ্রামবাসী মাঠে গরু চরাতে গিয়ে একটি লাশের সন্ধান পায়। সঙ্গে সঙ্গে ইউনিয়ন পরিষদের চৌকিদার মজিবরের সংবাদের ভিত্তিতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে নিহতের লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহত চম্পার পিতা বাদী হয়ে কলাপাড়া থানয় একটি মামলা দায়ের করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। মামলার আসামিদের দ্রুত সময়ের মধ্যে আইনের আওতায় আনা হবে।
ইত্তেফাক/এএএম