বছরের প্রথম বোর্ড সভায় কেন্দ্রীয় চুক্তির অনুমোদন দেয়নি বিসিবির পরিচালনা পর্ষদ। ক্রিকেট অপারেশন্স কমিটির পাঠানো ক্রিকেটারদের তালিকাটা ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল। কিছু পরিবর্তন আনতে বলা হয়েছিল বোর্ড সভা থেকে। গত ১২ জানুয়ারি বোর্ড সভা শেষে বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন বলেছিলেন, কয়েক দিনের মধ্যেই কেন্দ্রীয় চুক্তিতে সুযোগ পাওয়া ক্রিকেটারদের তালিকা চূড়ান্ত হয়ে যাবে।
তরুণ ক্রিকেটারদের সুযোগ করে দিতে স্বইচ্ছায় কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন ওয়ানডে দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। ফিক্সিংয়ের প্রস্তাব গোপন করে নিষিদ্ধ হওয়া সাকিব আল হাসানও এবার চুক্তিতে থাকছেন না। তাই চুক্তির তালিকায় পরিবর্তন আসছেই। চলতি বছরে ক্রিকেটারদের সঙ্গে বিসিবির চুক্তি হবে ফরম্যাটভিত্তিক। কেউ এক ফরম্যাট, কেউ দুই ফরম্যাট, কেউবা তিন ফরম্যাটে বিসিবির চুক্তিতে থাকবেন।
গতকাল জানা গেছে, নতুন করে কেন্দ্রীয় চুক্তির তালিকা তৈরি করে ফেলেছেন নির্বাচকরা। পাকিস্তান সফরে তিন ম্যাচের টি-২০ সিরিজের পরপরই তালিকা ঘোষণা করবে বিসিবি। গতকাল জানতে চাইলে পাকিস্তানগামী বিমানে চড়ার আগে জাতীয় দলের প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু বলেছেন, ‘তালিকা তৈরি হয়েছে। আমরা বোর্ডে জমা দিয়েছি। বোর্ড অনুমোদন দিলে আপনারা জানতে পারবেন।’
জানা গেছে, কেন্দ্রীয় চুক্তিতে থাকবেন অন্তত ১৬ জন ক্রিকেটার। তিন ফরম্যাটে বিসিবির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হতে পারেন চার ক্রিকেটার। সংখ্যাটা ছয় জনও হতে পারে বলে জানিয়েছে বিসিবির এক বিশ্বস্ত সূত্র। সিনিয়র তিন ক্রিকেটার তামিম ইকবাল, মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ নিশ্চিতভাবেই তিন ফরম্যাটে চুক্তিবদ্ধ হচ্ছেন। তাদের সঙ্গে মুস্তাফিজুর রহমান রয়েছেন এই তালিকায়।
ওয়ানডে, টি-২০ তে মুস্তাফিজ বাংলাদেশ জাতীয় দলে নিয়মিত মুখ। দলের অপরিহার্য সদস্যও তিনি। কিন্তু টেস্ট দলে এই বাঁহাতি পেসারের অবস্থান নড়বড়ে। গত বছর মার্চে নিউজিল্যান্ড সফরে সর্বশেষ টেস্ট খেলেছিলেন মুস্তাফিজ। প্রথম টেস্টে বিশ্রামে থাকার পর দ্বিতীয় টেস্টে একাদশে ঠাঁই পান তিনি। এরপর বাংলাদেশ তিনটি টেস্ট খেলেছে দেশের মাটিতে। আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে টেস্টের দলেই ছিলেন না কাটার মাস্টার খ্যাত এই পেসার। ভারত সফরে টেস্ট দলে থাকলেও একাদশে ঠাঁই হয়নি ২৪ বছর বয়সি এই পেসারের। ইন্দোর, কলকাতায় এবাদত, রাহী, আল-আমিনদের নিয়ে গঠিত হয়েছিল বাংলাদেশের পেস আক্রমণ।
দর্শক হয়েই থাকতে হয়েছিল মুস্তাফিজকে। ফিট থাকার পরও তাকে একাদশে না রেখে স্পষ্ট ইঙ্গিতই দিয়েছিল টিম ম্যানেজমেন্ট। সাদা পোশাকের ক্রিকেটে তাকে ছাড়াই এবাদত-রাহীদের নিয়ে একটা লাইনআপ তৈরির চেষ্টা করছে টিম ম্যানেজমেন্ট। সেখানে তাদের পরিকল্পনায় মুস্তাফিজের থাকার লক্ষণও নেই। টিম ম্যানেজমেন্টের আস্থা ফিরে পাওয়া, লংগার ভার্শনে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সেই টেস্টের বিবেচনায় ফিরতে পারেন ১৩ টেস্ট খেলা এই তরুণ।
তামিম-মুস্তাফিজদের বাইরে তিন ফরম্যাটে চুক্তির বিবেচনায় আছেন মোহাম্মদ মিঠুন। মিডল অর্ডারে ডানহাতি এই ব্যাটসম্যানের ওপর হেড কোচ রাসেল ডমিঙ্গোর অনেক আস্থা। যদিও ব্যাট হাতে নিজের নামের প্রতি সুবিচার করতে পারছেন না তিনি।
কেন্দ্রীয় চুক্তিতে রুক্তি শ্রেণিতে সুযোগ পেতে পারেন কয়েকজন তরুণ ক্রিকেটার। সর্বশেষ কয়েকটি সিরিজে জাতীয় দলের হয়ে খেলা আফিফ হোসেন ধ্রুব, আমিনুল ইসলাম বিপ্লব, নাঈম শেখরা এই শ্রেণিতে সুযোগ পাবেন।