বঙ্গবন্ধু শতবার্ষিকী ম্যাচ

রঙিন আয়োজন চায় বিসিবি

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আগামী মার্চে ঢাকায় দুটি চোখ ধাঁধানো টি-টোয়েন্টি ম্যাচ আয়োজনের কথা আছে। এই দুটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা বিশ্ব একাদশ ও এশিয়া একাদশের মধ্যে। ইতিমধ্যে আইসিসি এই দুটি ম্যাচকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দিয়ে দিয়েছে। গতকাল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দিন চৌধুরী সুজন বললেন, তারা এই আয়োজন রঙিন করতে যা যা করণীয়, করবেন।

আয়োজনটাকে স্মরণীয় করে রাখতে বিশ্ব ক্রিকেটের সাবেক কিংবদন্তি ক্রিকেটারদের এখানে উপস্থিত রাখার একটা পরিকল্পনা করছে বোর্ড। সুজন বলছিলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য আছে, বিশ্ব ক্রিকেটের যারা ওপরের পর্যায়ে আছেন, আইসিসির যারা আছেন, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় যারা আছেন, তাদেরকে তো আমরা অবশ্যই আমন্ত্রণ করব। একই সঙ্গে বিভিন্ন সময়ের কিংবদন্তি ক্রিকেটার যারা আছেন, তাদের আনার চেষ্টা করব। এটা কালারফুল করার জন্য যা যা করা দরকার সব চেষ্টাই থাকবে আমাদের।’

এই আয়োজনের পরপরই ভারতও একটা বিশ্ব একাদশ বনাম এশিয়া একাদশ ম্যাচ করতে চাইছিল। সেটার উপলক্ষ্য ছিল মোতেরা স্টেডিয়াম উদ্বোধন। কিন্তু বিশ্বের বৃহত্তম এই স্টেডিয়াম নির্মাণের কাজ শেষ না হওয়ায় সেটা হচ্ছে না আপাতত। সুজন জানালেন, ‘একটা ম্যাচ হওয়ার কথা আসলে ছিল, তারা একটি বড়ো স্টেডিয়াম উদ্বোধন করতে চেয়েছে। সেটা বোধহয় আপাতত ওনারা করছেন না। ওটা তৈরি হতে মনে হয় আরো সময় লাগবে। আমাদের যে দুইটা ম্যাচ সেটা ঐভাবেই আছে। ওখানে হওয়ার কোনো সুযোগ নেই এই সময়ে। পরবর্তীতে যদি তারা করে। প্রথম থেকেই কিন্তু ঐ ম্যাচটি তাদের ব্যাপারই ছিল।’

সুজন বললেন, তারা এখন পর্যন্ত বিশ্ব একাদশ ও এশিয়া একাদশের জন্য একটা সংক্ষিপ্ত তালিকা করেছেন। সে অনুযায়ী বিভিন্ন বোর্ডের সঙ্গে আলাপ হচ্ছে, ‘ঐভাবে তো আলাদা করে কাউকে চাইনি। এশিয়া একাদশ এবং বিশ্ব একাদশের জন্য যে খেলোয়াড়দের শর্ট লিস্টে রাখা হয়েছে তাদের ব্যাপারে বোর্ডগুলোকে জানানো হয়েছে। কারা খেলবে সেটা দেখতে হবে আরকি।’

তবে কিছু খেলোয়াড়ের পাওনা নিয়ে জটিলতা হচ্ছে, সেটাও জানালেন সুজন, ‘আমাদের লিস্টে যে সব দেশের খেলোয়াড়রা আছেন সবার সঙ্গেই যোগাযোগ হচ্ছে। কিছু কিছু কমপ্লিকেশনও আছে, এগুলো নিয়েও কাজ করতে হবে আমাদের। কিছু কিছু ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে সিরিজ শুরু হচ্ছে বা এই ইভেন্টের পরপরই সিরিজ শুরু হয়ে যাচ্ছে। সেক্ষেত্রে অংশগ্রহণ কীভাবে করা যায় সে বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করা হচ্ছে।’

সুজন বলছিলেন, কিংবদন্তি সাবেক ক্রিকেটাররা খেলতে না পারলেও তাদের রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে আয়োজনে, ‘অবসর নেওয়া ক্রিকেটারদের ডাকা গেলে কাজটা আমাদের জন্য সহজ হতো। যেহেতু আন্তর্জাতিক মর্যাদা দেওয়া হয়েছে ম্যাচ দুটোকে, সেক্ষেত্রে অবসর নেওয়া খেলোয়াড়দের খেলার সুযোগ নেই। আন্তর্জাতিক কিংবদন্তি যারা আছেন তাদের উপস্থিতি থাকতে পারে, কিন্তু খেলার সুযোগ নেই।’

দলে বাংলাদেশের কয় জন খেলোয়াড় এই আয়োজনে থাকবেন, সেটা এখনই বলতে চাইছেন না সুজন, ‘এই এশিয়া বাংলাদেশের কয় জন থাকবে দল হলেই জানতে পারবেন। আমাদের তো একটা অগ্রাধিকার থাকবেই। তবে আমি সংখ্যা বা নাম এই মুহূর্তে বলতে পারছি না। এটা বোর্ড থেকে আলোচনা করেই আমরা এই সিদ্ধান্ত নেব। আমাদের নির্বাচক যারা আছে তাদের সঙ্গে আলোচনা করেই আমরা সিদ্ধান্ত নিব।’