দেশের হাসপাতালে বিদ্যমান এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ও হেলিপ্যাড সুবিধা

মনে করেন, আপনার পরিবারের কেউ একজন গুরুতর অসুস্থ। আপনার জেলায় যে হাসপাতাল আছে, যেখানে তার চিকিত্সাসেবা দেওয়া সম্ভব নয় বলে ডাক্তার জানিয়েছেন এবং দ্রুত ঢাকার হাসপাতালে নিতে বলেছেন। হাতে সময় আছে দুই থেকে তিন ঘণ্টা। দ্রুত হাসপাতালে নিতে না পারলে  হয়তো  রোগীকে বাঁচানো সম্ভব হবে না। আপনি ইতিমধ্যে অ্যাম্বুলেন্সে করে রোগীকে নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন, কিন্তু পথিমধ্যে দেখতে পেলেন রাস্তায় বিশাল ট্রাফিক জ্যাম। আপনার বাসা যদি হয়ে থাকে কুমিল্লায়, তাহলে সেই জ্যাম উপেক্ষা করে ঢাকায় পৌঁছাতে সময় লেগে যাবে পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টা কিংবা তারও বেশি। ততক্ষণে হয়তো রোগীকে বাঁচানো সম্ভব হবে না। এমন অবস্থায় আপনি কী করবেন? হ্যাঁ, ঠিক এরকম অবস্থায় এয়ার অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস দ্রুত এবং জরুরি ভিত্তিতে চিকিত্সা গ্রহণের পথকে অনেকটাই সহজ করে তুলেছে। দেশের যে কোনো প্রান্ত থেকে এই সার্ভিসের সহায়তায়  নিমেষেই রাজধানীর বড়ো হাসপাতালে রোগীকে স্থানান্তর করা যায়। সেই লক্ষ্য, উদ্দেশ্য সামনে রেখেই প্রতিনিয়ত সেবা দিয়ে যাচ্ছে স্কয়ার হাসপাতাল।

রাজধানীর পান্থপথে অবস্থিত হাসপাতালটির প্রশাসনিক স্তরের, সেই সঙ্গে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দেশের যে কোনো প্রান্ত থেকে রোগীকে উন্নত ও মানসম্পন্ন চিকিত্সাসেবা সরবরাহ করার লক্ষ্যে তাদের এয়ার অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসটি চালু আছে এবং ‘স্কয়ার এয়ার’ নামের প্রতিষ্ঠানটি মূলত সার্বিক সহায়তা প্রদানপূর্বক এই দায়িত্ব পালন করে আসছে। তবে চিকিত্সার জন্য বিদেশে রোগী পাঠানোর কোনো সেবা তাদের চালু নেই। গ্রাম থেকে জরুরি ভিত্তিতে কোনো রোগীকে ঢাকার হাসপাতালে হেলিকপ্টারের মাধ্যমে আনার ক্ষেত্রে অনেকের মনে একটি প্রশ্ন জাগে। সেটি হলো, হেলিকপ্টারটি রোগী নেওয়ার জন্য কোথায় নামবে? বাসায়, নাকি আঞ্চলিক বিমানবন্দরে? এক্ষেত্রে সেবা সরবরাহকারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রোগীর বাসা কিংবা অবস্থানরত জায়গার নিকটবর্তী খোলা জায়গায় অথবা স্কুল, কলেজ মাঠে হেলিকপ্টার নামতে পারবে। অন্যদিকে জেলা শহরের কোনো রোগীকে নেওয়ার জন্য হেলিকপ্টার উক্ত জেলাগুলোতে বিদ্যামান স্টেডিয়াম, সদর হাসপাতাল, মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ইত্যাদি জায়গায় নামতে পারে। হেলিকপ্টার যে কোনো জায়গায় নামতে পারবে, তবে তার জন্য সর্বনিম্ন দেড় শ বাই দেড় শ ফুট খোলা জায়গা দরকার। দেশের বিভিন্ন জেলায় অবস্থিত স্কয়ার হাসপাতালের শাখাগুলোতেও এই সেবা চালু আছে। উল্লেখিত সেবার বিপরীতে স্কয়ার এয়ার চার, ছয়, সাত সিটের হেলিকপ্টারের জন্য যথাক্রমে ৮১ হাজার, ১ লাখ ২৫ হাজার, ২ লাখ ৩৫ হাজার টাকা নিয়ে থাকে। চার ও ছয় সিটের হেলিকপ্টারগুলো এক ইঞ্জিনবিশিষ্ট এবং সাত কিংবা এর বেশি সিটের হেলিকপ্টার দুই ইঞ্জিনবিশিষ্ট হয়ে থাকে।

হেলিকপ্টারে একজন পাইলটসহ প্রয়োজনীয় জীবন রক্ষাকারী সব ধরনের সরঞ্জাম সরবরাহ করা হয়ে থাকে। কোন জায়গা থেকে রোগী আনতে হবে এবং কী রকম সময় লাগবে, তার ওপর ভিত্তি করে সেবা প্রদানকারী একটি ইস্টিমেটেড ভাড়া নির্ধারণ করে এবং উক্ত ভাড়ার সম্পূর্ণ অগ্রিম গ্রহণপূর্বক সেবা প্রদান করে। এদিকে রাজধানীর এপোলো হাসপাতালে কথা বলে জানা গেছে, তাদের হাসপাতালে হেলিপ্যাড আছে, কিন্তু এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের সুবিধা চালু নেই। কারণ হিসেবে হাসপাতালটির অবস্থানকেই দায়ী করা হচ্ছে। কেননা, হাসপাতালটি ঢাকার বিমানবন্দর এরিয়ার নিকটবর্তী হওয়ায় বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ থেকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস চালুর জন্য অনুমতি পায়নি। ইতিপূর্বে আমরা জানি যে, গেল বছরের ২৪ অক্টোবর রাজধানীর চানখারপুলে নির্মিত জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের শুভ উদ্বোধন করেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এয়ার অ্যাম্বুলেন্স সেবার নিমিত্তে হেলিকপ্টার নামানোর হেলিপ্যাড সুবিধা সরবরাহ করা হবে বলে জানা গেছে। হয়তো আগামী ছয় মাসের মধ্যে এর নির্মাণকাজ শেষ হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। তবে কোনো কোনো বেসরকারি হাসপাতালে থাকলেও ঢাকা মেডিক্যালসহ অন্যান্য সরকারি হাসপাতালে নেই এই সার্ভিস। সেই সঙ্গে নেই এয়ার অ্যাম্বুলেন্স-সেবা প্রদানকারী আওতাভুক্ত কোনো এজেন্সি। তাই বিষয়টিকে যদি গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া যায় তাহরে অনেক রোগীর কষ্ট লাঘব হতে পারে।

n লেখক :শিক্ষার্থী, স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়