জাল বিছিয়েছে যত ভেজাল

সংবাদপত্রে প্রকাশ, ‘বাজারে নিম্নমানের ভেজাল ভোজ্য তেলে ছেয়ে গেছে। নামিদামি ব্র্যান্ডের ভোজ্য তেলও রয়েছে এর মধ্যে। অনেক প্রতিষ্ঠান আবার বিএসটিআইয়ের লাইসেন্স ছাড়াই ভোজ্য তেল বাজারজাত করে আসছে দীর্ঘদিন ধরে। আবার অনেক প্রতিষ্ঠানের মেয়াদ পার হয়ে গেলেও সেটি নবায়ন না করেই সঠিক মান বজায় না রেখে ভোজ্য তেল বাজারজাত করছে।’ জানা গেছে, ভেজাল ভোজ্য তেলে মেটাবলিক সমস্যা হয়ে থাকে। শুধু তাই নয়, ভেজাল তেল রান্নার সঙ্গে খেতে খেতে একসময়  খাবারে অরুচি ও হূদপিণ্ডে ক্ষত সৃষ্টি হয়। আর যকৃত্ ও ফুসফুস আক্রান্ত হয়ে থাকে ভেজাল তেলের কারণেই। উনিশ শতকের গোড়ার দিকে আমেরিকায় গরুর খাদ্য হিসেবে সয়াবিন ব্যবহূত হতো। সেই সয়াবিন এখন মানবখাদ্য। প্রখ্যাত বিজ্ঞানী ডা. জি ডাব্লিউ কারভার আবিষ্কার করেন, সয়াবিনে এমন সব অসাধারণ উপাদান বিদ্যমান, যা মানবদেহের স্বাস্থ্য রক্ষায় অতীব জরুরি। তিনি প্রমাণ করেন, সয়াবিন তেল সব খাবারের মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ। তাই মানবদেহের পুষ্টিবিধানে সয়াবিন তেলকে বলা হয় পুঞ্জীভূত শক্তির আধার। অথচ অসাধু ব্যবসায়িদের কারণে সেই পুঞ্জীভূত শক্তির আধার ভেজালের কারণে বাংলাদেশের মানুষ আজ বিবিধ রোগব্যাধিতে নাকাল হচ্ছে। এ থেকে প্রমাণ হয়, কতিপয় মানুষ আর মানুষ নেই। সয়াবিনের এই অবস্থার পাশাপাশি মাছ-মাংসেও দেওয়া হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের মেডিসিন। আর আপেল, বেদনা, আঙুর সহ বিভিন্ন ফলে মেডিসিন দিয়ে মাসের পর মাস ধরে তরতাজা করে রাখা হচ্ছে। এসব পণ্য ও খাদ্যসামগ্রী বিক্রিও হচ্ছে দেদারসে। দেশের মানুষ কী খাচ্ছে—তা দেখার কি কেউ নেই?

লিয়াকত হোসেন খোকন

ঢাকা