এজেন্টদের নিরাপত্তা দেওয়ার নির্দেশ ইসির

ভোটকেন্দ্রে প্রার্থীর পোলিং এজেন্টদের সব ধরনের নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বিঘ্নে এজেন্টদের কেন্দ্রে প্রবেশের নিশ্চয়তা বিধান এবং নিরাপত্তা দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে প্রধান        নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা বলেছেন, এজেন্ট যাবেন ভোটকেন্দ্রে। যখনই ভোটকেন্দ্রে যাবেন, তখনই তার সকল দায়িত্ব আমাদের। বুধবার বিকালে নির্বাচন ভবনে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে এ নির্দেশ দেওয়া হয়। কর্মকর্তাদের উদ্দেশে সিইসি বলেন, কোনো ধরনের অনিয়ম ও ত্রুটি বিচ্যুতি দেখতে চাই না। ভোটে বিচ্যুতি হলে কাউকে ছাড়ব না। গাফিলতি সহ্য করা হবে না। অনিয়মে কারা জড়িত তা দেখে সবার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত তিন ঘণ্টাব্যাপী এ বৈঠকে চার কমিশনার, ইসির সিনিয়র সচিব, জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব, পুলিশের আইজি, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ, র্যাব, আনসার ও ভিডিপি, ডিজিএফআই ও এনএসআইয়ের মহাপরিচালক, বিভাগীয় কমিশনার, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার, ঢাকা রেঞ্জের উপমহাপুলিশ পরিদর্শক, ঢাকা জেলা প্রশাসক ও ঢাকার পুলিশ সুপার উপস্থিত ছিলেন।

 বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, দুই সিটির নির্বাচনে সামগ্রিক পরিবেশ ও পরিস্থিতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। তবে ভোটের দিন ও আগে বেশ কিছু ওয়ার্ডে বিদ্রোহী প্রার্থীদের কারণে সহিংসতা হতে পারে এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার ঊর্ধ্বতন কয়েকজন কর্মকর্তা। তবে ওয়ার্ডগুলোর নাম উল্লেখ করেননি তারা। এছাড়া ফেসবুকসহ সামাজিক নানা যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব রটিয়ে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করা হতে পারে বলেও জানান তারা। বৈঠকে প্রতিটি সাধারণ কেন্দ্রের পাহারায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ১৬ জন ও গুরুত্বপূর্ণ (ঝুঁকিপূর্ণ) কেন্দ্রে ১৮ জন আইন সদস্য রাখতে ইসির প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়। ঐ সভায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, দুই সিটিতে ৫৩ জন কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে ১৫-২০টি পর্যন্ত মামলা রয়েছে। তারাও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য হুমকিস্বরূপ। তবে কমিশন ভোটের আগে কাউকে গ্রেফতার না করার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশনা দেন। নির্বাচনে প্রার্থীদের এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে যাতে বের করে দেওয়া না হয় সে নির্দেশনাও প্রদান করা হয়। বৈঠকে অংশ নেওয়া কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে আলাপ করে এসব তথ্য জানা গেছে। বৈঠকে এনআইডির ডিজি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাইদুল ইসলাম ইভিএমের উপর নিবন্ধ উপস্থাপন করে বলেন, ইভিএম ছিনতাই করে কোনো লাভ নেই। বৈঠকে সিইসি বলেন, সবার নজর ঢাকা সিটির ভোটের দিকে। আমরা কঠোর অবস্থানে রয়েছি। ভোটে সবাই মহাউত্সবের আমেজে রয়েছে। এর যথাযথ গুরুত্ব অনুধাবন করে নিজ নিজ অবস্থানে থেকে সঠিক দায়িত্ব পালন করতে হবে। সিইসি বলেন, বারবার অভিযোগ আসে এজেন্টদের ভোটকেন্দ্রে যেতে দেওয়া হয় না অথবা ভোটকেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া হয়। কেন্দ্র থেকে কেউ যেন এজেন্ট বের করে দিতে না পারে এবং আসা যাওয়ার পথে যাতে কোনো বাধার সৃষ্টি না হয়—সে বিষয়টি দেখতে হবে। কোনো অভিযোগ পেলে পদক্ষেপ নিতে হবে। এ সময়ে ইভিএমে ভোট প্রক্রিয়ার বিষয়ে সর্বোচ্চ প্রযুক্তির সফলতাও তুলে ধরেন সিইসি।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, একটি সংস্থার মহাপরিচালক জানান, ৫৩ জন কাউন্সিলর প্রার্থীর বিরুদ্ধে ১৫-২০ বা তার বেশি মামলা রয়েছে। এসব প্রার্থী সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য হুমকি হতে পারেন। হত্যা ও মাদক মামলার আসামিরা যাতে নির্বাচনে অংশ নিতে না পারে সেজন্য আইন সংশোধনের প্রস্তাব দেন ঐ কর্মকর্তা। একইসঙ্গে এসব প্রার্থীদের অনেকের বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট রয়েছে জানিয়ে কমিশনের নির্দেশনা চান। এর জবাবে একজন নির্বাচন কমিশনার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উদ্দেশে বলেন, ‘আইনের বাইরে বলার কিছু নেই। তবে প্রার্থীদের গ্রেফতার করা হলে ইসির ওপর কালিমা আসে। আপনারা ভোটের আগে ওয়ারেন্ট থাকলেও গ্রেফতার না করার চেষ্টা করবেন। অনেক কিছুই অ্যাডজাস্ট করেন, এ বিষয়টিও অ্যাডজাস্ট করার চেষ্টা করবেন। নির্বাচনের পরে গ্রেফতার করুন।’ বৈঠকে দুটি সংস্থার কর্মকর্তা কোনো দলের নাম উল্লেখ না করে বলেন, কিছু কিছু ওয়ার্ডে একই দলের একাধিক প্রার্থী রয়েছে। তারা যেকোনো সময়ে সহিংসতায় লিপ্ত হতে পারে। তারা আরো বলেন, ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব ছড়িয়েও সহিংস পরিবেশ তৈরি করার অপচেষ্টা চলতে পারে। এর জবাবে কমিশন বলেছে, গুজব ঠেকাতে সাইবার সিকিউরিটি ইন্টালিজেন্টদের কাজ করতে হবে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ওপর নজরদারি করতে হবে। বৈঠকে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঢাকার চারপাশের জেলার বাসিন্দারা যাতে ভোটের দিন রাজধানীতে প্রবেশ করতে না পারে সেজন্য প্রতিটি প্রবেশ পথে চৌকি বসানো হবে।