নির্বাচনী চাল

খোন্দকার শাহিদুল হক

 

তামিম হন্তদন্ত হয়ে ছুটে এসে আমাকে বলল, ‘দোস্ত তোকে আজ এক কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হবে। হয় তুই আমার সাথে বন্ধুত্ব রাখবি, আর না হয় তিনার সাথে।’

তামিমকে উত্তেজিত দেখে বিস্তারিত জানার কৌতূহলবশত তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, ‘কেন? এমন কী সমস্যা হলো যে, এখন আমাকে দুজন থেকে মাত্র একজনকেই বন্ধু হিসেবে বেছে নিতে হবে?’

সে বলল, ‘তিনা আজ আমাকে অপমান করেছে! চরম অপমান। ভাগ্যিস কেউ দেখেনি। দেখলে এই সমাজে আর মুখ দেখাতে পারতাম না। তোরও তো তিনার সাথে ভালো সম্পর্ক। এখন ভেবে দেখ, যে তোর বাল্যকালের বন্ধুকে সামান্য কারণে অপমান করতে পারে, সে একদিন তোকেও অপমান করার সুযোগ পেলে হাতছাড়া করবে না। সুতরাং তোকে সিদ্ধান্ত নিতেই হবে, তুই তিনার সাথে সম্পর্ক রাখবি নাকি আমার সাথে? যদি তিনার সাথে সম্পর্ক রাখিস তবে আর আমার সাথে রাখতে পারবি না। শত্রুর বন্ধুর সাথে আমিও আর বন্ধুত্ব করব না।’

তাকে বললাম, ‘সে দেখা যাবে। আগে আমাকে জানতে হবে, তোর সাথে তিনা কেন এমন খারাপ আচরণ করতে গেল?’

তামিম বলল, ‘আমি তিনাদের গাছের কয়েকটি কাঁচা আম পেড়ে একটা কাগজের ঠোঙায় ভরে লুকিয়ে ওকে দিতে গিয়েছিলাম। কিন্তু ও আমের ঠোঙা দেখেই রাগে যাচ্ছেতাই বলতে লাগল। আরও বলে কি না, সরে না গেলে সে তার ভাইয়াকে ডেকে আচ্ছা রকম ধোলাই খাওয়াবে। তুই-ই বল, আমার সাথে তার এমন আচরণ করা কি ঠিক হয়েছে? আমি তো কষ্ট করেই আমগুলো পেরে ওর জন্য নিয়ে গিয়েছি, তাই না?’

আমি বললাম, ‘ঠোঙায় কি কিছু লেখা ছিল?’

তামিম বললো, ‘হ্যাঁ, লেখা ছিল। কিন্তু আমি কিছু লিখিনি। আর ঠোঙাও তো আমি বানাইনি। ও রাগ করার পর দেখেছি, ঠোঙার গায়ে কে যেন লিখে রেখেছে, ‘আই লাভ ইউ তিনা। আই লাভ ইউ।’ তুই-ই বল, এতে কি আমার কোনো দোষ আছে? ঠোঙার গায়ে তো কতকিছুই লেখা থাকে। তাই বলে কি ঠোঙার ব্যবহার বন্ধ করে দিতে হবে?’

আমি তিনার রাগান্বিত হওয়ার কারণ বুঝতে পেরে বললাম, ‘ঠোঙায় যাই-ই লেখা থাক, তোকে এভাবে অপমান করার কোনো অধিকার তিনার নেই। তিনাকে এর জন্য কঠিন শাস্তি দিতেই হবে। তুই আমার দোস্ত জানার পরেও সে তোকে এভাবে অপমান করার সাহস পায় কোথা থেকে তা জানতেই হবে। সে আমগুলো রেখে ঠোঙা ফেলে দিতে পারত। তা না করে একেবারে মানসম্মানের ওপর আঘাত করেছে। সুতরাং আজ থেকে শুধু তিনা নয়, তিনার বাবার বিপক্ষেও আমাদের লড়াই করতে হবে। কারণ কয়েকদিন আগে, তিনার বাবা আমার প্রতিও নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে, আমি যেন আর তিনার পিছে ঘুর ঘুর না করি। তুই-ই বল, আমরা একসাথে লেখাপড়া করি। এখন আমরা মাধ্যমিকের ছাত্র। আমাদের কি বন্ধুত্ব হতে পারে না?’

তামিম বলল, ‘এখন আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে, কীভাবে ওদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়া যায়?’

বললাম, ‘কয়েক মাস পরেই তিনার বাবা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করবে। যদি সে এইবারও নির্বাচিত হতে পারে তবে তোকে ও আমাকে দুজনকেই আর আস্ত রাখবে না। তাই ওদেরকে দুর্বল করে রাখতে হলে তিনার বাবার বিপক্ষে নির্বাচনী কাজে অংশ নিতেই হবে। তিনার বাবা নির্বাচনে ফেল করলেই আমাদের কেল্লা ফতে। কিন্তু তিনা যদি বিষয়টি জানতে পারে তবে কিন্তু আমাদের আম ও ছালা দুটোই যাবে।’

তামিম বলল, ‘উত্তম প্রস্তাব। আমাদের অবশ্যই নির্বাচনে তিনার বাবার বিরুদ্ধে কাজ করতে হবে। তবে কার পক্ষ নিয়ে মাঠে কাজ করতে হবে তাও তো ঠিক করতে হবে? সুতরাং তুই বল, এবার তিনার বাবার বিরুদ্ধে আর কে কে নির্বাচনে প্রার্থী হবে?’

বললাম, ‘আর কে কে প্রার্থী হবে তা না জানলেও আমার বড়চাচা যে এবার প্রার্থী হবে তাতে সন্দেহ নেই।’

গাজীপুর