মোশারফ হোসেন
n নির্বাচনের প্রার্থীকে জিজ্ঞেস করছেন সাংবাদিক :আপনি কেন নির্বাচনে দাঁড়িয়েছেন?
প্রার্থী :আপনি কি দেখতে পাচ্ছেন না, চারদিকে কী ঘটছে? সরকারি লোকেরা আমোদ-প্রমোদে মত্ত, দুর্নীতিতে ছেয়ে গেছে দেশ।
সাংবাদিক :আপনি এর বিরুদ্ধে লড়ার জন্যই নির্বাচন করছেন?
প্রার্থী :পাগল নাকি! আমার কি আমোদ-প্রমোদ করতে শখ হয় না?
n দুই ভোটার কথা বলছে।
প্রথম জন :গেছিলাম ভোট দিতে, দিতে পারলাম না। কে জানি আগেই আমার ভোটটা দিয়া গেছে।
দ্বিতীয় জন :তাতে কী! আমারটাও কে জানি দিয়া গেছিল, আমি আরেকজনেরটা দিয়া আসছি।
প্রথমজন :আমারে কি বেকুব ভাবছস? আমিও একই কাজ করছি!
n এক নেতা যখন ভোটে দাঁড়ালেন, প্রচুর পোস্টার ছাপালেন।
প্রেসের লোক এসে বলল, ‘স্যার, এত পোস্টার ছাপালেন, বিলটা তো পাইলাম না।’
নেতা বললেন, ‘খাড়াও মিয়া, খালি সংসদে যাই, তারপর তো শুধু বিলই পাস করমু।’
n এক লোকের খায়েশ হয়েছে তিনি সংসদ নির্বাচন করবেন। দাঁড়িয়েও গেলেন ভোটে। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে। ভোট হলো। গণনা শেষে দেখা গেল, তিনি মাত্র তিনটি ভোট পেয়েছেন। লোকটির স্ত্রী তো রেগে আগুন।
বলল, ‘আমি আগেই সন্দেহ করেছিলাম, তুমি নিশ্চয় অন্য কোনো মেয়েকে ভালোবাস। তা না হলে তৃতীয় ভোটটা দিল কে?’
n একজন রাজনৈতিক নেতা এক ভদ্রলোককে নির্বাচনে দাঁড়ানোর জন্য জন্য ফুঁসলাচ্ছেন। কিন্তু ভদ্রলোক কিছুতেই রাজি হচ্ছেন না। তাঁর ভাষ্য, ‘আমরা অতি সাধারণ মানুষ, আমার চৌদ্দ পুরুষের কেউ কোনোদিন রাজনীতি করেনি; ওই পথ আমার জন্য নয়।’
তবু নেতা দমবার পাত্র নন। স্বভাবসুলভ বাকপটুতায় বললেন, ‘ধরুন, কারো বাপ-দাদা গরু চোর ছিল, তাই বলে কি ছেলেকেও গরু চুরিতে নামতে হবে?’
—তা কেন, তবে ও রকম হলে আমি নির্ঘাত্ রাজনীতিতে নাম লেখাতাম!
n বনে নির্বাচন। শেয়াল পণ্ডিত নির্বাচন কমিশনার। ভোটাভুটি শেষ হওয়ার ৭২ ঘণ্টা পর শেয়াল ফলাফল ঘোষণা করতে মঞ্চে উঠেছে। সেই সময় কোত্থেকে এক গন্ডার ছুটে এসে হাঁপাতে হাঁপাতে বলল, ‘পণ্ডিত মশাই, আমাকে ভোটকেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল। ভোট দিতে দেয়নি।’
শেয়াল বলল, ‘এ কথা আজ বলছ কেন?’
গন্ডার বলল, ‘আমাকে যে বের করে দেওয়া হয়েছিল, এটা মাত্রই বুঝলাম।’
n শপথ নেওয়ার পরপরই রেলমন্ত্রীকে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলেন, ‘নতুন রেলমন্ত্রী হিসেবে আপনার কাছে অগ্রাধিকার পাবে কী কী?’
মন্ত্রী বিন্দুমাত্র চিন্তা না করেই বললেন, ‘আমার অগ্রাধিকার হচ্ছে বিরোধীদলের প্রত্যেক সদস্যকে রেলের একটি করে টিকিট বিনামূল্যে দেওয়া।’
জবাব শুনে অবাক বিস্ময়ে সাংবাদিকরা মন্ত্রীর দিকে তাকিয়ে রইলেন।
এবার সামান্য হেসে নতুন মন্ত্রী বললেন, ‘অবশ্য সবগুলোই হবে ওয়ান ওয়ে টিকিট।’
n শ্রমিক :ভোট দেয় কেমনে?
মালিক :ভোট কেন্দ্রে যাবি, যেখানে নৌকা, ধানের শীষ, লাঙল ইত্যাদি মার্কা দেখবি, যেই দলরে পছন্দ সেই দলের মার্কায় ভোট দিয়া আসবি।
শ্রমিক :ছবি দেইখা কেমনে চিনমু, গরিব মানুষ, লেখাপড়া তো জানি না...
n আমাদের পাড়ায় এক চাচা ছিলেন।
ভোট দেওয়ার পর বাইরে এসে পোলিং এজেন্টকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘তোমার চাচি কি ভোট দিয়ে চলে গেছেন?’
পোলিং অ্যাজেন্ট লিস্ট চেক করে বলল, ‘হ্যাঁ চাচা। চাচি ভোট দিয়ে চলে গেছেন।’
তখন চাচা গভীর দুঃখের সঙ্গে বলেলন, ‘ইশ! যদি একটু তাড়াতাড়ি আসতাম তবে দেখা হতো।’
পোলিং এজেন্ট অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল, ‘কেন চাচা? চাচি কি আপনার সাথে থাকেন না?’
চাচা বলেলন, ‘আজ ১৫ বছর হয়ে গেছে তোমার চাচি মারা গেছেন। কিন্তু ভোটের সময় এসে ভোট দিয়ে চলে যান কিন্তু কোনোদিন দেখা হয় না।’