বুনো ঝোপের পাশেই বাস করত এক কালো হাঁস। তার গায়ের রং কালো হওয়ায় কেউ তার সঙ্গে মিশত না, খেলত না। তাই তার মনে বেজায় দুঃখ। একদিন অনেক আশা নিয়ে একটি সাদা হাঁসকে বলল, ‘চলো একসাথে সাঁতার কাটি। তোমাকে অনেকগুলো শামুক এনে দেবো।’
সাদা হাঁস একটু ভেবে বলল, ‘ঠিক আছে আগে শামুক দাও, তারপর তোমার সাথে যাবো।’ কালো হাঁস খুশি হয়ে অনেকগুলো শামুক এনে দিল। সাদা হাঁস সবগুলো শামুক গপগপ করে খেয়ে নিল। খাওয়ার পর সাদা হাঁস ভালো না লাগার অজুহাত দেখিয়ে চলে গেল। কালো হাঁস ঠিকই সাদা হাঁসের চালাকি বুঝতে পারল। সে অনেক কষ্ট পেল। বিষয়টা রাজহাঁসের কানে গেল।
কিছুদিন পর। রাজহাঁসের মাথায় দারুণ একটা খেয়াল চাপল। সে ঠিক করল, হাঁসদের সাঁতার প্রতিযোগিতা দেখবে। যে সাঁতারে প্রথম হবে, তাকে উপহার হিসেবে বড়ো বড়ো একশ শামুক দেওয়া হবে এবং বনফুলের মুকুট পরিয়ে দেওয়া হবে। এ খবর হাঁসদের মাঝে জানিয়ে দেওয়া হলো। সেই কুচকুচে কালো হাঁসটিও এতে অংশ নেবে বলে ঠিক করল। এ কথা শুনে, সুন্দর হাঁসগুলো হেসেই কুটিকুটি। এর কয়দিন পরে, সাঁতার প্রতিযোগিতা শুরু হলো। অন্য হাঁসদের সঙ্গে কালো হাঁসও দ্রুতবেগে সাঁতার কাটতে লাগল। কিন্তু শেষমেশ সে বিজয়ী হতে পারল না। মনের দুঃখে সে কাঁদতে লাগল। এরই মধ্যে ঘুম ভেঙে দেখে এতক্ষণ সে স্বপ্ন দেখছিল। পরের দিন সত্যি সত্যি সে সাঁতার প্রতিযোগিতায় প্রথম হয়। আনন্দে তার চোখে পানি চলে আসে। রাজা তাকে পুরস্কার দেন এবং সবাইকে বলেন, ‘অসুন্দর হলেই কাউকে ছোট ভাবা ঠিক নয়। পৃথিবীতে সবাই সমান। সাদা-কালো কোনো বিষয় নয়, যোগ্যতাই সবাইকে বড়ো করে তোলে।’ এ কথা শুনে অন্য হাঁসরা তাদের ভুল বুঝতে পেরে কালো হাঁসকে বন্ধু করে নিল।