প্রিয়ন্তি বায়না ধরেছে—সে চাঁদ দেখবে। চাঁদের আলো গায়ে মাখবে। পড়া শেষ করে প্রিয়ন্তি তার বাবাকে বলল, ‘বাবা তুমি না বলেছিলে আজ আমাকে চাঁদ দেখাবে?’ বাবা বললেন, নিশ্চয়ই দেখাবো মা। চল এক্ষুনি যাই। প্রিয়ন্তি বাবার হাত ধরে বাড়ির ছাদে উঠল। ছাদের ঠিক দক্ষিণ দিকে বসে প্রিয়ন্তি উজ্জ্বল চাঁদের দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকল। শরতের অপরূপ পূর্ণচাঁদের আলোয় আশপাশের গাছপালা অনেকটাই স্পষ্ট। একটু দূরে ধানখেতের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া নদীর কিনারে সাদা কাশফুল হালকা বাতাসে দোল খাচ্ছে। কাশফুলের ওপর চাঁদের আলো পড়ে ঝলমল করছে। কাশফুলেরা যেন প্রিয়ন্তিকে হাতছানি দিয়ে ডাকছে। কোথাও থেকে ভেসে আসছে ফুলের মিষ্টি ঘ্রাণ। প্রিয়ন্তি খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখছিল প্রকৃতির এই অপরূপ সৌন্দর্য। পূর্ণিমা রাতে সবুজঘেরা এই ছোট শহরের প্রাকৃতিক পরিবেশ প্রিয়ন্তিকে একটা স্বপ্নের ভেতর নিয়ে যায়। হঠাত্ বাবার কথায় ঘোর ভাঙে তার। বাবা জানতে চাইলেন, চাঁদের আলোয় এই প্রাকৃতিক পরিবেশ কেমন লাগছে? প্রিয়ন্তি মন্ত্রমুগ্ধের মতো বলল, ‘অনেক ভালো, অনেক সুন্দর লাগছে বাবা।’ বাবা বললেন, জানিস, চাঁদের এই মোহনীয় রূপ শুধু শরত্কালেই দেখা যায়। কারণ শীতে মেঘ আর কুয়াশার কারণে চাঁদের আলো আমাদের কাছে অতো ভালোভাবে পৌঁছাতে পারে না। প্রিয়ন্তি বাবাকে বলল, ‘বাবা, রূপকথার বইয়ে পড়েছি চাঁদে নাকি মানুষ বসবাস করে! এটা কি সত্যি?’ বাবা একটু হেসে বললেন, ‘না মা, এটা শুধুই রূপকথা। তবে হ্যাঁ, মানুষের অসাধ্য কিছুই নেই। যার প্রমাণ দিয়েছেন মার্কিন নভোচারী নীল আর্মস্ট্রং। মানুষ হিসেবে তিনিই প্রথম চাঁদের মাটিতে পা রাখেন। চাঁদে পাহাড়-পর্বত আছে। চাঁদের মাটি ও পরিবেশ মানুষের বসবাসের উপযোগী কি না তা নিয়ে বিজ্ঞানীরা গবেষণা করছেন।’ সব শুনে প্রিয়ন্তির চোখে মুখে বিস্ময় ফুটে উঠল। সে তার বাবাকে বলল, ‘বাবা, আমি বড়ো চাঁদে যাবো!’ বাবা বললেন, ‘তুমি অবশ্যই চাঁদে যাবে, শুধু চাঁদ নয়, যেতে পারবে অন্য গ্রহগুলোতেও। আর তার জন্য তোমাকে অনেক পড়াশোনা করতে হবে, পড়তে হবে বিজ্ঞান বিষয়ক বই। এখন থেকেই বিজ্ঞানচর্চা শুরু করতে হবে।’ প্রিয়ন্তি তার বাবার কথায় সায় দিয়ে বলল, ‘ঠিক বলেছো বাবা, আমাকে অনেক অনেক পড়াশোনা করতে হবে। বড়ো হয়ে আমি একজন বিজ্ঞানী হবো, পূরণ করব আমার আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন।
দশম শ্রেণি, সরকারি টেক্সটাইল ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট, খুলনা