বৃক্ষটি আট মিটার পর্যন্ত উঁচু হয়। তরুণ কাণ্ড মসৃণ, অর্ধগোলাকার, ধূসর বর্ণের। পাতা সরল, গুচ্ছাকারে সাজানো, অবৃন্তক, প্রায় ডিম্বাকার, গোড়ার দিকে ক্রমশ সরু। আদি নিবাস মধ্য আমেরিকা। তানপুরা ফলের অন্যান্য নাম ডুগডুগি ফল, মহাবেল, বিলেতী বেল ইত্যাদি। বৈজ্ঞানিক নাম Crescentia cujete, Bignoniaceae পরিবারের উদ্ভিদ। ছবিটি গত ১১ জানুয়ারি ময়মনসিংহের বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বোটানিক্যাল গার্ডেন থেকে তোলা।
বেলের মতো দেখতে হলেও ফলটি আদৌ বেল নয়। আমাদের দেশে ফলটিকেও কোথাও তানপুরা ফল, কোথাও ডুগডুগি ফল নামে চিহ্নিত করা হয়। কাঁচা ফলের শরীর মসৃণ ও নরম; মানে নখ বসে যায়। অনেকটা লাউয়ের মতো, আর রং গাঢ় সবুজ। পাকা ফলের খোলস বা বহিরাবরণ শক্ত। কাঁচা অবস্থায় ফলটি কাটলে ভিতরে দুধসাদা শাঁস পাওয়া যায়। ফলটি পেকে গেলে শাঁস কালো ছাইয়ের মতো পদার্থে পরিণত হয়। গাছটি আমেরিকার উষ্ণমণ্ডল তথা দক্ষিণ আমেরিকার স্বাভাবিক উদ্ভিদ। আমাদের দেশেও বিভিন্ন স্থানে গাছটির দেখা মেলে। শোভাবর্ধক বৃক্ষ হিসেবে বৃক্ষপ্রেমীদের স্বীকৃতি পাওয়ায় গাছটি এখন পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়েছে।
বৃক্ষজাতীয় এই গাছটির গড়ন অনেকটা বেলগাছের মতোই। কাণ্ড ও পাতার ধরন প্রায় একই রকম। তবে এই গাছে কাঁটা নেই; পাতায় বা ফলে বেলের বিশেষ গন্ধও নেই। ডাল লাগালে গাছ হয়। আমাদের দেশে বিষাক্ত বলে মনে করা হলেও দক্ষিণ আমেরিকা ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে ফলটির কাঁচা শাঁস জলে ফুটিয়ে রোগ নিরাময়কারী সিরাপ বানানো হয়। এছাড়া বিভিন্ন রোগের প্রতিকারে গাছটির ছাল-পাতা ও শিকড়ের ব্যবহার রয়েছে। ফলটির শক্ত ও মসৃণ খোসা ঘর সাজানোর বিভিন্ন দ্রব্য ও বাদ্যযন্ত্র তৈরির উপযোগী। পৃথিবীর অন্যান্য দেশের মতো আমাদের দেশে ফলটির খোসা বাদ্যযন্ত্র তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। পাকা ফলের খোলস বা বহিরাবরণ শক্ত হওয়ায় এটি ডুগডুগি ছাড়াও নানা শিল্পকর্মে ব্যবহার করা যায়। বাংলাদেশের টিপরা আদিবাসী মস্তিষ্ক বিকৃতির চিকিত্সায় এই ফলের মণ্ড মাথায় প্রলেপ হিসেবে ব্যবহার করে থাকে।