পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, ‘আমাদের সামনের দিনের চ্যালেঞ্জ হচ্ছে ডিজিটাল যুগে বিশ্ব পরিমণ্ডলে সামনের কাতারে থাকা। আমাদের স্বপ্ন হচ্ছে মুজিব বর্ষ ২০২০, ডিজিটাল বাংলাদেশ বর্ষ ২০২১, এসডিজি বর্ষ ২০৩০ ও উন্নত বাংলাদেশ বর্ষ ২০৪১ সালের রূপকল্প বাস্তবায়ন করা। ডিজিটাল যুগে কৃষির অত্যাধুনিকরণের মাধ্যমে এগিয়ে যেতে হবে। এই সব পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ডিজিটাল ক্ষেত্রে বর্তমানে যে বিপ্লব চলছে তা ক্রমে যুগোপযোগী করে অগ্রসর করার ভেতর দিয়েই গড়ে উঠবে তরুণ প্রজন্মের স্বপ্নের ডিজিটাল বাংলাদেশ।’
মন্ত্রী শনিবার তার নিজ নির্বাচনী এলাকা কুমিল্লা-১০ (সদর দক্ষিণ, লালমাই ও নাঙ্গলকোট) সংসদীয় আসনের নাঙ্গলকোট উপজেলার হেসাখাল, মক্রমপুর, ময়ুরা ও পেরিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ শেষে পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী আরো বলেন, ‘দেশে ২০২১-২৩ সালের মধ্যে ৫-জি চালু করা হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবোটিক্স, বিগ ডাটা, ব্লক চেইন, আইওটিসহ ভবিষ্যৎ প্রযুক্তির বিকাশ ঘটানো হবে। ই-পাসপোর্ট এবং ই-ভিসা চালু করা হবে। শিক্ষাকে পর্যায়ক্রমে ডিজিটাল পদ্ধতিতে রূপান্তরের সর্বাত্মক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। আর্থিক খাতের লেনদেনকে ডিজিটাল করা হবে। তথ্যপ্রযুক্তির সফটওয়্যার, সেবা ও ডিজিটাল যন্ত্রের রপ্তানি ৭ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা হবে। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-২ এবং সাবমেরিন ক্যাবল-৩ স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।’
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও খাদ্যে স্বয়ংসম্পন্নতা অর্জনের অভূতপূর্ব সাফল্য বিশ্ববাসীর নজর কেড়েছে। খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও কৃষি পণ্যের রপ্তানি বৃদ্ধি করা টেকসই উন্নয়নের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। এখন খাদ্যোৎপাদন বৃদ্ধি, সবার জন্য খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা বিধানে এগিয়ে যাওয়া আমাদের সুদৃঢ় প্রত্যয়। কৃষি, খাদ্য ও পুষ্টি খাদ্য নিরাপত্তা অর্জনে নিশ্চয়তা অর্জনের লক্ষ্য সবার জন্য পুষ্টিমান সম্পন্ন খাদ্যের যোগান দেয়ার লক্ষ্যে দ্রুত কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও খাদ্যে স্বয়ংসম্পন্নতা অর্জনের সফল ধারা অব্যাহত রাখতে সময়মত মানসম্পন্ন কৃষি উপকরণের উপর ভর্তুকি অব্যাহত রাখা হবে। কৃষিতে শ্রমিক সংকট লাঘবের জন্য সহজে ব্যবহার্য ও টেকসই কৃষি যন্ত্রপাতি সুলভে সহজপ্রাপ্যতা নিশ্চিত করা হবে।’
আরো পড়ুনঃ আফগানিস্তানে সরকারি হামলায় ২৫ তালেবান জঙ্গি নিহত
তিনি বলেন, ‘সহজ শর্তে সময়মত কৃষি ঋণ, বিশেষ করে বর্গাচাষীদের জন্য জামানতবিহীন কৃষি ঋণ প্রদানের ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে। নারী কৃষকদের জন্য গৃহাঙ্গন ও মাঠে ফসল চাষের জন্য কৃষি ঋণ আরো সহজপ্রাপ্য করা হবে। খাদ্যশস্যের পাশাপাশি আলু, শাক-সবজি, তৈলবীজ, মসলা, নানাজাতীয় ফলমূল, ফুল, লতাপাতা-গুল্ম, ঔষধি ও ফসল উৎপাদনে বর্তমানে প্রদত্ত সহযোগিতা অব্যাহত রাখা হবে। এ লক্ষ্যে কৃষি সম্প্রসারণ কার্যক্রমকে আরো শক্তিশালী করা হবে। এসময় মন্ত্রী দেশের উন্নয়নের ধারাবাহিকতাকে অব্যাহত রাখার জন্য নৌকা মার্কায় ভোট চান।’
গণসংযোগকালে মন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন নাঙ্গলকোট, সদর দক্ষিণ উপজেলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ এবং তারা পথসভায় বক্তব্য রাখেন।
ইত্তেফাক/কেকে