দেশে স্থিতিশীলতা থাকলে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় থাকে ----- আনোয়ার হোসেন মঞ্জু

জাতীয় পার্টি-জেপির চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি বলেছেন, দেশে যখন স্থিতিশীলতা থাকে, নৈরাজ্য সৃষ্টি না হয়—তখন উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় থাকে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশে শান্তিপূর্ণ-সুশৃঙ্খল-স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশ বিরাজমান বলে উন্নয়নধারা অব্যাহত রয়েছে। ভালো নেতা হতে হলে ভালোভাবে লেখাপড়া করা শিক্ষার্থীদের আবশ্যকীয় কাজ।  

তিনি গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পিরোজপুর জেলার ইন্দুরকানী উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকার ভবানীপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আরো বলেন, সচেতন নয় বলে আমাদের দেশের মানুষ সরকারের কাজকে নিজের কাজ মনে করে না। নিয়মিত ট্যাক্স-খাজনা দিতেও গড়িমসি করে। নাগরিক দায়িত্ব-কর্তব্য পালনে জনগণের এই নেতিবাচক মনোভাবের কারণে তারা অধিকার ভোগের ক্ষেত্রেও বঞ্চিত হয়। দেশের বার্ষিক বাজেট এখন ৫ লাখ কোটি টাকা। যার মধ্যে আড়াই লাখ কোটি থেকে ৩ লাখ কোটি টাকা ব্যয় হয় সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, কনটেনজেন্সিসহ নানা দাপ্তরিক কাজে। বাকি টাকা খরচ করা হয় উন্নয়ন             খাতে। যা অবশ্যই সার্বিক বিবেচনায় পর্যাপ্ত এবং রাস্তাঘাট, স্কুলকলেজসহ বিভিন্ন অবকাঠামো বিনির্মাণে এই অর্থ ব্যবহূত হয়। জনগণের মধ্যে এই অর্থের সদ্ব্যবহার সম্পর্কে ধারণা থাকা আবশ্যক। সরকার টাকা দিচ্ছে, প্রশাসনের মাধ্যমে অর্থ ব্যয় হচ্ছে; কিন্তু এই ব্যয়ের সঠিক তদারকি না হলে তার সদ্ব্যবহার নিশ্চিত হয় না। তিনি  বলেন, দেশে উন্নয়নের ধারাবাহিকতার স্বার্থে নেতৃত্বের ক্ষেত্রেও ধারাবাহিকতা থাকতে হবে। পাশাপাশি সরকারের জবাবদিহিতা রক্ষার জন্য ভোটের ব্যবস্থা থাকা বাঞ্ছনীয়। ভোটের মধ্যদিয়ে জনগণ তার পছন্দ-অপছন্দ প্রকাশ করতে পারে বলে গণতন্ত্র সুসংহত হয়। আমাদের দেশে অতীতে সরকার পরিবর্তনের পর পূর্ববর্তী সরকারের গৃহীত উন্নয়ন কাজগুলো বন্ধ করার প্রবণতা দেখা যেত। বঙ্গবন্ধু সরকারের কাজগুলো জিয়াউর রহমান, জিয়া সরকারের কাজ এরশাদ, এরশাদ সরকারের কাজ বিএনপি বাতিল করে দিত। এই ধারা একদিকে যেমন রাষ্ট্রীয় সরকারের অপচয় আবার পরস্পরের প্রতিহিংসারও পরিচায়ক, যা বাঞ্ছনীয় নয়। আনোয়ার হোসেন বলেন, সবাইকে আইন মানার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। ইন্দুরকানীসহ কোথাও কোথাও দেখা যায়—খাল দখল করে সরকারি খাসজমি দখল করে উেকাচ দিয়ে অবৈধ অবকাঠামো নির্মাণ করা হচ্ছে। এই প্রবণতা বাঞ্ছিত নয় বলে এ বদঅভ্যাসের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। বর্তমানে ইন্দুরকানী এলাকার নেতৃত্ব খুবই সুন্দর। এখানে নেতৃত্বের মধ্যে সৌহার্দ সৃষ্টি হচ্ছে। নেতৃত্বের মধ্যে শৃঙ্খলা-শান্তি-ঐক্য-সমঝোতা না থাকলে উন্নয়ন ব্যাহত হয়। অতি অল্প সময়ের মধ্যে ইন্দুরকানী উপজেলায় যতটুকু উন্নয়ন কাজ হয়েছে, অন্যান্য এলাকায় দীর্ঘ সময়ও এরকম কাজ হয় না। এলাকার নেতৃত্ব সচেতন হয়ে ওঠায় এই প্রণিধানযোগ্য উন্নয়নকাজ সম্পাদন সম্ভব হচ্ছে। জনগণও সচেতনতার সঙ্গে একতাবদ্ধ হলে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সাধিত হবে। পাশাপাশি প্রশাসন ও নেতাদের মধ্যেও পারস্পরিক বোঝাপড়ার সম্পর্ক থাকা আবশ্যক। তিনি ছাত্রদের উদ্দেশে বলেন, শুধু স্লোগান দিলে বা গতানুগতিক রাজনীতি আঁকড়ে ধরে থাকলে চলবে না, নতুন প্রজন্মকে আগামী দিনের দেশ পরিচালনার জন্য নিজেদের যোগ্য, দক্ষ ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসাবে গড়ে তুলতে হবে। আর এই সব বৈশিষ্ট্য অর্জনের জন্য লেখাপড়ার কোনো বিকল্প নেই।  

এখানে তিনি ভবানীপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বমুখী ভবনের নির্মাণকাজের শুভ উদ্বোধন করেন। এ সময় দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। এছাড়া বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তিনি যোগদান করেন। বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি আবদুল কাদের ফকিরের সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. মতিউর রহমান অ্যাডভোকেট, ভাণ্ডারিয়া উপজেলা জেপির সদস্যসচিব ও ধাওয়া ইউপি চেয়ারম্যান সিদ্দিকুর রহমান টুলু, ভবানীপুর হিলফুল ফুজুল টেকনিক্যাল ও বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজের অধ্যক্ষ কামরুল আহসান ইব্রাহিম ও আওয়ামী লীগ নেতা বজলুর রহমান মিন্টু। অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন ইন্দুরকানী উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান রুহুল আমীন বাগা, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান দিলরুবা মিলন নাহার, পত্তার্শী ইউপি চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন হাওলাদার, বালিপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান কবির হোসেন বয়াতী, ইন্দুরকানী উপজেলা জাতীয় পার্টি-জেপির সদস্যসচিব মো. শাহীন হাওলাদার প্রমুখ। আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে ইন্দুরকানী উপজেলা সদরে সেতারা স্মৃতি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় আয়োজিত শীতকালীন পিঠা উত্সব উদ্বোধন করেন। এ সময় তিনি স্কুলের ছাত্রীদের তৈরি পিঠার স্টল ঘুরে দেখেন। এ সময় বিদ্যালয়ের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান একরামুল কবির তালুকদার মজনু, প্রধান শিক্ষক সাবেরা সুলতানা প্রমুখ আনোয়ার হোসেন মঞ্জুকে স্বাগত জানান। এর আগে তিনি ইন্দুরকানী বাজারে চারাখালী খালের ওপর এলজিইডির নির্মাণাধীন সেতুর কাজ পরিদর্শন করেন। 

গতকাল আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি ইন্দুরকানী সফরকালে তার সঙ্গে ছিলেন ভাণ্ডারিয়া উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা জেপির যুগ্ম আহ্বায়ক মশিউর রহমান মৃধা, উপজেলা জেপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম সরওয়ার জমাদ্দার, উপজেলা জেপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও গৌরীপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো. মজিবুর রহমান চৌধুরী প্রমুখ।