অভিজ্ঞতা-তারুণ্যে বাংলাদেশের জয়ের ছক

পাকিস্তান সফরে বাংলাদেশ দলে বঙ্গবন্ধু বিপিএলের প্রভাব স্পষ্ট। সদ্য সমাপ্ত টুর্নামেন্টের পারফরমাররা সুযোগ পেয়েছেন তিন ম্যাচের টি-২০ সিরিজের দলে। যেখানে এক ঝাঁক তরুণ ক্রিকেটার রয়েছেন। এসব তরুণের ওপর বড়ো নির্ভরতা বাংলাদেশ অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের। বিপিএলের মতোই পাকিস্তানের মাটিতে নিজেদের মেলে ধরবেন তরুণরা—এমনটাই আশা মাহমুদউল্লাহর। মুশফিকুর রহিম না থাকলেও অভিজ্ঞ তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, রুবেল হোসেনরা আছেন দলে।

অভিজ্ঞ-তরুণদের সমন্বয়েই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে জয়ের ছক কষছে বাংলাদেশ। আজ লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে প্রথম টি-২০ ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টায়। একই ভেন্যুতে আগামীকাল সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।

বিপিএলে পারফরম করছেন আফিফ হোসেন ধ্রুব, নাঈম শেখরা। লেগ স্পিনার আমিনুল ইসলাম বিপ্লব, দ্রুতগতির পেসার হাসান মাহমুদ রয়েছেন দলে। তরুণদের ভয়ডরহীন ক্রিকেটের অপেক্ষায় মাহমুদউল্লাহ। গতকাল লাহোরে ম্যাচ-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ অধিনায়ক বলেছেন, ‘বিপিএল যদি দেখে থাকেন, সেখানে পারফরম করা দারুণ একঝাঁক তরুণ আছে আমাদের। ঐ তরুণদের ওপর আমরা নির্ভর করব। এই তরুণরা ঘরোয়া ক্রিকেট ও বিপিএলে পারফরম করেছে। তাদের সামনে এটি ভালো সুযোগ নিজেদের মেলে ধরার। আমার ধারণা, এরা সুযোগের জন্য মুখিয়ে আছে।’

মুশফিক না থাকলেও বাংলাদেশ দলে অভিজ্ঞতা-তারুণ্যের মিশেল রয়েছে। দলগতভাবে ভালো কিছু করা সম্ভব বলেই মনে করেন মাহমুদউল্লাহ। তিনি বলেছেন, ‘অভিজ্ঞ ক্রিকেটাররাও আছে দলে; আমি, সৌম্য, তামিম, মুস্তাফিজ, রুবেল অনেক দিন থেকে খেলছি। আল আমিন, শফিউলরাও। আমার মনে হয়, তারুণ্য ও অভিজ্ঞতার দারুণ মিশ্রণ আছে আমাদের। এখন প্রয়োজন ব্যক্তিগত ও দলগতভাবে আমাদের খেলা নিয়ে ভাবা। তাহলে ভালো পারফরম্যান্স সম্ভব।’

এই সফরে ব্যাট-বলের লড়াইয়ের চেয়ে নিরাপত্তা ইস্যুই বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। লাহোরে কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনীর মাঝে আছে বাংলাদেশ দল। মাহমুদউল্লাহ অবশ্য নিরাপত্তার দুর্ভাবনা নিয়ে থাকতে রাজি নন। তিনি ক্রিকেট নিয়েই ভাবছেন।

বাংলাদেশ অধিনায়ক বলেছেন, ‘বিমানে ওঠার সময়ই আমরা তা (দুর্ভাবনা) ফেলে এসেছি, বাংলাদেশেই রেখে এসেছি। আমরা কেবল পাকিস্তানে ভালো ক্রিকেট খেলা নিয়েই ভাবছি। ভালো পারফরম করতে মুখিয়ে আছি আমরা।’

পাকিস্তানের দেওয়া নিরাপত্তাব্যবস্থা অতীতে দেখেননি বলে স্বীকার করেছেন মাহমুদউল্লাহ। তিনি বলেছেন, ‘এমন অভিজ্ঞতা আমার আগে কখনো হয়নি। পাকিস্তান সর্বোচ্চ নিরাপত্তাই দিচ্ছে আমাদের। তাদের সব আয়োজন নিয়ে আমি খুশি।’

আন্তর্জাতিক টি-২০তে বাংলাদেশ-পাকিস্তানের সাক্ষাত্ হয়েছে ১০ বার। পাকিস্তান আটটি ও বাংলাদেশ দুটি ম্যাচ জিতেছে। আশার কথা, শেষ তিন ম্যাচে দুইবার পাকিস্তানকে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। তবে পাকিস্তানের মাটিতে দুই দলের একমাত্র সাক্ষাতে জয়ের অভিজ্ঞতা আছে পাকিস্তানের।

হোম সিরিজে আমির-ওয়াহাব রিয়াজের মতো অভিজ্ঞ পেসারকেও দলে রাখেনি পাকিস্তান। মাহমুদউল্লাহ বলেছেন, প্রতিপক্ষ নিয়ে ভাবছে না তার। বরং নিজেদের সেরাটা কীভাবে খেলা যায় তা নিয়েই মনোযোগী বাংলাদেশ।

গতকাল টি-২০ অধিনায়ক বলেছেন, ‘আমি সেভাবে ভাবছি না। আমির ও ওয়াহাব অবশ্যই অনেক অভিজ্ঞ বোলার, তবে এটি পাকিস্তানের অন্যদের জন্যও বড়ো সুযোগ। আমরা ওসব নিয়ে ভাবছি না। আমাদের মনোযোগ নিজেদের শক্তি-দুর্বলতার দিকে, কীভাবে আমরা ভালো পারফরম করতে পারি।’