বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) খেলার সুবাদে বর্তমান সময়ের প্রায় সব বাংলাদেশি ক্রিকেটারের সঙ্গে কমবেশি যোগাযোগ, কথাবার্তা হয়েছে শোয়েব মালিকের। অনেকেই পাকিস্তান সফরের আগে তার কাছে দেশটির অবস্থা জানতেও চেয়েছেন। কিন্তু এর মধ্যেই পাকিস্তান সফরে যাননি মুশফিকুর রহিম। এই ব্যাপারটা কষ্ট দিয়েছে সাবেক অধিনায়ক মালিককে। তিনি মুশফিককে একবার হলেও পাকিস্তানে ঘুরে যাওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। সেই সঙ্গে তিনি বলছিলেন, শক্তিশালী এই বাংলাদেশ দলকে সমীহ না করে উপায় নেই।
বর্তমান পাকিস্তান দলের মধ্যে বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের শোয়েব মালিকই সবচেয়ে ভালো চেনেন। মাত্র এক সপ্তাহ আগেই তিনি বিপিএল জয়ী রাজশাহী রয়্যালসের হয়ে অভিযান শেষ করে গেছেন। তার নিজেরও টুর্নামেন্টটা ভালো কেটেছে। ৪৫৫ রান নিয়ে তিনি টুর্নামেন্টের চতুর্থ সর্বোচ্চ স্কোরার ছিলেন।
মালিক বলছিলেন, বাংলাদেশের অনেক খেলোয়াড়ই এই টুর্নামেন্ট চলা অবস্থায় তার সঙ্গে পাকিস্তান সফর নিয়ে কথা বলেছেন। তিনি তার মতো করে সবাইকে আশ্বস্ত করেছেন বলে বলছিলেন, ‘খেলোয়াড়রা আমাকে জিজ্ঞেস করছিল, আমরা যখন পাকিস্তানে বিভিন্ন লিগ খেলি বা এমনিতে থাকি, তখন এখানকার পরিবেশ কেমন থাকে। আমি বলেছি, পাকিস্তানে তোমরা যে নিরাপত্তা পাবে, সেটা আর কোথাও পাবে না। কিছু বাংলাদেশি খেলোয়াড় এখানকার নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন করেছে। আমি ওদের বলেছি যে, এখানে একবার এসে নিজেরাই দেখে যাও।’
এর মধ্যে মুশফিকের দলের বিপক্ষে কয়েক বার খেলতে হয়েছে মালিককে। এ সময় কথাবার্তাও হয়ে থাকতে পারে। শোয়েব বলছিলেন, মুশফিককে তিনি এখানে আসার আমন্ত্রণ জানাতে চান। আর তার বিশ্বাস বর্তমানে পাকিস্তান সফররত দলটা দেশে ফিরে বাকিদের সঙ্গে কথা বলার পর সবার মন বদলে যাবে, ‘একমাত্র মুশফিক ব্যক্তিগত কারণে এখানে আসেনি। আমি ওকে বলতে চাই যে, প্লিজ পরের বার এসো এবং নিজে পরিস্থিতি দেখে যাও। আর বাংলাদেশ দলটা যে এসেছে এবং এরা এখানে পরিবেশ দেখে ফিরে যাবে। আমি নিশ্চিত এরা দেশে ফিরে যারা আসেনি, তাদের পরের দফায় আসতে রাজি করাতে বড়ো ভূমিকা রাখবে।’
বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের সম্পর্কে অনেকদিন ধরেই ভালো করে জানেন মালিক। এই দেশে বিপিএল, ঢাকা লিগ খেলছেন তিনি অনেকদিন ধরে। সেই অভিজ্ঞতা থেকে বলছিলেন, বাংলাদেশের বিপক্ষে এই সিরিজটা খুব কঠিন একটা সিরিজ হবে পাকিস্তানের জন্য, ‘বাংলাদেশ শক্তিশালী একটা দল নিয়ে এসেছে। ওদের সিস্টেমটা এখন কয়েক বছর ধরে অনেক শক্তিশালী। ওদের খুব ভারসাম্যপূর্ণ একটা দল এসেছে এখানে। আপনি যদি টি-টোয়েন্টি দলের দিকে দেখেন, আমরা বেশ কিছু অভিজ্ঞ খেলোয়াড়কে হারিয়েছি। তবে বাবর আজম আছে। আমি বাইরের লিগগুলোতে গেলে ওর অনেক প্রশংসা শুনি। আমি নিশ্চিত অন্য খেলোয়াড়রাও যখন নিয়মিত সুযোগ পাবে, তারাও ভালো পারফরম করবে।’
এবার বিশ্বকাপের পর পাকিস্তানের সবচেয়ে অভিজ্ঞ এই অলরাউন্ডারের শেষ দেখে ফেলেছিলেন অনেক। কেন্দ্রীয় চুক্তিতেও জায়গা হয়নি তার। ২০১৯ সালের শুরুর দিক থেকে আর টি-টোয়েন্টিতে আর ডাক পাননি। কিন্তু বাংলাদেশের বিপক্ষে ডাক পাওয়ায় অনেকে মালিকের ক্যারিয়ারের পুনর্জন্ম দেখতে পাচ্ছেন।