স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, তামাকজনিত বিভিন্ন রোগে প্রতি বছর দেশে ১ লাখ ৬১ হাজার জনের মৃত্যু হয়। আর তামাকজনিত রোগব্যাধি ও অকাল মৃত্যুর কারণে বাংলাদেশে প্রতি বছর ৩০ হাজার ৫৭০ কোটি টাকা ব্যয় হয়।
গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এ তথ্য জানান। সরকারি দলের সদস্য বেগম শামসুন নাহারের প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরো জানান, দেশে বর্তমানে প্রাপ্ত বয়স্ক ১৫ লাখের অধিক নারী ও পুরুষ এবং ৬১ হাজারের বেশি শিশু আত্মঘাতি বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত। ঐ সকল রোগ থেকে রক্ষায় তামাক নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যানবাহন, রেল স্টেশন ও বিভিন্ন জনসমাবেশস্থলে ও গণপরিবহনে ধূমপান নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
একই প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানিয়েছেন, আগামী ২০৪০ সালের মধ্যে দেশকে তামাকমুক্ত করার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একটি ঘোষণা দিয়েছেন। ইতিমধ্যে এসডিজি অর্জনের লক্ষ্যকে সামনে রেখে একটি রোড ম্যাপ প্রণয়ন করা হয়েছে।
সরকারি দলের মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে জাহিদ মালেক বলেন, ২০১৯ সালে মিটফোর্ডসহ সারাদেশে নকল-ভেজাল ওষুধ উত্পাদন ও বিক্রির দায়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতে ২ হাজার ১৪৫টি মামলা দায়ের করে ১২ কোটি ৪১ লাখ ৬ হাজার ৪৮৪ টাকা জরিমানা, ৩৯ জনকে কারাদণ্ড, ৪৪টি প্রতিষ্ঠান সিলগালা করা হয়েছে।
সরকারি দলের সদস্য গ্লোরিয়া ঝর্ণা সরকারের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক, চেম্বারে ডাক্তারদের রোগী দেখা বাবদ ফি আদায়ের বিষয়ে একটি নীতিমালা প্রণয়নের ব্যাপারে চিন্তাভাবনা চলছে।
বিএনপির রুমিন ফারহানার প্রশ্নের জবাবে জাহিদ মালেক বলেন, দেশে বর্তমানে ৭০টি বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ রয়েছে।
নিরাপদ স্যানিটেশন নিয়ে আলোচনা
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, জিডিপির মাত্র ১ ভাগ বাজেট দিয়ে স্বাস্থ্য সেক্টরে আগের চেয়ে অনেক বেশি উন্নতি হয়েছে। বাজেট বাড়লে আরো বেশি সেবা দেওয়া সম্ভব। এক সময় টয়লেটের ব্যবস্থা ছিল না। এখন টয়লেট, ওয়াশ, নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশনের কথা বলা হচ্ছে। আগে মানুষ হাসপাতালে যেতে চাইতো না। এখন প্রতিদিন কমপক্ষে দেড় হাজার মানুষ স্বাস্থ্য সেবা নিতে ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে আসে।
গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে দৈনিক ভোরের কাগজ কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে ‘বাংলাদেশের হাসপাতালগুলোতে নিরাপদ পানি এবং স্যানিটেশন ব্যবস্থা নিশ্চিতের মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট-৬ অর্জন’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। এনজিও ফোরাম ফর পাবলিক হেল্থ ও ভোরের কাগজ যৌথভাবে এই সভার আয়োজন করে।
জাহিদ মালেক বলেন, স্বাস্থ্য খাতে সিস্টেমের সমস্যা আছে। যারা সেবা দেবেন তারা হাসপাতালে উপস্থিত থাকেন না। নিরাপদ স্যানিটেশনের ব্যবস্থা থাকলেও রক্ষণাবেক্ষণের দুর্বলতা আছে। অনেকে টয়লেটের ব্যবহার জানে না। পয়ঃনিষ্কাশনের ভালো ব্যবস্থা নেই। এসব সমস্যা দূর করতে সরকার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সুফল আস্তে আস্তে আসবে।
সভাপতির বক্তব্যে ভোরের কাগজ সম্পাদক শ্যামল দত্ত বলেন, হাসপাতালগুলোতে স্বাস্থ্যসম্মত সব ব্যবস্থা থাকতে হবে। হাসপাতালের টয়লেটগুলো নারীবান্ধব ভাবে তৈরি করতে হবে।
এনজিও ফোরামের নির্বাহী পরিচালক এস এম এ রশীদ বলেন, উপজেলা, ইউনিয়ন ও কমিউনিটি ক্লিনিক, দুর্গত ও দুর্যোগপূর্ণ এলাকাগুলোতে স্বাস্থ্যসেবা অনেক পিছিয়ে আছে। আমরা এমডিজি বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতার আলোকে সব জায়গায় সেবার মান বাড়াতে কাজ করছি।