প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে চীনের শহর উহানসহ পাশের আরো একটি নগরীকে কার্যত এখন বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ এই দুটি নগরী থেকে বহির্গামী সব বাস-ট্রেন এবং বিমান চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। উহান শহরের মেয়র এই বলে কর্মকর্তাদের সমালোচনা করেছেন যে তারা এই ভাইরাস যে কতটা ঝুঁকিপূর্ণ, তা মোটেই উপলব্ধি করতে পারেননি।
করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত অন্তত ২৫ জন মারা গেছে এবং আরো ছয় শতাধিক মানুষ এতে আক্রান্ত হয়েছে। এই ভাইরাসে আক্রান্ত হলে এখনো পর্যন্ত কোনো চিকিত্সা নেই, তাই এটি প্রতিরোধের ওপরেই সর্বাত্মক জোর দেওয়া হচ্ছে। দমবন্ধ পরিস্থিতি দেখে উহানের একজন বাসিন্দা বলেছেন, পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে, এই পৃথিবী বুঝি এখানেই শেষ হয়ে গেল। অনেক গবেষক বলছেন, সম্ভবত এই ভাইরাসটি সাপ থেকে এসেছে।
মানুষ থেকে মানুষে :ভাইরাসটির প্রকোপ দেখা দেওয়ার পর ধারণা করা হয়েছিল এটি শুধু প্রাণীর কাছ থেকে ছড়াতে পারে। কিন্তু পরে এই ভাইরাস একজন মানুষের কাছে আরেকজন মানুষের শরীরেও সংক্রমণের প্রমাণ পাওয়া গেছে। তবে এটি কীভাবে মানবদেহ থেকে আরেক মানবদেহে ছড়ায় সেটি এখনো রহস্য হিসেবেই রয়ে গেছে। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর কাছ থেকে এটি তার পরিবারের সদস্য এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যেও ছড়িয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
সব পরিবহন বন্ধ :বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সকাল ১০টা থেকেই বিশাল এই নগরীর গণপরিবহন ব্যবস্থা বন্ধ করে দেওয়া হয়। ব্যস্ত বাস ও ট্রেন স্টেশন এবং বিমানবন্দরগুলো ছিল ফাঁকা, জনশূন্য। শহরের লোকজনকে আগেই বাধ্যতামূলকভাবে মাস্ক পরে চলাফেরা করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। শহরে গ্লাভস ও মাস্কের চাহিদা হুট করেই মারাত্মকভাবে বেড়ে গেছে। রাজধানী বেইজিংয়েও লোকজন মুখোশ পরে বাইরে বের হচ্ছেন সতর্কতা হিসেবে। উহানের পার্শ্ববর্তী নগরী হুয়াংগাংয়েও একই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কফি শপ, সিনেমা হল, থিয়েটার এবং সব ধরনের প্রদর্শনী বন্ধ রাখা হয়েছে দুটো শহরেই। এঝো, শিয়ানতাও ও চিবি নামের আরো তিনটি শহরেও যথাক্রমে রেল স্টেশন, সমাবেশ ও গণপরিবহন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের খোঁজ মিলেছে থাইল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং তাইওয়ানেও। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বুধবার থেকে জরুরি বৈঠকে বসেছে কীভাবে এই ভাইরাসের বিস্তার ঠেকানো যায় তা নিয়ে কথা বলতে। জানা গেছে, ভাইরাসটি মানুষের ফুসফুসে আক্রমণ করে। এর ফলে শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়।