ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বিদ্যমান সম্পর্ককে ‘রক্তের রাখিবন্ধন’ বলে অভিহিত করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। ভারতীয় ঋণের আওতায় নেওয়া দুটি প্রকল্প বাস্তবায়নে গতকাল বৃহস্পতিবার ভারতীয় ঠিকাদারের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে তিনি এই মন্তব্য করেন। ঢাকার র্যাডিসন হোটেলে এই অনুষ্ঠানে ভারতের হাইকমিশনার রীভা গাঙ্গুলি দাশও ছিলেন।
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক মহান মুক্তিযুদ্ধের রক্তের রাখিবন্ধনে আবদ্ধ। আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারত যে সারা দুনিয়ায় সলিডারিটি ক্যাম্পেইন করেছে, তা আমাদের ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে আছে।’ তিনি বলেন, ‘?মুক্তিযুদ্ধ শেষে চলমান সম্পর্কে কখনও কখনও টানাপোড়েনও ছিল। কিন্তু একথা আজ অস্বীকার করার উপায় নেই যে, দ্বিপাক্ষিক অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে আমরা সেই সম্পর্ক এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছি। আমাদের পারস্পরিক অবিশ্বাসের যে দেয়াল ছিল তা আমরা ভেঙে ফেলেছি। সম্পর্কের নতুন যাত্রা আমরা শুরু করেছি। দুই প্রধানমন্ত্রীর বোঝাপড়াও খুবই ভালো।’
ভারতের হাইকমিশনার সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, ‘ভারত বর্তমানে বাংলাদেশকেই সর্বোচ্চ সহযোগিতা দিচ্ছে।’ অনুষ্ঠানে ভারতীয় দ্বিতীয় লাইন অব ক্রেডিটের (এলওসি) আওতায় একটি প্রকল্পের দুই প্যাকেজের বিজয়ী দরদাতা ভারতীয় কোম্পানি এফকন্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেডের সঙ্গে চুক্তি সই হয়। রীভা গাঙ্গুলি বলেন, যথাযথভাবে মানসম্পন্ন উপায়ে এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে বলে আমার বিশ্বাস।
চুক্তিকৃত প্রকল্পটি হচ্ছে—আশুগঞ্জ নদীবন্দর-সরাইল-ধরখার-আখাউড়া স্থলবন্দর মহাসড়ককে চার লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্প। এ প্রকল্পে মোট ব্যয় হবে ৩ হাজার ৫৬৭ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। এরমধ্যে ভারতীয় দ্বিতীয় এলওসি থেকে জোগান দেওয়া হবে ২ হাজার ২৫৫ কোটি ৭৭ লাখ টাকা আর বাংলাদেশ সরকারের তহবিল থেকে জোগান দেওয়া হবে ১ হাজার ৩১২ কোটি টাকা। এছাড়া ভারতীয় কোম্পানি জেভি অব রাইটেসের সঙ্গে ১১৭ কোটি টাকার কনসালটেন্সি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব নজরুল ইসলাম, ভারতীয় এক্সিম ব্যাংক, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এবং সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।