এক কৃষক তার গাধাটি বিক্রি করার জন্যে নিজের ছেলেসহ বাজারের দিকে যাচ্ছিল। যেতে যেতে ভাবল পশুটিকে ভালো অবস্থায় রাখতে পারলে ভালো দাম পাওয়া যাবে। তাই তারা পশুটিকে একটি শকটে চড়িয়ে বাজারের দিকে নিয়ে যাচ্ছিল। কয়েকজন পথচারী ব্যাপারটি লক্ষ করল।
তারা কৃষককে শুনিয়ে চেঁচিয়ে বলল, ‘দেখ, দেখ, কী অদ্ভুত দৃশ্য! ওরা গাধায় না চড়ে উলটো গাধাটিকে শকটে চড়িয়ে নিয়ে যাচ্ছে। তোমরা এর আগে কি কখনো অমন দৃশ্য দেখেছ?’
শুনে কৃষক থামল এবং কিছুক্ষণ চিন্তা করল। এরপর গাধাটিকে শকট থেকে ছাড়িয়ে নিল এবং তার পিঠে আরোহন করল। ছেলেটি পায়ে হেঁটে পিছু-পিছু চলল।
এবার কয়েকজন মহিলা তাদের দিকে তাকিয়ে বলতে লাগল, ‘ঐ বলবান লোকটির দিকে চেয়ে দেখো। সে আরাম করে গাধায় চড়ে যাচ্ছে। আর বেচারা ছেলেটি যাচ্ছে কষ্ট করে পায়ে হেঁটে।’
শুনে আবারও কৃষক থমকে দাঁড়াল। এবারে সে গাধার পিঠ থেকে নেমে ছেলেকে গাধার পিঠে বসাল এবং নিজে পায়ে হেঁটে চলল।
এবারে অন্য ক’জন পথিক চেঁচিয়ে বলল, ‘দেখ, কেমন লজ্জার বিষয়! ছেলে গাধায় চড়ছে আর বেচারা বুড়োটাকে কষ্ট করে পায়ে হেঁটে যেতে হচ্ছে।’
অতঃপর কৃষক সিদ্ধান্ত নিল, বাপ-বেটা দুজনই গাধার পিঠে চড়বে। চলতে গিয়ে কিছুক্ষণ পর আবারও পথচারীদের চেঁচামেচি শোনা গেল, ‘ছি-ছি, কী লজ্জা! দোহাই লাগে, তোমরা অসহায় গাধাটিকে দয়া কর। দেখছ না, অমন ভারী বোঝা বহন করতে যে তার প্রাণ বেরিয়ে যাবার জোগাড় হয়েছে!’
এবারে কৃষক তার ধৈর্য হারিয়ে ফেলল। রাগে সে চিত্কার করে বলল, ‘অনেক হয়েছে। আমি আর কারো কথা শুনব না। আমি যা ভালো বুঝি তা-ই করব।’ একথা বলে তারা দুজনে গাধার পিঠে চড়ে হাটের পথে চলল।
প্রাচীন ভারতীয় উপকথা অবলম্বনে