স্পোর্টস রিপোর্টার
পাকিস্তান সফরে নিরাপত্তা নিয়ে সংশয়ের কারণে যেতে পারেননি মুশফিকুর রহিম। কিন্তু নিজেই বলেছেন, পাকিস্তানে যেতে না পারলেও তার মন পড়ে আছে দলের সঙ্গে। একই অনুভূতি নিশ্চয়ই সাকিব আল হাসানেরও। দলও সাকিব-মুশফিক না থাকায় নিশ্চয়ই তাদের খুব করে মিস করছে। কারণ, এই দুই জনকে ছাড়াই টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের এই প্রথম হচ্ছে।
২০০৬ সালের ২৮ নভেম্বর খুলনায় জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে নিজেদের ইতিহাসের প্রথম টি-টোয়েন্টি খেলেছিল বাংলাদেশ। সে দিন দলে ছিলেন সাকিব আল হাসান ও মুশফিকুর রহিম দুই জনই। সেই থেকে গতকালকের আগ পর্যন্ত বাংলাদেশ ৯২টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছে। এর প্রতিটিতেই সাকিব বা মুশফিক কেউ না কেউ ছিলেন। গতকালই প্রথমবারের মতো সাকিব-মুশফিককে ছাড়া টি-টোয়েন্টি খেলতে নামল বাংলাদেশ।
এই সিরিজটা কতটা মিস করছেন, সেটা বলতে গিয়ে ফেসবুক স্ট্যাটাসে মুশফিকুর রহিম লিখেছেন, ‘শেষবার কবে দেশের খেলা টেলিভিশনে দেখেছি তা মনে নেই। দলের সঙ্গে না গেলেও সব সময় সতীর্থদের পাশে আছি। জয় নিয়ে দেশে ফিরে আসবে এই কামনা করি।’
সাকিব অভিষেক টি-টোয়েন্টি খেলার পর গতকালকের আগ পর্যন্ত বাংলাদেশের ১৭টি টি-টোয়েন্টি মিস করেছেন চোট, নিষেধাজ্ঞা ও বিশ্রামের কারণে। ২০০৭ সালেই বাংলাদেশের দ্বিতীয় ও তৃতীয় ম্যাচ মিস করেন তিনি; ছিলেন না কেনিয়ায় অনুষ্ঠিত চার জাতি টুর্নামেন্টে। এরপর ২০১২ সালে এসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে একটি ম্যাচ খেলতে পারেননি। ২০১৩ সালে দুটি ম্যাচ মিস করেছিলেন সাকিব। ২০১৪ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে পরিত্যক্ত ম্যাচে ছিলেন না তিনি। এরপর ২০১৫ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ঢাকায় দুটি ম্যাচ মিস করেন। ২০১৮ সালে পাঁচটি টি-টোয়েন্টি খেলতে পারেননি সাকিব আঙুলের ইনজুরির কারণে। আর ২০১৯ সালের শেষ দিকে ভারত সফরের তিনটি ম্যাচ মিস করেছেন আইসিসির দেওয়া নিষেধাজ্ঞায়।
মুশফিক ২০০৮ সালে এসে পাকিস্তানের বিপক্ষে একটি টি-টোয়েন্টি মিস করেন; সেটা ছিল তার প্রথম আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি মিস। এরপর ২০১৪ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দুটি এবং ২০১৬ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দুটি ম্যাচ মিস করেন মুশফিক। ২০১৭ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজটা মিস করেছিলেন ইনজুরির কারণে।
স্কোর কার্ড
বাংলাদেশ ইনিংস
রান বল চার ছয়
তামিম ইকবাল রান আউট (রউফ/রিজওয়ান) ৩৯ ৩৪ ৪ ১
মোহাম্মদ নাইম ক ইফতেখার ব শাদাব ৪৩ ৪১ ৩ ২
লিটন দাস রান আউট (শাদাব) ১২ ১৩ ২ ০
মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ অপরাজিত ১৯ ১৪ ২ ০
আফিফ হোসেন বোল্ড ব রউফ ৯ ১০ ০ ০
সৌম্য সরকার বোল্ড ব আফ্রিদি ৭ ৫ ১ ০
মোহাম্মদ মিঠুন অপরাজিত ৫ ৩ ১ ০
অতিরিক্ত (লে বা-৩, ও-৪) ৭
মোট (২০ ওভার) ১৪১/৫
উইকেট পতন:
১/৭১ (তামিম), ২/৯৮ (লিটন), ৩/৯৮ (নাইম), ৪/১১৯ (আফিফ), ৫/১২৮ (সৌম্য)
পাকিস্তান বোলিং:
ইমাদ ওয়াসিম : ৩-০-১৫-০ (ও-১), শাহীন শাহ আফ্রিদি : ৪-০-২৩-১, মোহাম্মদ হাসনাইন : ৪-০-৩৬-০, হারিস রউফ : ৪-০-৩২-১ (ও-১). শোয়েব মালিক : ১-০-৬-০, শাদাব খান : ৪-০-২৬-১ (ও-২)
পাকিস্তান ইনিংস : রান বল চার ছয়
বাবর আজম ক লিটন ব শফিউল ০ ২ ০ ০
আহসান আলী ক অতি (শান্ত) ব আমিনুল ৩৬ ৩২ ৪ ০
মোহাম্মদ হাফিজ ক আমিনুল ব মুস্তাফিজুর ১৭ ১৬ ৩ ০
শোয়েব মালিক অপরাজিত ৫৮ ৪৫ ৫ ০
ইফতেখার আহমেদ ক লিটন ব শফিউল ১৬ ১৩ ২ ০
ইমাদ ওয়াসিম বোল্ড ব আল-আমিন ৬ ৪ ১ ০
মোহাম্মদ রিজওয়ান অপরাজিত ৫ ৫ ০ ০
অতিরিক্ত (লে বা-১, ও-৩) ৪
মোট (১৯.৩ ওভার) ১৪২/৫
উইকেট পতন:
১/০ (বাবর), ২/৩৫ (হাফিজ), ৩/৮১ (আহসান), ৪/১১৭ (ইফতেখার), ৫/১৩৩ (ইমাদ)
বাংলাদেশ বোলিং :
শফিউল ইসলাম : ৪-০-২৭-২ (ও-২), মুস্তাফিজুর রহমান : ৪-০-৪০-১ (ও-১), আল-আমিন হোসেন : ৪-০-১৮-১, সৌম্য সরকার : ২.৩-০-২২-০ (ও-১), আমিনুল ইসলাম : ৪-০-২৮-১, আফিফ হোসেন : ১-০-৬-০।