ড্রেসিং রুমে
জেমি ডে
সোহেল সারোয়ার
বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ ফুটবলের সেমিফাইনালে বুরুন্ডির কাছে ৩-০ হারের পর ড্রেসিং রুমে ক্ষোভ ঝেড়েছেন বাংলাদেশ দলের ইংলিশ কোচ জেমি ডে। খেলোয়াড়দের ওপর ক্ষিপ্ত হয়েছেন কোচ। ড্রেসিং রুমে কি কথা হয়েছিল তা নিয়ে মুখ খুলতে রাজি না কেউ। খেলোয়াড়রা কটু কথা শুনেছেন এটা প্রকাশ করতেও রাজি না।
সাধারণ মানুষ জানুক কি হয়েছে তা নিয়ে আর লজ্জা পেতে চান না খেলোয়াড়রা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক সূত্রে জানা গেছে কোচ জেমি একাই অনেকটা সময় কথা বলে গেছেন। খেলোয়াড়দের উদ্দেশ্যে বলেছেন তোমরা মাথা নিচু করে দিয়েছ। আজকে তোমরা মাথা উঁচু করে চলতে পারতে। তোমরা রাজার মতো চলতে পারতে। আমরাও রাজার মতোই চলতে পারতাম। কিন্তু সবকিছু নষ্ট করে দিয়েছ। মাথাটা নিচু করে দিয়েছ। হোটেল থেকে যখন বেরিয়ে যাবে তখন অন্যদের মাথা উঁচুই থাকবে। তোমার আমার মাথা নিচু থাকবে।
অসুস্থতা, ইনজুরি, লালকার্ড—এই সব ফাঁদে পড়ে বাংলাদেশ ফুটবল দলটা ছিল একটা ভঙ্গুর অবস্থায়। শক্তিশালী বুরুন্ডির বিপক্ষে পূর্ণাঙ্গ শক্তি নিয়ে বাংলাদেশ লড়াই করতে পারেনি। সেমিফাইনালে নেমেই ৫ মিনিটে স্ট্রাইকার মতিন মিয়াকে মাঠ ছাড়তে হয়েছিল মাংসপেশিতে টান লাগার কারণে। মতিনের অনুপস্থিতি বাংলাদেশকে আরো দুর্বল করে দেয়। এত সমস্যার পরও বাংলাদেশ দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেছে। কিন্তু ফুটবলটা তো গোলের খেলা। গোলই যদি না করতে পারে তাহলে ভালোর মূল্যটাও দাঁড়িপাল্লার বিচারে আসে না। বাংলাদেশ ফুটবল দলের সবকিছুই জলে ভেসে গেছে।
সাদউদ্দিন, মামুনুল ইসলাম, জামাল ভুইয়াদের সেটপিস পালাক্রমে ব্যর্থ হয়েছে। রাফি গোলকিপারকে একা পেয়েও গোল করতে পারেনি। বাংলাদেশের শট বুরুন্ডির পোস্টে আঘাত করে ফিরেছে। তার ওপর বুরুন্ডির গোলকিপার অসাধারণ পারফরম্যান্স করেছেন। বাংলাদেশের চেষ্টাগুলো বুরুন্ডির গোলকিপার দারুণভাবে থামিয়ে দিয়েছেন।
গোলকিপারের কারণেও বাংলাদেশের চেষ্টাগুলো মুখ থুবড়ে পড়েছিল বার বার। এ সবকিছু মানতে রাজি না। খেলোয়াড়রা গোলের যেসব সুযোগ পেয়েছে একটা সেমিফাইনাল ম্যাচে এরচেয়ে বেশি আর কি পেতে পারে ? কোচ দলের ফুটবলারদের ধমকের সুরেই বলেছেন বুরুন্ডির প্লেয়ারদের চেয়ে তোমরা বেশি সহজ সুযোগ পেয়েছ। একটা গোল হলেই তো ম্যাচটা ঘুরতে পারত। তোমরা আটটা সুযোগ পেয়েও গোল করতে পারবে না এটা কি করে হয় ? গোলকিপার কী ঈশ্বর নাকি?
জানা গেছে ড্রেসিং রুমে জেমি ডে খেলোয়াড়দের জানিয়েছেন তাদের জন্য যত বড়ো কোচই আনা হোক, কোচ শিখিয়ে দিতে পারবে কিন্তু মাঠে খেলে দিতে পারবে না। খেলার কাজটা খেলোয়াড়দেরই করতে হয়। কোচ আক্ষেপ করে বলেছেন, ফাইভ স্টার হোটেলে রাখা হয়েছে খেলোয়াড়দের, জিম, সুইমিং আধুনিক অনুশীলন সবই হয়েছে, তাহলে দেশের মানুষ কেন হাসতে পারবে না ?
গতকাল সকালে হোটেল ছেড়েছেন খেলোয়াড়রা। চলে গেছেন নিজ নিজ ক্লাব টেন্টে। কোচ জেমি ডে ছুটিতে যাবেন। আপাতত কোচের কাজ নেই। সামনে বিশ্বকাপ ফুটবলের বাছাই ম্যাচ আছে মার্চে।