দীঘিনালা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

টিনশেড ঘরে ১০ শয্যা অপ্রতুল চিকিত্সাসেবা!

তমাল তরুন দাশ, দীঘিনালা (খাগড়াছড়ি) সংবাদদাতা

একটি টিনশেড ঘরকে সম্বল করেই এখন পর্যন্ত ১০ শয্যাবিশিষ্ট খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কার্যক্রম চলছে। জানা গেছে, স্থানীয় বাসিন্দাদের চিকিত্সাসেবা দিতে ১৯২০ সালে নলখাগড়া ও সিমেন্ট দিয়ে টিনশেড ঘরটি নির্মাণ করা হয়। শুরুতে সরকারি ডিসপেনশারি হিসেবে চালু হলেও ১৯৮০ সালে এটিকে ১০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে উন্নীত করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ : জরাজীর্ণ এই ভবনে আধুনিক চিকিত্সা সেবা দেওয়ার সুযোগ-সুবিধা নেই। জনবল সংকট, প্রয়োজনীয় চিকিত্সা-যন্ত্রপাতিসহ নানাবিধ কারণে প্রত্যাশিত স্বাস্থ্য সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এলাকাবাসী।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, হাসপাতালে ১৫ জন ডাক্তারের পদ থাকলে বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন ১০ জন। তার মধ্যে তিন জন ডেপুটেশনে খাগড়াছড়ি আধুনিক সদর হাসপাতালে কর্মরত। অপরদিকে, হাসপাতালের প্রশাসনিক পদে আছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা। বাকি ছয় জনের পক্ষে হাসপাতালকে আগত রোগীদের পর্যাপ্ত চিকিত্সা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তাছাড়া, হাসপাতালের এক্সরে মেশিনটিও দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ে আছে। এ ব্যাপারে হাসপাতালের এক্সরে টেকনিশিয়ান সোহেল চাকমা জানান, এক্সরে মেশিনটি আনার পর বাক্সবন্দি ছিল প্রায় দুই বছর। পরে এটি চালু করার ব্যবস্থা হলেও নানাবিধ কারণে বর্তমানে বিকল।

বলপিয়ে আদাম এলাকার সাধনা চাকমা, আশ্রম বড়ুয়া পাড়ার সুধীর বড়ুয়া, থানা পাড়ার আবদুল করিম বলেন, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সাধারণ রোগের চিকিত্সা পেলেও জটিল রোগের চিকিত্সা করতে অনেক পথ পেরিয়ে খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে যেতে হয়। স্বল্পমূল্যের ওষুধ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে পাওয়া গেলেও একটু বেশি মূল্যের ওষুধগুলো বাইরে থেকে কিনতে হয়। তারা বলেন, অনেকদিন ধরেই শুনছি হাসপাতালের একটি পাকা ভবন হবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত ভবন নির্মাণ করা হয়নি। পুরোনো টিনশেডের ঘরটিতে পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় অনেক রোগীকেই ভর্তি করা হয় না।

উপজেলা চেয়ারম্যান মো. কাশেম জানান, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স দেখ-ভাল করার দায়িত্ব উপজেলা প্রশাসনের কিন্তু এখানে হাসপাতাল থেকে কখন ডাক্তার অন্যত্র ডেপুটিশনে যায় তা আমাদেরকে জানানো হয় না। বিষয়টি সিভিল সার্জনকে অবহিত করেছি। তাছাড়া ডাক্তার ডেপুটেশনে নিলে পদ শূন্য না হওয়ায় নতুন করে ডাক্তারও আসে না। তাই এলাকার লোকজন চিকিত্সা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, বিশেষ করে প্রসূতি মায়েরা সময়মতো চিকিত্সা পাচ্ছে না।

এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তনয় তালুকদার জানান, বর্তমানে এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তিন জন ডাক্তার খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে ডেপুটেশনে কর্মরত রয়েছে। ডেপুটেশনে থাকার কারণে বাইরে থেকে ডাক্তার পোস্টিং হচ্ছে না।  এদিকে মেডিসিন কনসালটেন্ট, গাইনি, আরএমও পদগুলো খালি থাকায় সেবা দিতে হিমশিম খেতে হয়, তবু আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি। তিনি আরো জানান, দীঘিনালা উপজেলার বাইরেও মাইনী, লংগদু দুটি উপজেলা থেকে লোকজন চিকিত্সাসেবা নিতে এখানে আসে। এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি মাত্র ১০ শয্যার। কিন্তু প্রায় ২০/২৫ জন রোগী বেডে ভর্তি থাকে প্রায় সময়। এটি সামাল দিতে কর্মচারীদেরকেও হিমশিম খেতে হয়। তবে এই কর্মকর্তা জানান, চার জন ডাক্তার নতুনভাবে পেয়েছি। এবার সেবার মান বাড়বে আশা করছি।