অবৈধ ভারতীয় ডিটিএইচ রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার

স্টেডিয়াম মার্কেটে অভিযান, জরিমানা

ইত্তেফাক রিপোর্ট

ক্যাবল সংযোগহীন টিভি দেখার সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ডিরেক্ট টু হোম (ডিটিএইচ) সরঞ্জাম অবৈধভাবে বিক্রি ও ব্যবহারের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। বৃহস্পতিবার দুপুরে পুরানা পল্টনে স্টেডিয়াম মার্কেটে বিপুলসংখ্যক ভারতীয় কোম্পানি টাটা স্কাইয়ের অবৈধ ডিটিএইচ পণ্য জব্দ করা হয়। বিক্রেতাদের জরিমানাও করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ভ্রাম্যমাণ আদালত।

ডিএমপি সূত্র জানায়, স্টেডিয়াম মার্কেট এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন সিনিয়র সহকারী সচিব ও ডিএমপির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন। অভিযানে বঙ্গবন্ধু ন্যাশনাল সুপার স্টেডিয়াম মার্কেটের দোকান টোকিও ইলেকট্রনিকস থেকে ১৪ সেট অবৈধ ডিটিএইচ জব্দ করা হয়েছে। তাদের ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পাশাপাশি ঐ এলাকায় আমদানি নিষিদ্ধ ও অবৈধ ডিটিএইচ বিক্রি না করতে দোকানদারদের সতর্ক করা হয়েছে।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্র জানায়, দেশে বিদেশি কোম্পানির ডিটিএইচ বিক্রি নিষিদ্ধ। কিন্তু ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় অবৈধ ডিটিএইচ বিক্রি করছেন কিছু অসাধু ব্যবসায়ী। সারাদেশে বর্তমানে প্রায় ১০ লাখ অবৈধ সংযোগ রয়েছে। আমদানি নিষিদ্ধ এ ডিটিএইচের কারণে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে। দেশের বাইরে পাচার হচ্ছে বছরে অন্তত ৮০০ কোটি টাকা। ভারত থেকে চোরাই পথে আসা টাটা স্কাই, ডিশ টিভি, সান ডিরেক্ট এবং এয়ারটেল ডিজিটালের মতো প্রায় ১২টি কোম্পানি-ব্রান্ডের ডিটিএচ সংযোগ অবৈধভাবে বিক্রি হচ্ছে।

বাংলাদেশ-ভারতের স্থলবন্দরগুলো দিয়ে এগুলো অবৈধভাবে বাংলাদেশে পাচার করা হয়। দুই দেশের অসাধু ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটের এজেন্টরা মিলে এ অবৈধ ব্যবসা পরিচালনা করছে। ভারতীয় এজেন্টরা বেশির ভাগ ক্ষেত্রে কুমিল্লা ও যশোর সীমান্ত দিয়ে এগুলো বাংলাদেশে পাঠায়। বাংলাদেশি এজেন্টরা জেলায় জেলায় সেগুলো ছড়িয়ে দেন। বছরে একবার কিংবা দুইবার তারা খুচরা গ্রাহকদের কাছ থেকে আগাম বিল সংগ্রহ করেন।

তথ্য মন্ত্রণালয় জানায়, ডিটিএইচ সংযোগে স্যাটেলাইট টিভির ছবি ও শব্দ বেশ উন্নতমানের হয়। গ্রাহকদের এ চাহিদার সুযোগে ভারতীয় ডিটিএইচগুলো বাংলাদেশে পাচার হয়ে আসে। কিন্তু সরকার বাংলাদেশি দুইটি কোম্পানিকে ডিটিএইচ সেবা দেওয়ার লাইসেন্স দিয়েছে। গতবছর থেকে বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট থেকে ডিটিএইচ সেবা প্রদান শুরু করেছে দেশীয় ব্রান্ড আকাশ ডিটিএইচ। এ প্রেক্ষাপটে অবৈধ ডিটিএইচ বিক্রি ও বন্ধ ব্যবহারে উদ্যোগী হয়েছে সরকার। এর মাধ্যমে দেশ থেকে টাকা পাচারও রোধ করা যাবে। দেশীয় টেলিভিশনগুলোও সুস্থ প্রতিযোগিতার পাশাপাশি সম্প্রচার মান উন্নত করার সুযোগ পাবে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের এক সদস্য বলেন, রাজধানীর অনেক বাড়িতে অবৈধ ডিটিএইচ সংযোগ রয়েছে। বাড়িগুলোর ছাদে অবৈধ সংযোগ ব্যবহার করার ছোটো আকারের ডিশ দেখা যায়। পর্যায়ক্রমে সেগুলোও জব্দ করা হবে।