চট্টগ্রাম নগরীর পাঁচলাইশ থানার মির্জাপুল এলাকায় একটি বস্তিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে কেউ হতাহত না হলেও অন্তত দেড়শটির বেশি টিনশেড ঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। গতকাল শুক্রবার সকালে মির্জাপুল সংলগ্ন ডেকোরেশন গলির ঐ বস্তিতে আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়।
আগ্রাবাদ ফায়ার স্টেশনের উপসহকারী পরিচালক ফরিদ উদ্দিন ইত্তেফাককে জানান, সকালে সাড়ে ১০টার দিকে অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে কালুরঘাট, চন্দনপুরা, নন্দনকানন এবং আগ্রাবাদ ফায়ার স্টেশনের ১২টি গাড়ি ঘটনাস্থলে যায়। প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। ঐ বস্তিতে ঢোকার পথ সরু থাকায় ফায়ার সার্ভিসের গাড়িগুলো ঘটনাস্থলে যেতে পারেনি। ৮ থেকে ১২টি হোসপাইপ দিয়ে আগুনের ওপর পানি ঢালা হয়েছে। বিকাল ৩টার দিকে আগুন পুরোপুরি নির্বাপণ করা হয়। পাঁচলাইশ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আবু তালেব জানান, ডেকোরেশন গলির শেষ মাথায় শাহনেওয়াজ কলোনির ভাড়াটিয়া লাকি আক্তারের টিনশেড ঘরে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত। পরে তা বাবু কলোনি, খোকন কলোনি, শওকত নেওয়াজ কলোনি এবং মো. হোসেন কলোনিতে ছড়িয়ে পড়ে। এতে এসব কলোনির ১৬৩টি টিনশেড বেড়ার ঘর পুড়ে গেছে।
তিনি বলেন, অগ্নিকাণ্ডে কেউ হতাহত না হলেও তাড়াহুড়া করে ঘর থেকে বের হতে গিয়ে অনেকের হাতে-পায়ে চোট লেগেছে। তাদের রেডক্রিসেন্টের মাধ্যমে প্রাথমিক চিকিত্সা দেওয়া হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডে প্রায় আড়াইশ পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. কামাল হোসেন জানান, ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে দুপুরে খাবার বিতরণ করা হয়েছে। তাদের যত ধরনের সহায়তা লাগবে জেলা প্রশাসন পাশে থাকবে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি জানান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনে আন্তঃনগর পারাবত এক্সপ্রেস ট্রেনের পাওয়ার কারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে দমকল বাহিনী আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে এতে পাওয়ার কার ক্ষতিগ্রস্ত হলেও যাত্রী ও ট্রেনের স্টাফদের কেউ হতাহত হয়নি। ঢাকা থেকে সিলেটমুখী এই ট্রেনটি গতকাল শুক্রবার সকাল ৮টা ৩৮ মিনিটে ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেল স্টেশনে পৌঁছার পরই আগুন চোখে পড়ে। অগ্নিকাণ্ডের কারণ তাত্ক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। পরে পাওয়ার কারটি রেখে ট্রেনটি সাড়ে ১০টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে সিলেটের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে।