সব খাল দখলমুক্ত করা হবে : তাপস খেলার মাঠ পুনরুদ্ধার করব : আতিকুল

পুরান ঢাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে দখল হওয়া খালগুলো পুনরুদ্ধার করা হবে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র প্রার্থী ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস। অন্যদিকে নির্বাচিত হলে নগরীর বেদখল হওয়া খেলার মাঠগুলো পুনরুদ্ধার করার আশ্বাস দিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে (ডিএনসিসি) আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী মো. আতিকুল ইসলাম। গতকাল শুক্রবার নির্বাচনী প্রচারণা ও গণসংযোগে অংশ নিয়ে তারা এসব প্রতিশ্রুতি দেন।

গতকাল দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে গেন্ডারিয়া থানার নারিন্দা এলাকার গড়িয়ার মঠসংলগ্ন মোড়ে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেন ব্যারিস্টার তাপস। তিনি বলেন, পুরান ঢাকায় অনেক খাল রয়েছে যেগুলো দখল হয়ে গেছে। এই খালগুলো পানি উন্নয়ন বোর্ড দখলমুক্ত করতে পারেনি। আমি মেয়র নির্বাচিত হলে আমরা ‘সুন্দর ঢাকার’ আওতায় নিজস্ব উদ্যোগে এই খালগুলো উদ্ধার করে নান্দনিক বিনোদনকেন্দ্র স্থাপন করব। ঢাকার ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা সংরক্ষণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমাদের পুরান ঢাকার ঐতিহ্যকে নিজস্ব স্বকীয়তা বজায় রেখে অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে সংরক্ষণ করব। আমরা সিটি করপোরেশন থেকে ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাগুলো রক্ষণাবেক্ষণে নিয়োজিত থাকব। ঐতিহ্যের ঢাকাকে পুনরুজ্জীবিত করব, যেন বিশ্ববাসী পর্যটক হিসেবে এসে এইসব ঐতিহাসিক স্থান উপভোগ করতে পারেন।

ব্যারিস্টার তাপস বলেন, আমরা ঢাকাবাসীর উন্নয়নের ৩০ বছর মেয়াদি যে মহাপরিকল্পনা দিয়েছি তা ঢাকাবাসী ব্যাপকভাবে গ্রহণ করেছেন। আমি আশা করছি রাজধানীর উন্নয়নে ঢাকাবাসী আগামী ১ ফেব্রুয়ারি আমাকে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে সেবক হিসেবে কাজ করার রায় দেবেন।  এ সময় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহমেদ মান্নাফিসহ দলের কেন্দ্রীয়, মহানগর এবং স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

ভোটের প্রচারে চা-ওয়ালার ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে কয়েক দিন আগে আলোচনায় আসা ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আতিকুল ইসলামকে এবার দেখা গেল ক্রিকেটারের ভূমিকায়। গতকাল গুলশান ইয়ুথ ক্লাব মাঠে আয়োজিত দ্বিতীয় বিভাগের একটি ক্রিকেট টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যান উত্তরের সাবেক মেয়র আতিকুল। সেখানে তিনি খেলোয়াড়দের সঙ্গে পরিচিত হন। দুটি দল মাঠে নেমে খেলা শুরু করার কিছুক্ষণ পর গ্লাভস, প্যাড, হেলমেট পরে মাঠে নেমে যান আতিকুল ইসলাম। ব্যাট হাতে চলে যান স্ট্রাইকিং প্রান্তে। একজন স্পিনার আতিককে বল করতে এলে কয়েকটি বল খেলে তিনটি বাউন্ডারিতে পাঠান নৌকার প্রার্থী। পরে ঐ বোলারের বলেই বোল্ড হয়ে ফিরে আসেন মাঠের বাইরে। সেখানে প্রচারণা শেষে আতিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, যুব সমাজকে মাদকমুক্ত-সন্ত্রাসমুক্ত করতে গেলে খেলাধুলার বিকল্প নেই। এজন্য নির্বাচিত হলে ঢাকা উত্তরে খেলার মাঠ তৈরির দিকে তিনি মনোযোগ দেবেন।

তিনি বলেন, আমাদের যুব সমাজ নানা কারণে ডিপ্রেশনে চলে যাচ্ছে। আমাদের সমাজে এমন কোনো ঘর নেই যেখানে কেউ না কেউ এ সমস্যায় আক্রান্ত নয়। আমরা হয়তো লোকলজ্জার ভয়ে সমাজের সামনে বিষয়টি আনি না। খেলাধুলা থাকলে যুব সমাজ এ ধরনের সমস্যা থেকে মুক্তি পাবে বলে আমি মনে করি। আতিক বলেন, ‘আপনাদের ভোটে, জনগণের ভোটে ইনশাল্লাহ আগামী ফেব্রুয়ারিতে নৌকা মার্কায় জয়যুক্ত হলে আমি কথা দিতে পারি মাঠগুলোকে অবশ্যই ফিরিয়ে আনব। খুশি হবেন যে আমরা ২৪টি পার্ক এবং মাঠের কাজে হাত দিয়েছি, এসব মাঠের মধ্যে কয়েকটি হবে মাল্টিপারপাস। সেখানে ক্রিকেট ফুটবলসহ বিভিন্ন খেলাধুলা করা যাবে।’  নির্বাচিত হলে কর্মজীবী মানুষের জন্য রাতে খেলার ব্যবস্থাও করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন গার্মেন্ট ব্যবসা থেকে রাজনীতিতে আসা আতিকুল।

তিনি বলেন, ‘আমাদের অনেকে দিনের বেলা অফিসে চলে যায়। আমরা মাঠগুলোয় বাতির ব্যবস্থা করে দেব, যেন কাজ শেষে বাচ্চাদের নিয়ে মাঠে যেতে পারেন। নির্বাচিত হলে নারীদের জন্য ক্রিকেট, ফুটবল, ভলিবল টুর্নামেন্ট চালু করা হবে। আমাদের ঐতিহ্যবাহী অনেক খেলা হারিয়ে গেছে। সেগুলো ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিতে হবে।’ স্কুল-কলেজে নিয়মিত খেলাধুলা করতেন জানিয়ে আতিক বলেন, এখনও উত্তরায় নিয়মিত ফুটবল খেলেন বলেই শারীরিকভাবে তিনি অনেকটা ‘ফিট’। বক্তব্য শেষে আতিকুল ইসলাম আশপাশের মানুষের কাছে প্রচারপত্র বিলি করেন এবং নৌকা মার্কায় ভোট চান। আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাকর্মী এবং গুলশান ইয়ুথ ক্লাবের কর্মকর্তারা এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন।