সংকলন সাইফুল ইসলাম জুয়েল
v জগতে সে-ই সব থেকে বেশি ব্যস্ত, যার কাছে আপনি টাকা পান!
v মুহাম্মাদ সোহাগ
v আমার জীবনের সব আনন্দের অর্ধেকটা নষ্ট করে দিয়েছে ডিপার্টমেন্টের বড়ো ভাই নাহিদ হোসাইন। র্যাগ দেওয়ার জন্য প্রথম দিন হাতে দশ টাকার একটা নোট ধরিয়ে দিয়ে বলল, ‘তোমার নাম যেন কী? সৌরভ না? হ্যাঁ, সৌরভই তো। যাও, ঐ দোকান থেকে একটা সিগারেট কিনে আনো। গোল্ড লিফ আনবা। দশ টাকা দাম। আমার কাছে লাইটার নেই, ধরিয়ে নিয়ে আসো।’
ভাই যেখানে বসে ছিল, সেখান থেকে দোকানের দূরত্ব পায়ে হেঁটে ৪ মিনিট ৩২ সেকেন্ড। সিগারেট ধরিয়ে নিয়ে গেলে নিভে যাবে, এই ভয়ে ছোট ছোট টান দিচ্ছিলাম। ভাইয়ের কাছে এসে তার হাতে সিগারেট দিতে গিয়ে দেখি সিগারেটের তিন ভাগের দুই ভাগই শেষ। ভাই আমার দিকে কটমট দৃষ্টিতে তাকাল।
সেদিন থেকেই সকল প্যারা শুরু।
একদিন রাতে আননৌন নম্বর থেকে কল এলো। রিসিভ করতেই ভাইয়ের কণ্ঠ শুনলাম। শীতল গলায় বলল, ‘কই তুই এখন?’
আমার মেজাজ খারাপ হলো। রাত ১টার সময় মানুষ কোথায় থাকে? তার ওপর তুমি থেকে তুই করে বলেছে। রাগ চেপে রেখে ভাইকে জানালাম, ‘আমি এখন রুমে আছি। ঘুমাচ্ছিলাম। কিছু বলবেন ভাই? কোনো জরুরি কথা?’
ভাই যেটা জানাল, সেটার জন্য আমি মোটেও প্রস্তুত ছিলাম না। ভাইয়ের গার্লফ্রেন্ডের আজ বার্থডে। তার কাছে টাকা নেই, এজন্য আমাকেই বার্থডে কেক আর গিফট নিয়ে যেতে হবে। না গেলে উপায় নেই।
মাসের শেষের দিক। আমার হাতেও তেমন টাকা নেই। বিকাশে পাঁচশ টাকা ছিল। এখন সেটাই খরচ করতে হবে। কেক কিনতেই চলে যাবে পাঁচ’শো টাকা। তাহলে গিফ্ট কীভাবে কিনবো? তখন একটা বুদ্ধি বের করলাম। গত মাসেই কয়েকটা কবিতা আর উপন্যাসের বই কিনেছিলাম। সেগুলোই র্যাপিং করে গিফটের জন্য দেব। রাত বাড়ছে। প্রায় দেড়টা। খুব কষ্টে একটা কেক ম্যানেজ করে ভাইকে দিয়ে এলাম।
একদিন ক্লাস শেষে ক্রাশের সঙ্গে কথা বলছিলাম। ক্রাশ মেয়েটা এতদিন পাত্তা দিত না আমাকে। এখন একটু পাত্তা দেয়। আমিও প্রচুর খুশি। এবার বুঝি...। ভাবনাটা এখানে এসেই আটকে গেল। দূর থেকে দেখলাম নাহিদ ভাই হাত নেড়ে নেড়ে কী যেন বলছেন। আমার একটু ভয় লাগল। ক্রাশের সামনে এসে যদি কিছু বলে, তাহলে আমার মানসম্মান কোথায় যাবে? আর ভাবতে পারছি না। দরদর করে ঘামছি। ক্রাশ মুখের দিকে তাকিয়ে বলল, ‘এনিথিং রঙ সৌরভ?’ আমি কিছু বললাম না। নাহিদ ভাই চলে এসেছে। আমি এখন কী করব? দৌড়ে পালাব? ক্রাশ কী ভাববে? শিট! আমি মাইনকা চিপায় আটকে গেছি। এই জন্মে আর প্রেম হবে না আমার। মানসম্মানের ফালুদা বানাবে শিওর। তখন নাহিদ ভাই আমাকে রীতিমতো চমকে দিলেন। হাতে থাকা শপিং ব্যাগটা ধরিয়ে দিয়ে বললেন, ‘রাখো এটা।’ আমি হতভম্ব। এটা কি আদৌ নাহিদ ভাই? সিরিয়াসলি? তিনি আমাকে উপহার দিলেন?
রুমে এসে ব্যাগ খোলার পর মেজাজ এভারেস্টের চূড়ায় পৌঁছে গেল। কী পেয়েছেন তিনি আমাকে? আমি তার জামাকাপড় ধুয়ে দেব? আমি? সৌরভ হাসান? রাগে চোখমুখ লাল হয়ে গেছে। কেউ দেখলে শিওর বলবে আমি একটু আগেই গাঁজা খেয়েছি। যাই হোক, আমি মাথা ঠান্ডা করলাম। তাকে আর এভাবে চলতে দেওয়া যাবে না। উচিত শিক্ষা দিতে হবে।
নাহিদ ভাইয়ের ফেসবুক প্রোফাইলে গেলাম। তার প্রতিটা পোস্টের রিয়্যাক্ট, কমেন্ট চেক করছিলাম। তখন একটা নামে চোখটা আটকে গেল। মেয়েটার নাম মোহিনী। ভাইয়ের গার্লফ্রেন্ডের নামও তো মোহিনী। বার্থডে কেকে নামটা লিখিয়েছিলাম। তার প্রতিটা পোস্টেও নাহিদ ভাইয়ের লাভ রিঅ্যাক্ট। ইয়েস, এটাই সেই মোহিনী। মেয়ের আইডিতে গিয়ে দেখি মেয়েটা আমার ফ্রেন্ডলিস্টেও আছে। একবার কথায় কথায় ভাই বলেছিল তার গার্লফ্রেন্ড আমার ব্যাচমেট।
রাতে মোহিনীকে নক দিতে গিয়ে আবিষ্কার করলাম, মেয়েটা আমার লেখার ফ্যান। অনেক আগে থেকেই মাঝেমধ্যে মেসেজ দিত। কখনো রিপ্লাই করা হয়নি। এমনকি সিনও করিনি। স্বাভাবিকভাবেই আমার চ্যাটিং করতে ভালো লাগে না কখনো।
মোহিনীকে স্যরি লিখে একটা মেসেজ দিলাম। মোহিনী এত দ্রুত রিপ্লাই করবে ভাবিনি। মোহিনী বলল, ‘এতদিন পরে মেসেজ দিলেন! তাও আবার স্যরি লিখে? স্যরি কেন?’
—আপনার মেসেজ দেখা হয়নি তাই।
—আচ্ছা সমস্যা নেই। কেমন আছেন?
—তেমন ভালো না। আপনি?
—আমি ভালোই আছি। আপনি ভালো নেই কেন?
—অনেক বাজে একটা ঘটনা ঘটে গেল একটু আগে, তাই।
—কী হয়েছে? আমাকে বলা যাবে?
—আসলে আমার খুব কাছের একজন বড়ো ভাই একটু আগে একটা মেয়ের রুমে ধরা খাইছে। মেয়ে বলতে মহিলা। বয়স ত্রিশ প্লাস। দুইটা সন্তান আছে।
—কী বলেন!
—হ্যাঁ। আমার খারাপ লাগছে আরেকটা বিষয় ভেবে।
—কী সেটা?
—সেই ভাইয়াটার একটা গার্লফ্রেন্ডও আছে। মেয়েটা নাকি ভাইয়াকে অসম্ভব রকম ভালোবাসে এবং বিশ্বাস করে। সেই মেয়েটার জন্য খুব খারাপ লাগছে। মেয়েটা জানেও না তার বয়ফ্রেন্ড এত লুচ্চা। এত খারাপ।
পৃথিবীর যত যত খারাপ কথা আছে, সব ভাইয়ার নামে বলতে লাগলাম। সে মদখোর, গাঁজাখোর, হ্যানত্যান আরো অনেক কিছু। এক পর্যায়ে এসে মোহিনী নাহিদ ভাইয়ের ছবি দেখতে চাইল। আমি ছবি পাঠালাম। তারপর মোহিনী জানাল, তার একটা জরুরি কাজ আছে, পরে নক দেবে আমাকে। আমি বুঝতে পারছিলাম তখন কী হবে। আমি নাহিদ ভাইয়ের ফোনের অপেক্ষায় আছি।
পরিশিষ্ট :নাহিদ ভাই বিরাট ছ্যাঁকা খেয়ে ব্যাঁকা হয়ে গেছে। মেয়েদের প্রতি সকল বিশ্বাস উঠে গেছে তার। আমাকেও আর জ্বালাতন করে না। সারাদিন রুমে মন খারাপ করে বসে থাকে। আমি মাঝেমধ্যে সিগারেট কিনে ভাইকে দিয়ে আসি।
মোহিনী একটু আগে নক দিয়ে বলল আগামীকাল একটা রেস্টুরেন্টে দেখা করবে। তার নাকি খুব মন খারাপ। তার বয়ফ্রেন্ড তাকে ঠকাইছে। এজন্য আমার সাথে সময় দিয়ে মন ভালো করবে।
v সৌরভ হাসান
v মাইকিং করতেছে!
মাত্র ১০০ টাকা দিয়ে সারাজীবন বসে বসে খান, দৌড়ে গেছি
যাইয়া দেখি চেয়ার বিক্রি করতেছে!
v হাসি ইকবাল