ব্যবহারেই বংশের পরিচয়

— ইভিএম

/ সত্যজিত্ বিশ্বাস

 

ঠাট্টা :ভাই, একটু চিপায় আসবেন?

ইভিএম :কেন চিপায় আসব কেন?

ঠাট্টা :না মানে আপনার একটা ইন্টারভিউ নিতাম।

ইভিএম :তার আগে বলেন আপনি কে? সরকারি দল নাকি বিরোধী দল?

ঠাট্টা :ইয়ে আমি ঠাট্টা।

ইভিএম :ঠাট্টা মানে? আমার সাথে ঠাট্টা করতে এসেছেন?

ঠাট্টা :আরে, না রে ভাই। আমি এসেছি ফান ট্যাবলয়েড ঠাট্টা থেকে। এবার বলেন, কেমন আছেন?

ইভিএম :কেমন আছি, তা তো ভালো করেই জানেন। তার চেয়ে জিজ্ঞাসা করেন কেন আছি?

ঠাট্টা :আহা, এভাবে বলছেন কেন?

ইভিএম :তাহলে কীভাবে বলব? ইচ্ছা করছে গলায় ক্যাবল লাগিয়ে ফাঁসিতে ঝুলে পড়ি।

ঠাট্টা :ছিঃ ছিঃ ছিঃ এসব কী কথা?

ইভিএম :অপমানের একটা সীমা তো আছে। মেশিন বলে কী কোনো মানসম্মান নেই?

ঠাট্টা :তা তো অবশ্যই। মানসম্মান সবারই আছে।

ইভিএম :আপনারা সন্দেহ করতে করতে একটা মেশিনকেও ছাড় দেন না?

ঠাট্টা :ইয়ে মানে আমরা বাঙালিরা একটু বড়ো বেশি স্পর্শকাতর তো, তাই।

ইভিএম :তাই বলে আমাকে নিয়ে সন্দেহ কেন? সন্দেহ করলে করবেন মেশিন অপারেটরকে। তা না, সব গালাগালি আমার ওপর দিয়ে।

ঠাট্টা :না মানে, অপারেটরদের কিছু বললে তারা যদি আবার আন্দোলন করে ঐক্য জোট গঠন করে ফেলে, সেজন্য আপনিই সেইফ। আর যাই হোক, আন্দোলনে তো যাবেন না।

ইভিএম :তাই বলে ‘সব দোষ যন্ত্র ঘোষ’?

ঠাট্টা :আপনি কিন্তু একটু বেশিই ইমোশনাল হয়ে গেছেন। প্রধান বিরোধী দল তো বলছে সিস্টেমই নাকি ত্রুটিপূর্ণ। এ দিয়ে নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়।

ইভিএম :তাহলে এর আগে যে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আমাকে ব্যবহার করা হলো, তখন কোনো রাজনৈতিক দল বা ভোটার কারো কোনো অভিযোগ ছিল না কেন?

ঠাট্টা :তার মানে বলতে চান, আপনি ত্রুটিমুক্ত?

ইভিএম :ব্যবহারেই বংশের পরিচয়।

ঠাট্টা :আপনার ব্যবহার তো সুবিধার বলে মনে হয় না।

ইভিএম :আপনার ব্যবহার মনে হয় খুব সুবিধার? এই যে ডেকে এনে কথা বলেই যাচ্ছেন, এক কাপ চা খাওয়াইছেন? ধুর, এখানে আর বসুমই না।

ঠাট্টা :ভাই, ও ভাই, ইন্টারভিউ তো এখনো শেষ হয় নাই। কই চললেন?

ইভিএম (যেতে যেতে) :আমায় ডেকো না, ফেরানো যাবে না...