ধর্ম নিয়ে কেউ যেন সাম্প্রদায়িকতা ছড়াতে না পারে: গণপূর্ত মন্ত্রী  

গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেছেন, ধর্ম ব্যবহার করে কেউ যেন সাম্প্রদায়িকতা ছড়াতে না পারে। সেজন্য ধর্মের মৌলিক অমৃতবাণী ছড়িয়ে দিতে হবে। মন্দিরের পাশে মসজিদ, মন্দিরের পাশে গির্জা, আযান, ঘন্টা, উলুধ্বনি আমাদের বিভাজন করতে পারেনি। তবে কিছুটা ক্ষয়িষ্ণু হয়ে গেছে। আমরা সেখানে আবার ফিরে যেতে চাই।

রবিবার (২৬ জানুয়ারি) রাজধানীতে বাংলাদেশ বাহ্ম সমাজের ১৯০তম মাঘোৎসবে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। গণপূর্ত মন্ত্রী বলেন, চিত্তকে নির্মল করার আহ্বান ধারণ করতে পারলে বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ডে ধর্মের নামে উশৃঙ্খলতা, উগ্রতা ও সাম্প্রদায়িকতা থাকে না। সকল ধর্মের মর্মবাণী এক। মত ও পথের ভিন্নতা থাকলেও গন্তব্য সকলের একই। সকল ধর্মাবলম্বীদের উচ্ছ্বাসের শব্দ একইভাবে উচ্চারিত। বেদনার কষ্টে সকলের ক্রন্দনের ভাষাও একই। নৈবেদ্য লাভের প্রচেষ্টা সবার এক। সকল ধর্মগ্রন্থের মৌলিক কথাও একই। কোন ধর্ম অপরাধের কথা বলেনা, সাম্প্রদায়িকতার কথা বলেনা।

মন্ত্রী বলেন, বাহ্ম সমাজের সাধনা, চিন্তা, মননশীলতা যারা ধারণ করে এবং লালন করে তারা উদারতার সাথে কাজ করছেন। এই উদারতা ছড়িয়ে দিতে হবে এক অঞ্চল থেকে অন্য অঞ্চলে। ১৯৭১ সালে ইসলামের নামে অন্য ধর্মের নারীদের ধর্ষণ, তাদের সম্পদ লুণ্ঠন, জোর করে ধর্মান্তরিত করা বা দেশ ত্যাগে বাধ্য করা হয়েছিলো। কিন্তু ইসলাম সেটা সমর্থন করেনা।

আরও পড়ুন: বরিশালে আগুনে পুড়ে ছাই ৭ দোকান

তিনি বলেন, আবার বিশ্বের কিছু অঞ্চলে সনাতন ধর্মের নাম নিয়ে কেউ কেউ উগ্রভাবে অপর ধর্মের মানুষের উপর হায়েনার মতো ঝাঁপিয়ে পড়ে। যারা একাজ করে তারা সঠিকভাবে সনাতন ধর্ম বা ইসলাম ধর্ম বোঝেনা। মিয়ানমারে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের একটি শ্রেণি গেরুয়া পোশাক পরেও হিংস্র দানবের মতো আচরণ করে। এরা মনুষ্যত্বের নির্যাস সঠিকভাবে জীবনে প্রবেশ করাতে পারেনি।

উৎসবে অন্যান্যের মধ্যে ব্রাহ্ম সমাজের কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

ইত্তেফাক/আরআই