শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বলেছেন, গবেষণার যাচাই করতে আমরা ‘টার্নইটইন’ সফটওয়্যারটা ব্যবহার করছি। এতে নকল ধরা পড়বে। একজন শিক্ষক গবেষণা করলে তার গবেষণা ‘টার্নইটইন’ এর মাধ্যমে পরীক্ষা করা হবে। এর মানে আমরা গুনগত মানের দিকে জোর দিচ্ছি।
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ একান্ত সাক্ষাৎকারে দৈনিক ইত্তেফাককে এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের মানসিক চিকিৎসায় একজন ‘কাউন্সিলিং সাইকোলোজিস্ট’ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। উনাকে নিয়োগ দেওয়ার উদ্দেশ্য পরীক্ষায় খারাপ করলে শিক্ষার্থীরা হতাশায় থাকেন, আর্থিক অনটনের কারণে অনেকে হতাশ থাকেন, সম্পর্ক ভেঙে যাওয়া কিংবা রাজনৈতিকভাবে কাঙ্খিত পদ না পাওয়ায় অনেক সমস্যা দেখা যায়। এরা ছাড়াও মাদকাসক্ত ছেলেমেয়েদের বিপথ থেকে ফিরিয়ে আনার জন্য এ পদটা আলাদাভাবে সৃষ্টি করা হয়েছে।
নতুন বছরে বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে তার পরিকল্পনা সম্পর্কে বলেন, আমরা ফুডকোর্টকে আধুনিকায়ন করবো। ফুডকোর্টগুলো বর্তমানের মত খোলামেলাই থাকবে কিন্তু উপরের ছাউনি সুন্দর হবে। খাবারের মান ভালো করবো। বিশুদ্ধ পানি নিশ্চিত করবো। বসার জায়গা সুন্দর হবে। এবং পরিবেশ পরিচ্ছন্ন করবো।
তিনি বলেন, আমরা আধুনিকমানের একটা ইনডোর স্টেডিয়াম করবো। যেখানে ভলিবল, বাস্কেটবল এবং টেনিসকোর্ট থাকবে। এবং সেখানে একটা আধুনিক জিমনেশিয়াম থাকবে। আমরা ওয়াকওয়ে করবো, সাইকেলের ট্র্যাক করবো এবং আধুনিক মানের গেইট করবো। যেটা সিলেটের ল্যান্ডমার্ক হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ সমাবর্তন সম্পর্কে উপাচার্য বলেন, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই আরেকটা কনভকেশন আয়োজন করা হবে। এর পরের বছর থেকে প্রতি বছর বছর হবে। আর আমার পরে যারা বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব নিবেন তাদের প্রতি আমার একটা আশা থাকবে তারা যেন সমাবর্তনের এ ধারাবাহিকতা বজায় রাখেন।
আরও পড়ুন: কুবি’র প্রথম সমাবর্তনে রাষ্ট্রপতি আসছেন কাল
বিশ্ববিদ্যালয়টিকে মাদকমুক্ত করার ব্যাপারে তিনি বলেন, ২০২০ সালের শেষে এ বিশ্ববিদ্যালয়টিকে মাদকমুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। এটা একটা বড় চ্যালেঞ্জ এবং এখানে আমাদের হেরে গেলে চলবে না। আমরা অনেকক্ষেত্রে সফলতা পেয়েছি। বিশেষ করে নবীন ভর্তিচ্ছুদের ডোপ টেস্টের কথায় যদি বলি। আমাদের এ উদ্যোগ নিয়ে সংসদীয় কমিটিতেও আলোচনা হয়েছে। এবং অন্যান্যরা কিভাবে এটা অনুসরণ করতে পারে সেটাও নিয়ে তারা সুপারিশ করেছে। আর এটার ধারাবাহিতা যাতে সারাবছরই অব্যাহত থাকে সেজন্য আমরা উদ্যোগ নিয়েছি। এছাড়া, আমরা এটার উপর ওয়ার্কশপ, সেমিনার করবো যাতে মাদকসেবীরা এ ধরনের পথ থেকে ফিরে আসে।
ইত্তেফাক/আরআই