মেক্সিকো সীমান্তে ফের শরণার্থীর ঢল

 

তৌহিদ আজিজ

 

মধ্য আমেরিকা থেকে মেক্সিকো সীমান্ত দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকতে প্রতিদিনই বাড়ছে শরণার্থীদের সংখ্যা। মধ্য আমেরিকার দেশগুলোর মধ্যে বিশেষ করে গুয়াতেমালা, হন্ডুরাস এবং এল সালভাদর থেকে অধিকসংখ্যক মানুষ এই পথটিকে তাদের সহজতম রুট হিসেবে বেছে নিয়েছে। দারিদ্র্যের কশাঘাত এবং অভ্যন্তরীণ সংঘাতের কারণে এসব দেশের মানুষের মধ্যে এ প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। একটু উন্নত জীবনের আশায় কখনো-বা মানবপাচারকারী চক্রকে মোটা অর্থ দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়েও তারা এ পথে পাড়ি জমাচ্ছেন। কেউ কেউ বলছেন, অভাবের তাড়নায় জীবন যখন আর চলে না তখন তারা বাধ্য হয়েই এ বিপত্সংকুল পথে নেমেছেন।

সাম্প্রতিক সময়ে মেক্সিকো সীমান্তে এই শরণার্থীদের সংখ্যা অনেক বেড়েছে। অভিবাসনপ্রত্যাশীদের সঙ্গে সীমান্ত পুলিশের সংঘর্ষও কম হয়নি। সেখানেও বহু মানুষ আহত হয়েছে। এখন পর্যন্ত মেক্সিকো সীমান্ত থেকে আট শতাধিক মানুষকে আটক করা হয়েছে। তাদের এখন বন্দিজীবন কাটাতে হচ্ছে। কেউ কেউ বলছেন, ঘন বন-জঙ্গল, সাগর-নদী বহু কিছু পাড়ি দিয়ে তাদের এ পথে আসতে হয়েছে। কারো ভাগ্য সুপ্রসন্ন হলে হয়তো তারা ভেতরে ঢুকতে পারছেন। আর তা যদি না হয় তাদের ঠিকানা হচ্ছে বন্দিশিবিরে। তবে যাদের ভাগ্য সুপ্রসন্ন তাদের এখানে আনার পেছনে রয়েছে একটি শক্তিশালী পাচারকারী চক্র। মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে অবৈধ পন্থায় কিছু অসত্ সীমান্ত রক্ষীকে হাত করে রাতের অন্ধকারে কিংবা অন্য কোনো সুবিধাজনক সময়ে তাদের সীমান্ত পার করে দেওয়া হচ্ছে। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায়, এসব অসহায় মানুষ সাগর পথে কিংবা গহিন অরণ্যের মধ্য দিয়ে তাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে যাওয়ার চেষ্টা করে। আবার আরেকটি গ্রুপ রয়েছে, তারা সরাসরি সীমান্ত দিয়ে ঢুকতে গিয়ে বর্ডার পুলিশের হাতে ধরা পড়ে। এখানে যদি তারা তাদের এ পথে আসার যৌক্তিক কারণে তুলে ধরতে পারেন তাহলে হয়তো তাদের শরণার্থী শিবিরে পাঠানো হয়। আর যদি তা নয়, তাহলে তাদের কঠোর আটকাদেশের মধ্যে পড়তে হয়। তবে সবচেয়ে ট্র্যাজিক বিষয় হচ্ছে অনেকের সঙ্গে থাকা শিশুদের তাদের বাবা-মায়ের কাছ থেকে আলাদা করা হয়। আর এই বিষয়টি নিয়ে একসময় ব্যাপক সমালোচনার ঝড় ওঠে। এক পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্র সরকার এ নিয়ে কিছুটা পিছু হটতে বাধ্য হয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ক্ষমতায় আসার পর থেকেই মেক্সিকো সীমান্তে এই শরণার্থীদের ঢল নিয়ে তিনি সব সময়ই এর বিরুদ্ধে কথা বলেন। সীমান্তে দেওয়াল নির্মাণের কথাও বলেন তিনি। সর্বোপরি মেক্সিকো সরকার অনেকটা যুক্তরাষ্ট্রের চাপে পড়ে সীমান্তে কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়। আর এ কারণেই মেক্সিকো সীমান্তে আটকের সংখ্যা বাড়ছে।

তবে মেক্সিকো সরকার যে খুব সহজেই ট্রাম্পের এই প্রস্তাবে রাজি হয়েছে তা নয়। শরণার্থীদের এ স্রোত যদি বন্ধ না করা হয় তাহলে মেক্সিকোর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি দেওয়া হয়। আর এরপর থেকেই সীমান্তে কঠোর পদক্ষেপে যায় মেক্সিকো। দেশটির ন্যাশনাল মাইগ্রেশন ইনস্টিটিউট (আইএনএম) জানিয়েছে, সম্প্রতি যে শত শত লোককে আটক করা হয়েছে তাদেরকে বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অবলম্বনের পর হয় তাদের আবেদনপত্র গ্রহণ কিংবা তাদের দেশে ফেরত পাঠানো হবে। তবে এতকিছু পদক্ষেপের পরও সীমান্তপথে অবৈধ অভিবাসীদের প্রবেশ থামছে না। দিনে দিনে তা আরো বেড়ে চলেছে।