কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে টানা এক সপ্তাহ থেকে চলছে শৈত্যপ্রবাহ। ২০ জানুয়ারির পর থেকে ক্রমেই তাপমাত্রা কমতে থাকে এ উপজেলায়। ২২ জানুয়ারি থেকে শুরু হয় শৈত্যপ্রবাহ। কখনো মাঝারি আবার কখনো মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে চলছে সপ্তাহ জুড়েই। তাপ মাত্রা ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস অতিক্রম করেনি এ সময়। মাঝে দু-তিনদিন কুয়াশা কম থাকায় ১০টার পর সূর্যের দেখা মিললেও আজ হঠাৎ করেই আবার ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়েছে চার দিক। মঙ্গলবার সকাল নয়টায় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ দশমিক ডিগ্রি সেলসিয়াস।
কুড়িগ্রামের রাজারহাট কৃষি ও আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র রায় জানান, কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে উপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরণের শৈত্যপ্রবাহ প্রবাহিত হচ্ছে। এ উপজেলায় আজ এবং আগামী দুইদিন হালকা বৃষ্টি বা গুড়ি গুড়ি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলেও জানান তিনি। এর আগে, ২৫ জানুয়ারি শুক্রবার দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিলো কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে। সেদিন তাপমাত্রা রেকর্ড করা ৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
এই শীতে পঞ্চম দফার শৈত্যপ্রবাহ চলমান রয়েছে। আবহাওয়া দপ্তরের মতে, আগামী ফেব্রুয়ারিতে আরেকটি শৈত্য প্রবাহ হানা দিবে এ উপজেলায়। ইতোমধ্যে দফায় দফায় শৈত্যপ্রবাহে দুর্বিষহ জীবন পার করছে এই অঞ্চলের মানুষ। বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে গ্রামের, বিশেষ করে নদীপাড়, চরাঞ্চল এবং নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষদের জীবন। এছাড়াও ভোগান্তিতে পড়েছে শিশু ও বৃদ্ধরাও। শিশু ও বৃদ্ধারা আক্রান্ত হচ্ছে নিউমেনিয়া, ডাইরিয়া, সর্দি-কাশিসহ শীতজনিত রোগে।
এদিকে শীতের কারণে পিছিয়ে যাচ্ছে চলতি মৌসুমের ইরি-বোরো আবাদ। কৃষকরা ইরি-বোরো ক্ষেত হাল চাষ করে প্রস্তুত করলেও প্রচণ্ড শীতের কারণে চারা লাগাতে পারছেন না। শীতে চারা লাগালে তা শিকড় ছাড়তে পারেনা ফলে চার মরে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকায় শীত কমলে চারা চাষ শুরু করতে হবে বলে জানিয়েছেন কৃষকরা।
ইত্তেফাক/জেডএইচডি