নায়িকা নয়, নিজেকে অভিনেত্রী হিসেবে পরিচয় দিতেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন লাক্সতারকা মৌসুমী হামিদ। নান্দনিক অভিনয় দিয়ে মুগ্ধতা ছড়াচ্ছেন এক দশক ধরে। নেই কোনো অহংকার, কোনো উচ্চাভিলাষ; কাজ করে যাচ্ছেন আপন মনে। ছোট্ট আলাপচারিতায় নিজের কাজ ও ব্যস্ততা নিয়ে বলেছেন ছোট পর্দার জনপ্রিয় এ তারকা। তার সাক্ষাত্কারটি নিয়েছেন ইমরুল নূর
অভিনয়জীবনের এক দশক পূর্ণ হলো এই সপ্তাহে। দীর্ঘ এই ক্যারিয়ারে প্রাপ্তি ও অপ্রাপ্তি কী ছিল?
আমি মনে করি, যা পেয়েছি, তার পুরোটাই প্রাপ্তি। দশ বছর আগে যখন খুলনাতে ছিলাম, তখন তো কেউ আমাকে চিনত না। এখানে এসে একটা নাম পেয়েছি। এখন যে মানুষজন আমাকে আমার নামে চেনে, সেটা তো এই ইন্ডাস্ট্রির কল্যাণেই। আমি খুব অল্পতে খুশি হওয়া মানুষ। বেশি কিছু আশা করি না। পথচলার শুরু থেকে দর্শকসহ সহকর্মীদের অনেক ভালোবাসা ও সমর্থন পেয়েছি। এভাবেই সামনে এগিয়ে যেতে চাই। আমি স্বপ্নের পেছনে দৌড়াই না। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে স্বপ্নও পাল্টে যায়, তাই স্বপ্নের পেছনে ছোটা উচিত না। স্বপ্ন ভেঙে গেলে খারাপ লাগে। তাই স্বপ্নের পেছনে না ছুটে পরিশ্রম করছি, শারীরিকভাবে ফিট রাখছি। আগে পারফরম্যান্স দেখে কাজে নেওয়া হতো, দেখতে যেমনই হোক; আর এখন নেওয়া হয় গ্ল্যামার দেখে। গ্ল্যামার ওয়ার্ল্ডে কাজ করতে গিয়ে যদি সেটা ধরে রাখা না যায়, তাহলে তো হবে না।
আপনার অভিনীত সপ্তম সিনেমা ‘গোর’, যেটি দুটি ভাষায় নির্মিত হয়েছে। ছবিটি সম্পর্কে জানতে চাই।
‘গোর’ বাংলা ও ইংরেজি—দু ভাষাতেই নির্মিত হয়েছে। এরইমধ্যে সেন্সর সার্টিফিকেটও পেয়ে গেছে। খুবই সুন্দর ও ইন্টারেস্টিং গল্পের একটা সিনেমা। এতে আমাকে দেখা যাবে বিধবা মেয়ের চরিত্রে, যে কিনা বাবা ও ভাইয়ের বোঝা। বিধবা মেয়েরা আসলে ভালোবাসা পায় না, সে না-পাওয়ার গল্প নিয়েই এই সিনেমা। ২০১৮ সালের অক্টোবরে সিনেমাটির শুটিং শুরু হয়। নানা রকম মহড়ায় অংশ নেওয়ার পর কাজটি করেছি। কাজটি দারুণ উপভোগও করেছি। আর সিনেমাটি নিয়ে আমি খুব আশাবাদী।
নাটকে এখন ঘুরে ফিরে একই মুখ দেখা যায়। শোনা যায়, অপূর্ব-মেহজাবিন, নিশো-তিশা জুটির বাইরে অন্যদের কাজ কমে গেছে। এ বিষয়ে আপনার মন্তব্য কী?
আমি সেটা মনে করি না। আমার কথা-ই যদি বলি, আমি তো আমার মতো করে কাজ করছি। আর তারা এখন একটু বেশি কাজ করছে, এজন্য হয়তো এমনটা মনে হচ্ছে। আর এটাও কিন্তু সত্যি যে, এখন ইন্ডাস্ট্রির পরিবর্তন হচ্ছে, সময়েরও। জুটি প্রথা আগেও ছিল, এখনো আছে। তাদের কাজ দর্শক দেখছে বলেই তো এত চাহিদা। তারাও অনেকটা সময় পার করে এই জায়গায় এসেছে। সুতরাং জায়গাটা তারা ধারণ করতেই পারে।
বেশ অনেকদিন ধরে আপনার ফিটনেসের পরিবর্তন দেখা গিয়েছে। এর কারণ কী?
হাঃ হাঃ হাঃ! গত আড়াই মাস ধরে জিম করছি। একটু মুটিয়ে গিয়েছিলাম, তাই ফিটনেস ঠিক রাখতে জিম শুরু করেছিলাম। নিজেকে ফিট, সুন্দর ও সুস্থ রাখতেই ওজন কমিয়েছি। অনেকটা শুকিয়েছি এরমধ্যে। সাড়ে সাত কেজি ওজন কমেছে আমার। এখন নিজেকে আরো সুন্দর লাগে আমার কাছে। স্ক্রিনে দেখতেও ভালো লাগে। মনে হয় যেন নিজের প্রেমে পড়ে গেছি।
প্রায় নাটকে ঘুরে-ফিরে একই রকম গল্প ও চরিত্র দেখা যায়। এগুলোয় কাজ করতে একঘেয়ে লাগে না?
একই রকম গল্প ও চরিত্রে আমি কাজ করছি না। আগে কাজের প্রতি খুব একটা সচেতন ছিলাম না, কিন্তু এখন অনেকটাই সচেতন। যতটুকু করছি, বেছে করছি। এককের পাশাপাশি চারটি ধারাবাহিক প্রচারিত হচ্ছে, প্রতিটির চরিত্রেই ভিন্নতা রয়েছে। কোনোটাতে চঞ্চল, কোনোটাতে শান্তশিষ্ট আবার কোনোটাতে শহুরে আধুনিক মেয়ে। কোনোটার সঙ্গে কোনোটার মিল নেই।
এ বছরই নাকি বিয়ে করবেন, শোনা যাচ্ছে।
বিয়ে নিয়ে আমার চেয়ে সবার বেশি চিন্তা। সবাই আমার বিয়ে নিয়ে চিন্তিত। তবে এটা দেখে ভালো লাগছে যে আমাকে নিয়ে এত এত মানুষ চিন্তা করে। সবার জন্য আমার অফুরান ভালোবাসা। আর যদি পছন্দমতো ছেলে পাই, তাহলে এ বছরই বিয়ে করব।