সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় অতি দরিদ্রদের কর্মসংস্থান কর্মসূচির (৪০ দিনের) কাজ শেষ হলেও আজও শ্রমিকরা মজুরি পায়নি। প্রতি সপ্তাহে পারিশ্রমিক দেওয়ার বিধান থাকলেও বরাদ্দের কোনো টাকা দেওয়া হয়নি।
জানা গেছে, উপজেলায় অতি দরিদ্রদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য সরকারিভাবে ৪০ দিন কাজের কর্মসূচির প্রকল্প চালু করা হয়। উপজেলায় ২০১৯ সালের ৩০ নভেম্বর ১৫টি ইউনিয়নে কাজ শুরু হয়। চলে ২২ জানুয়ারি ২০২০ পর্যন্ত। এ প্রকল্পে পাঁচ হাজার ৬৩১ জন উপকার ভোগীর জন্য বরাদ্দ মেলে ৪ কোটি ৫০ লাখ ৪৮ হাজার টাকা। প্রতি ইউনিয়নে ৯টি করে ১৫ ইউনিয়নে মোট ১৩৫টি প্রকল্পের কাজ শেষ হয়।
এ ব্যাপারে বামনডাঙ্গা ইউপি চেয়ারম্যান নজমুল হুদা জানান, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা বিল দাখিল করলেও সেই চেকে সাক্ষর না হওয়ায় শ্রমিকরা মজুরি পায়নি।
ধোপাডাঙ্গা ইউপি চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মোখলেছুর রহমান রাজু জানান, শ্রমিকদের মজুরি নিয়ে যন্ত্রণায় পড়েছি। তারা বাড়ি ঘেরাও করতে চাচ্ছে। আইনগত জটিলতা থাকায় ইউএনও চেকে স্বাক্ষর করেননি বলে জেনেছি।
দহবন্দ ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম কবির মুকুল জানান, শ্রমিকরা তাদের পারিশ্রমিকের জন্য চেয়ারম্যান-মেম্বরদের কাছে ঘুরছে। ছাপড়হাটী ইউপি চেয়ারম্যান কনক কুমার গোস্বামী জানান, বর্তমানে এ উপজেলায় দুইজন প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা থাকায় বিল স্বাক্ষরে জটিলতা দেখা দেওয়ায় শ্রমিকদের পারিশ্রমিক পেতে বিলম্ব হচ্ছে। শ্রীপুর ইউপি চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম জানান, জটিলতা কাটিয়ে খুব তাড়াতাড়ি শ্রমিকদের মজুরি দেওয়া দরকার।
নতুন যোগ দেওয়া পিআইও মোশাররফ হোসেন জানান, আমার যোগদানের পর প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নুরুন্নবী সরকার উচ্চ আদালতের আদেশ নিয়ে পুনরায় বহাল হয়েছেন। আইনি ব্যাপার তাই মন্তব্য করতে চাই না।
আরও পড়ুন: ওটি বন্ধ চলেনা এক্স-রে মেশিন, আট্রাসনোগ্রাম হয় না ২ বছর
প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নুরুন্নবী সরকার জানান, শারীরিক অসুস্থ থাকায় গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ৭ ডিসেম্বর ছুটিতে ছিলাম। কাজে যোগ দিয়ে ওই কর্মসূচির বিল স্বাক্ষর করে গত ১ জানুয়ারি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে উপস্থাপন করি। কোনো কারণ ছাড়াই উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিলে স্বাক্ষর করছেন না। এ টাকা ফেরত যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সোলেমান আলী জানান, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নুরুন্নবী সরকার বদলি জনিত কারণে অন্যত্র চলে গেলে উক্ত পদে মোশাররফ হোসেন নামে আর একজন প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা যোগদান করেন। এ অবস্থা চলতে থাকায় বদলীকৃত প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নুরুন্নবী সরকার উচ্চ আদালতের আদেশ নিয়ে পুনরায় পূর্বের কর্মস্থলে আসেন। এ কারণে আইনি জটিলতা দেখা দেয়। এ স্থলে কে দায়িত্ব পালন করবেন তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরে পত্র লেখা হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত পেলেই শ্রমিকদের মজুরিসহ যাবতীয় উন্নয়ন কার্যক্রম স্বাভাবিক ভাবে চলবে।
ইত্তেফাক/এসি