প্রবেশপত্র না পাওয়ায় ৪৪ শিক্ষার্থীর এসএসসি পরীক্ষা দেওয়া অনিশ্চিত 

ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার হরিরামপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ৪৪ জন শিক্ষার্থী এখনও প্রবেশপত্র হাতে না পাওয়ায় এসএসসি পরীক্ষা দেওয়া তাদের জন্য অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। চলতি বছরের ৩ ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হবে এই এসএসসি পরীক্ষা। 

সরজমিনে বৃহস্পতিবার ঐ বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, প্রবেশপত্রের আশায় স্কুল চত্বরে ঘোরাঘুরি করছে শিক্ষার্থীরা। ঐ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. লুৎফর রহমান ও আইসিটি শিক্ষক মো. সোহেল রানার গাফিলতির কারণে পরীক্ষা দেওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে বলে জানা গেছে। এ নিয়ে পরীক্ষার্থীরা বিভিন্ন সময়ে প্রতিবাদ করলে প্রাকটিক্যাল পরীক্ষায় ফেল করানোর হুমকিসহ নানা প্রকার ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন ঐ দুই শিক্ষক। পরীক্ষার্থীরা এ দুই শিক্ষকের বিচার দাবি করেন। 

তারা অভিযোগ করে বলেন, ‘বিদ্যালয় হতে টাকা জমার নেওয়ার কোন রশিদ না দিয়ে তাদের নিকট হতে ফরম পূরণের জন্য মানবিক ১৮৫০ ও বিজ্ঞান বিভাগে ১৯৭০ টাকা করে নিয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ব্যাংকে সময়মত টাকা জমা না দেওয়ায় বোর্ড থেকে তাদের প্রবেশপত্রও আসেনি।’ 

পরীক্ষার্থীদের থেকে জানা যায়, ঐ বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে ৪ জন,বাণিজ্য বিভাগে ৪ জন ও মানবিক বিভাগে ৩৬ জনসহ মোট ৪৪ জন পরীক্ষার্থী টাকা জমা দিয়েছে। এর মধ্যে ৬ জন পরীক্ষার্থী আছে যারা জেএসসি পরীক্ষায় পাশই করেনি। কিন্তু শিক্ষক সোহেল তাদের খাতা চ্যালেঞ্জের মাধ্যমে পাশ করিয়েছেন এমন আশ্বাস দিয়ে দশম শ্রেণি পর্যন্ত নিয়ে এসেছেন। তবে ঐ পরীক্ষার্থীরা একাধিকবার অনলাইনে রোল চেক দিলে রেজাল্টসীটে ফেলই এসেছে।

আরো পড়ুন: আগামী মাসে ২৬ হাজার শিক্ষক নিয়োগ দেবে সরকার

ভুক্তভোগী ওই ছয়জন শিক্ষার্থী শিক্ষক সোহেলের সহযোগিতায় নবম শ্রেণিতে রেজিট্রেশন করেছে বলে জানান প্রধান শিক্ষক। এর মধ্যে গতকাল মানবিক বিভাগের হাসান নামের এক পরীক্ষার্থীর ইমো নম্বারে আইসিটি শিক্ষক সোহেল প্রথমে বিজ্ঞান বিভাগের একটি প্রবেশপত্র পাঠায়। পরে আবার কলা বিভাগের প্রবেশপত্র পাঠায়।’

                           

এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. লুৎফর রহমান আইসিটি শিক্ষক সোহেল রানাকে দায়ী করে বলেন,‘সোহেল রানার নিকট তিনি টাকা জমা দেওয়ার জন্য দিয়েছিলেন কিন্তু ঐ শিক্ষক টাকা জমা না দিয়ে তাকে ভুয়া একটি রশিদ ধরিয়ে দেন, যা তার কাছে সংরক্ষিত আছে।’

প্রধান শিক্ষক তার গাফিলতির কথা স্বীকার করে বলেন, ‘যখন তিনি বোর্ডে গিয়ে জানতে পারেন টাকা জমা হয়নি। তখন তিনি টাকা জমা দিয়ে পরীক্ষার্থীদের প্রবেশপত্র আনার চেষ্টা করছেন। সোহেলের ওপর নির্ভর করা তার ভুল হয়েছে। এ দিকে আশপাশের স্কুলের শিক্ষার্থীরা তাদের প্রবেশপত্র হাতে পেলেও ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা কোন প্রবেশপত্র হাতে না পাওয়ায় অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে ৩ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এসএসসি পরীক্ষা। শুধু শিক্ষার্থীই নয় ছেলে মেয়েদের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কিত রয়েছেন তাদের অবিভাবকরাও।’

এ বিষয়ে মুঠোফোনে আইসিটি শিক্ষক সোহেল রানাকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, ‘কোন সমস্যা নাই, সবকিছু ঠিক আছে। আমি বোর্ডে এসেছি। সকল শিক্ষার্থীর হাতে প্রবেশপত্র পৌঁছে দিব।’ 

ঐ বিদ্যালয়ের ২০১৭ সালে জেএসসি পরীক্ষায় ছয়জন শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হলে তাদেরকে চ্যালেঞ্জের শিক্ষার্থী হিসেবে পরীক্ষা দেওয়ানোর কথা বলা ও রেজিস্ট্রেশন করানোর বিষয়ে শিক্ষক সোহেল রানা এই প্রতিবেদকে বলেন, ‘আগামী শনিবার আপনারা স্কুলে আসেন, আমরা আপনাদের সকল প্রুফ দেখাব বলে লাইন কেটে দেন।’  

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার জেসমিন সুলতানা বলেন, ‘পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে অভিযোগ পেয়ে প্রবেশপত্র আনার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে তদন্তপূর্বক এই গাফিলতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। ’ 
 

ইত্তেফাক/এএএম