/ তন্ময় আলমগীর
তখন আমি ক্লাস নাইনে পড়ি। স্কুলে স্পোর্টস শুরু হয়েছে। ক্লাস টেনের আপুরা শাড়ি পরে এসেছে। সঙ্গে গর্জিয়াস সাজ। আমার আবার বড়ো আপুদের সঙ্গে খুব খাতির। সেই সুবাদে হেডস্যার দায়িত্ব দিলেন তাদের বহিরাগত কেউ যাতে ইভটিজিং না করতে পারে, সেটা দেখভাল করা।
আমি নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে লাগলাম। চোখ-কান খোলা রেখেছি। আপুদের আশপাশে অপরিচিত কাউকে ঘুরঘুর করতে দিচ্ছি না। কিন্তু নজরে এলো উল্টো চিত্র। আপুরা একজন-দুজন করে কৃষ্ণচূড়া গাছের দিকে যায়। সেখানে অপেক্ষমাণ সানগ্লাস পরিহিত কয়েকটি যুবক। তাদের সঙ্গে কথা বলে। ফিরে আসার সময় হাতে থাকে বাহারি রঙের উপহারসামগ্রী।
যুবকদের প্রতি আমার দরদ হলো। ওদের পকেট কাটা যাওয়া দেখে ব্যথিত হলাম। আপুদের কাছে গিয়ে বললাম, ‘বিষয়টি খুবই দৃষ্টিকটু। আরেকবার দেখিতে পাইলে হেডস্যারকে জানাইতে বাধ্য থাকিব।’ হেডস্যার রাগলে এভাবে সাধু ভাষায় কথা বলেন। থ্রেট শুনে আপুরা আমাকে তাদের দলে ভিড়িয়ে নিল। বলল, ‘এই ভ্যাপসা গরমে তুই ঘামছিস। দাঁড়া, তোর জন্য কোল ড্রিঙ্কসের ব্যবস্থা করছি।’
কথিত প্রেমিক যুবকদের কাছ থেকে অর্থকড়ি আদায় করে আমার হাতে দিল। আমি দোকানে কোল ড্রিঙ্কস আনতে গেলাম। সঙ্গে আরো দু-তিনজন বন্ধু। কোল ড্রিঙ্কস কিনে আরামসে খেলাম। হঠাত্ এক আপুর ফোন, ‘আমাদের জন্যও নিয়ে আসিস।’ কীভাবে নেব, খেয়ে তো শেষ করে ফেলেছি। এক বন্ধু বুদ্ধি দিল, ‘বোতলে ফ্রেশ পানি ভরে দশ মিনিট ডিপ ফ্রিজে রাখলেই ঠান্ডা হয়ে যাবে।’ তা-ই করলাম। তবে ফ্রেশ পানি বলতে বোতলে ভরলাম দিঘির ফ্রেশ পানি!
আপুরা মুখে দিয়ে ওয়াক থু বলে নিচে ফেলে দিল। রাগে চিরচির করে উঠল সবাই। চারদিকে চোখ ঘুরিয়ে আমাকে খুঁজতে লাগল। কোনো রকমে বোতলটা ওদের হাতে দিয়েই আমি চম্পট। এখন দূর থেকে আপুদের কিরিমিরি অবলোকন করছি মুগ্ধ দর্শকের মতো। আর মনে মনে বলছি, ‘ছেলেদের পকেট কাটার মজা এবার বোঝো!’
হেডস্যার আপুদের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তাদের হাতে কোল ড্রিঙ্কসের বোতল দেখে চট করে চেয়ে নিলেন তিনি। আপুরা না-করার সময় পেল না। সময় পেলেও স্যারকে বোতল দিতে অস্বীকৃত হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। স্যার খপ করে এক ঢোঁক মুখে ঢেলে দিলেন। গিলতে পারলেন না। মুখে রেখেই আপুদের দিকে তাকালেন। আপুরা বলল, ‘আমরা কিছু জানি না। সব মোজাহিদের কাজ স্যার।’
ব্যস্, স্যারের রুমে ডাক পড়ল। গেলাম। ভয়ে দু উরু থরথরিয়ে কাঁপছে। সে কাঁপন আরো বেড়ে গেল জামাল স্যারকে দেখে। মাইর দেওয়ার জন্য ওস্তাদ এই স্যার। আমাকে বললেন, ‘মোজাহিদ, তুমি তো ঘামছ। নাও, এই বোতলের ঠান্ডা পানি পান করো।’ আমি চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইলাম। স্যার জোরে এক ধমক দিলেন। আমি কয়েক চুমুক খেলাম। তাতে হলো না। স্যার বললেন পুরোটাই খেতে হবে। আমি নীরব। স্যার বেত হাতে নিলেন। আমি বোতল হাতে নিলাম। g